পাথরঘাটার অলিগলিতে মিলছে জাটকা|111322|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
পাথরঘাটার অলিগলিতে মিলছে জাটকা
বরগুনা প্রতিনিধি

পাথরঘাটার অলিগলিতে মিলছে জাটকা

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বরগুনার পাথরঘাটার হাটবাজার এবং পৌর শহরের অলিগলিতে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে জাটকা। মা ইলিশ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের তোড়জোড় থাকলেও জাটকা নিধন প্রতিরোধে কোনো পদক্ষেপ নেই তাদের।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১ নভেম্বর থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম। এই ৮ মাসের মধ্যে নয় ইঞ্চির ছোট জাটকা ইলিশ পরিবহন ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ আইন অমান্য করলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা বা দুই বছরের জেল অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিতের বিধানও রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাটকা নিধনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মৎস্য খ্যাত বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় ৯ ইঞ্চির কম সাইজের জাটকা ধরা, পরিবহন ও ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ হচ্ছে না। পাথরঘাটার উপকূলীয় এলাকার কিছু প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও মৎস্য আড়ত মালিক একত্রিত হয়ে এসব ব্যবসা পরিচালনার জন্য গড়ে তুলেছেন সিন্ডিকেট।

কিছু অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ী এখান থেকে দেশের বিভিন্ন মোকামে নির্বিঘ্নে সরবরাহ করে থাকে জাটকা ইলিশ।

সরেজমিন দেখা যায়, পাথরঘাটার বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসহ পাথরঘাটা বাজার ও নিউমার্কেট রোড বাজারে ১৫ থেকে ৩০ জন মাছ বিক্রেতা রয়েছেন। তারা সবাই জাটকা ইলিশ বিক্রি করছেন। আবার কিছু অসাধু জাটকা বিক্রেতা নিরাপত্তার কথা ভেবে মোবাইলে যোগাযোগ করে পাথরঘাটা শহরের বাজারগুলোতে বিক্রি না করে গ্রামের বাজারগুলোতে জাটকা ইলিশ বিক্রি করছেন।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক একাধিক জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ী জানান, পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য বাজারে প্রতিদিন গড়ে বড় ইলিশ ৪০ থেকে ৫০ মণ এবং ১৫ থেকে ২০ মণ জাটকা ইলিশ বিক্রি হয়। অনেক সময় কোস্টগার্ড ও উপজেলা মৎস্য প্রশাসন থেকে অভিযান চালিয়ে এগুলো জব্দ করা হলেও পরে ফের তারা বিক্রি শুরু করেন। তবে সম্প্রতি কোনো অভিযান পরিচালনা না হওয়ায় প্রতিদিন এখানে কম-বেশি জাটকা ইলিশ বিক্রি হয়। এর সঙ্গে কিছু অসাধু আড়তদারও জড়িত।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়তদার সমিতির সভাপতি নুরুল আমিন বলেন, আড়তদাররা কোনো সিন্ডিকেট তৈরি করেনি। জেলেরা মাছ নিয়ে এলে কিছু কিছু আড়তদার তা কেনেন। না কিনলে জেলেদেরই ক্ষতি হবে। তবে কেউ ইচ্ছে করে জাটকা ক্রয় বা বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত নন বলে জানান তিনি।

 জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহেদ আলী জানান, নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত বিশেষ কোনো অভিযান নেই। তবে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে। কিছু অসাধু জেলে জাটকা শিকার করতে পারে, সে বিষয়ে আরো জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হবে।