সিটিটিসির দাবি চলচ্চিত্র নির্মাতাকে হত্যার পরিকল্পনায় আনসারুল্লাহ|111345|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
সিটিটিসির দাবি চলচ্চিত্র নির্মাতাকে হত্যার পরিকল্পনায় আনসারুল্লাহ
নিজস্ব প্রতিবেদক

সিটিটিসির দাবি চলচ্চিত্র নির্মাতাকে হত্যার পরিকল্পনায় আনসারুল্লাহ

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যরা চলচ্চিত্র নির্মাতা খিজির হায়াত খানকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। গতকাল মঙ্গলবার সিটিটিসির উপকমিশনার মহিবুল ইসলাম খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে গত সোমবার এমদাদ ওরফে সবুজ ওরফে আবু সালমান ওরফে হুজাইফা ও আবু বকর ওরফে আবদুল্লাহ ফাহিম নামের আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করার কথা জানায় পুলিশ। রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে সিটিটিসি তাদের গ্রেপ্তার করে। গতকাল তাদের আদালতে সোপর্দ করার পর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন সিটিটিসির তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

মহিবুল জানান, দুজন গ্রেপ্তার হলেও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সামরিক শাখার আরো চার-পাঁচ জঙ্গি সদস্যকে খোঁজা হচ্ছে। খিজির হায়াত খানকে হত্যার পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, দুই মাস আগে জঙ্গিবিরোধী চলচ্চিত্রকার ও অভিনেতা খিজির হায়াত খানকে হত্যার হুমকির বিষয়টি নজরে আসার পর এই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। একপর্যায়ে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সিটিটিসির তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চলচ্চিত্রকার খিজির হায়াত খান হত্যার পরিকল্পনা করছিল আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সামরিক শাখার জঙ্গি সদস্যরা। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই সিটিটিসির প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এ ঘটনায় বনানী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে।

উপকমিশনার মহিবুল বলেন, চলচ্চিত্রকার খিজির হায়াত খান সম্প্রতি ‘মি. বাংলাদেশ’ নামে জঙ্গিবিরোধী একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। সেখানে তিনি জঙ্গি কর্মকা-ের ভয়াবহতা তুলে ধরে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করেছেন। এর পর থেকেই তাকে হত্যার মিশনে নামে জঙ্গি সংগঠনটির সামরিক শাখা।

সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, জঙ্গিদের যোগাযোগ চ্যানেল টেলিগ্রাম অ্যাপে ‘এসো কাফেলাবদ্ধ হই’ নামে একটি গ্রুপে খিজির হায়াতকে হত্যার বিষয়ে আলোচনা হয়। সেই অ্যাপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হত্যা মিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত জঙ্গি সদস্যদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। সোমবার গ্রেফতারকৃত আবু বকরের দায়িত্ব ছিল খিজির হায়াত খানের কুমিল্লার বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ এবং তার গতিবিধি অনুসরণ করা। এজন্য আবু বকর কুমিল্লায় খিজির হায়াতের গ্রামের বাড়িতে ছদ্মবেশে রেকি করেন। মিথ্যা পরিচয়ে খিজিরের বাবার সঙ্গেও কথা বলে আসেন তিনি। ওই সময় জুবায়ের নামে আরো একজনকে সঙ্গে নিয়েছিলেন।

সিটিটিসির ভাষ্য, খিজির হায়াতের ঢাকার অফিস ও বাসার ঠিকানাও সংগ্রহ করেছিল জঙ্গিরা। এসব তথ্য আবু বকর গত আগস্ট মাসে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে অবস্থানকারী এমদাদকে জানিয়ে দেন। সেখানে বসেই হত্যার ছক তৈরি করে সম্প্রতি এমদাদ দেশে ফিরে আসেন।

সিটিটিসির তদন্তকারী একজন কর্মকর্তা বলেন, খিজির হায়াত হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হলেন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের শীর্ষ নেতা মাওলানা ওসমান গণি। বর্তমানে তার নেতৃত্বেই আনসারুল্লাহ বাংলা টিম তাদের সাংগঠনিক কর্মকা- পরিচালনা করছে। গ্রেফতারকৃত এমদাদ ও আবু বকরের বাড়ি ফরিদপুরে। এদের মধ্যে এমদাদ ঢাকার কেরানীগঞ্জে মুফতি ইজাহার পরিচালিত মারকাহুদা আল ইসলামীয়া মাদ্রাসায় এবং আবু বকর যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন।