সৌদি যুবরাজের ‘অপসারণ’ চান যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটরা|111395|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২০:৩৯
সৌদি যুবরাজের ‘অপসারণ’ চান যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটরা
অনলাইন ডেস্ক

সৌদি যুবরাজের ‘অপসারণ’ চান যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটরা

সৌদি নেতৃত্বের পরিবর্তন চান যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটররা। ছবি:এপিএস

সৌদি আরবের ক্ষমতা থেকে যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের ‘অপসারণ’ চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সিনেটররা। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের মিত্রতা ধরে রাখতে চাইলে দেশটির নেতৃত্বে পরিবর্তন প্রয়োজন।

আলজাজিরা জানায়, বুধবার ইয়েমেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধে বিতর্ক আয়োজনের জন্য এক ভোটাভুটি শেষে এমনটা জানান তারা। এদিন ৬০-৩৯ ভোটে একটি সিদ্ধান্ত পাশ হয়। এতে বৃহস্পতিবার ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি জোটের অভিযানের নিন্দা জানানো হবে।  

এদিন রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট পার্টির শীর্ষ সিনেটররা এক সংবাদ সম্মেলনে সৌদি আরবের উদ্দেশে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্রতা ধরে রাখতে চাইলে পরিবর্তন ছাড়া কোন উপায় নেই। এখন আপনাদেরই বুঝতে হবে কোন জায়গায় পরিবর্তন আনতে হবে।”

সাউথ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, “দুই দেশের মধ্যকার ছাড়াও এখানে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠেছে। যার মধ্যে একজন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি ভয়ংকর, বিকৃত চিন্তার এবং ক্ষতিকর ব্যক্তি।”

তিনি বলেন, “পরিবর্তন আনা ছাড়া সৌদি আরবের সঙ্গে কোন ধরনের ব্যবসা করতে আমি রাজি না।”

আল জাজিরা জানায়, এর মাধ্যমে সিনেটররা মূলত সৌদি আরবের ক্ষমতা থেকে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অপসারণ চান বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

নিউজার্সির ডেমোক্র্যাট বব মেনেন্দেজ বলেন, “আমরা বলছি না, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্কের ইতি টানতে। আমরা বলছি সৌদি আরবের পরিবর্তন দরকার।”  

২৯ নভেম্বরও ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা প্রত্যাহারে সিনেটে প্রস্তাব আনতে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইয়েমেন ইস্যুতে বড় ধরনের অগ্রগতি ঘটে মার্কিন সিনেটে।

এদিন সিনেটররা সংবাদ সম্মেলনে জানান, ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবকে সমর্থন দেওয়ার ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থানে তারা সন্তুষ্ট নন এবং  খাসোগি হত্যাকাণ্ডের জন্য তারা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকেই দায়ী করেন।

প্রসঙ্গত গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার ঘটনা এবং এর পরবর্তী অনুসন্ধান ও সমালোচনার ধারাবাহিকতায় তৎপর হয়ে ওঠেন সিনেটররা।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন জামাল খাসোগি। শুরুতে তাকে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে সৌদি। তবে সংবাদমাধ্যমে তুর্কি গোয়েন্দাদের একের পর এক ‘তথ্য ফাঁসে’র মুখে ১৯ অক্টোবর খাসোগি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে বলে স্বীকার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। যদিও এর সাথে সৌদি যুবরাজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে তারা দাবি করে।

পরবর্তীতে নভেম্বরের মাঝামাঝিতে সিআইএ’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশেই  খাসোগিকে হত্যা করা হয়। এই কাজে সহযোগিতা ছিল তার ছোট ভাই যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের।

তবে শুরু থেকে সৌদি যুবরাজকে বাঁচানোর চেষ্টা করে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মোহাম্মদ বিন সালমান জড়িত আছেন এমনটা বিশ্বাস করেন না।

৫ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র পরিচালক জিনা হাসপেলের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার গোপন বৈঠক শেষে সিনেটররা জানান, খাসোগি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সৌদি যুবরাজের জড়িত থাকা নিয়ে তারা নিশ্চিত। এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ত না থাকার ‘সম্ভাবনা শূন্য’।