নতুন বেঞ্চে খালেদার আইনজীবীদের অনাস্থা|111405|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২১:৩৫
নতুন বেঞ্চে খালেদার আইনজীবীদের অনাস্থা
নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন বেঞ্চে খালেদার আইনজীবীদের অনাস্থা

তিনটি আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রার্থিতা ফিরে পেতে রিট আবেদনের শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নির্ধারণ করে দেওয়া হাইকোর্টের একক বেঞ্চের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। 

বিএনপির চেয়ারপারসনের মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে গত মঙ্গলবার বিভক্ত আদেশ হওয়ার পর বুধবার বিচারপতি জে বি এম হাসানের একক বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানির জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি। বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে মামলা তিনটির শুনানির মুহূর্তে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী আদালতের প্রতি মৌখিকভাবে অনাস্থার কথা জানিয়ে শুনানি মুলতবির আবেদন করেন। 

অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানির আর্জি জানান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ কোনো বেঞ্চে শুনানির দাবি জানান এ জে মোহাম্মদ আলী। আর অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সুপ্রিম কোর্টে এ ধরনের কোনো বিধান নেই। পরে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শেষে আদালত শুনানি মুলতবি করেন।  

বগুড়া-৬, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১ আসন থেকে আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দুর্নীতির দুটি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে থাকা খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। পরে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করা হয়। গত ৮ ডিসেম্বর শুনানি শেষে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিকে খালেদা জিয়ার আপিল খারিজ করে দেয় ইসি। পরে ইসির ওই সিদ্ধান্ত স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। 

খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সে প্রশ্নে মঙ্গলবার বিভক্ত আদেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণের আদেশ ও রুল দেন। আর কনিষ্ঠ বিচারপতি তাতে দ্বিমত পোষণ করেন। এরপর নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বুধবার প্রধান বিচারপতি নতুন একটি বেঞ্চ গঠন করে দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিচারপতি জে বি এম হাসানের একক বেঞ্চে গতকাল এর শুনানি হওয়ার কথা ছিল।    

গতকাল শুনানির শুরুতেই এ জে মোহাম্মদ আলী এই বেঞ্চে ন্যায়বিচার নিয়ে তাদের শঙ্কার কথা জানিয়ে আদালতের উদ্দেশে বলেন, “আপনার আদালতের প্রতি আমাদের আস্থা নেই।” ওই সময় জ্যেষ্ঠ কোনো বিচারপতির বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানির কথা বলেন এ জে মোহাম্মদ। 

বিচারক বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবীদের এ বিষয়ে লিখিত নথি দাখিলের পরামর্শ দেন। আদালত আরো বলেন, “আপনারা তো এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করতে পারতেন।” 

এ সময় অ্যাটর্নি জেনালেন মাহবুবে আলম বিএনপির চেয়ারপারসনের আইনজীবীদের প্রতি উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, “উনারা আদালতে এসে এ ধরনের কথা বলতে পারেন না। তাদের আপত্তি থাকলে প্রধান বিচারপতিকে বলতে পারতেন। শুনানির সময় তারা কেন এ ধরনের কথা বলছেন? আসলে তারা কালক্ষেপণের কৌশল হিসেবে এ ধরনের (আদালতের প্রতি অনাস্থা) কথা বলছেন।’ তিনি আরো বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের এমন কোনো বিধান নেই যে, যে বিচারপতি আদেশ দিয়েছেন, তার চেয়ে জ্যেষ্ঠ বিচারপতির কাছে শুনানির জন্য দিতে হবে।”