মধ্যপ্রদেশে জিততে কংগ্রেসের ৩ হাজার ফোনকল!|111409|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২২:১৯
মধ্যপ্রদেশে জিততে কংগ্রেসের ৩ হাজার ফোনকল!
অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রদেশে জিততে কংগ্রেসের ৩ হাজার ফোনকল!

বিজেপি থেকে সীমিত আসনে এগিয়ে থেকেও শেষপর্যন্ত যাতে হেরে যেতে না হয় সেজন্য অন্য এক যুদ্ধে নামেন কংগ্রেস নেতৃবৃন্দরা। ফলাফল ঘোষণার রাতে তারা কয়েক হাজার ফোনকল করেন সেইসঙ্গে চালান ব্যাপক নজরদারি।

কংগ্রেসের এক ঘনিষ্ট সূত্রে এনডিটিভি জানায়, ভারতের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা ছিল মধ্যপ্রদেশকে ঘিরে। এ রাজ্যে বিজেপি থেকে সীমিত আসনে এগিয়ে ছিল কংগ্রেস। কিন্তু শেষপর্যন্ত যাতে হেরে যেতে না হয় এজন্য কংগ্রেস নেতৃবৃন্দরা করেন পুরো রাজ্যে তিন হাজার কল করেন।

যদিও এ রাজ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে কংগ্রেস ও বিজেপির কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তবে আসন অর্জনের দিকে বিজেপিকে হারিয়ে ঠিকই ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে কংগ্রেস। এক্ষেত্রে মায়াবতী,সমাজবাদী পার্টি এবং স্বতন্ত্র বিধায়কদের সমর্থনের ব্যাপারে নিশ্চিত কংগ্রেস।  

তবে এ রাজ্যে নির্বাচনের ফলাফল পর্বের পরতে পরতে ছিল চমক।  দুপক্ষের মধ্যে আসন জেতার ফারাকও খুব বেশি ছিল না। কংগ্রেসের বিধায়করা এ রাজ্যে জিতে ১১৫ আসন। আর সরকার গড়তে প্রয়োজন ১১৬ টি আসন। কিন্তু এই সংখ্যা যাতে কমে  এই ফোনযুদ্ধে নামে কংগ্রেস নেতারা।  

তাছাড়া সারারাত ধরে চলে  নজরদারি। কংগ্রেসের কোন বিধায়ক যাতে দল ছেড়ে অন্য কোথাও না  যান  তা  নিশ্চিত করতে চেয়েছেন রাজ্য ও কেন্দ্রের  নেতারা।

এনডিটিভি জানায়, শীর্ষনেতা কমলনাথ থেকে শুরু করে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, দ্বিগবিজয় সিং, বিবেক টঙ্কাসহ রাজ্যসভা এমপিরা ভূপালের কংগ্রেস অফিসকে রীতিমত এক 'যুদ্ধক্ষেত্র' বানিয়ে ফেলেছিলেন ।

এছাড়া আইনি পরামর্শ দেওয়ার জন্য তৈরি ছিল ৩০ জন আইনজীবীর একটি দল। সমস্ত ফোন যাতে  নির্দিষ্ট  সময়ে  ঠিক জায়গায় করা  যায় তা  নিশ্চিত  করতে একটি  স্বেচ্ছাসেবক দলও নিয়োগ করা হয়েছিল।  

শুক্রবার এ পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে ফলাফল ঘোষণা শুরু হয়ে চলে একেবারে দিনগত রাত ২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত। বিশেষ করে মধ্যপ্রদেশে সর্বশেষ ৩০ আসনে নিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ফলাফল ঘোষণাকে গভীর রাত পর্যন্ত নিয়ে যায়।  

নির্বাচন কমিশন জানায়, এদিন মধ্যপ্রদেশের ফলাফল ঘোষণা দেরি হচ্ছিল কারণ বেশকিছু আসনে দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভোটের ব্যবধান ছিল একেবারেই অল্প। অনেক ক্ষেত্রে সেটি ছিল মাত্র ১০০ ভোটেরও কম।  

সাত ঘণ্টা ধরে চলা কংগ্রেসের এ ফোনকলগুলোতে বিধায়কপ্রার্থী ছাড়াও তাদের এজেন্ট, রিটার্নিং অফিসার এবং ইলেকশন কমিশন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ করা হয়। এমনকি দিল্লিতে প্রধান নির্বাচনি কমিশনার কার্যালয়ের সামনে অস্থায়ী ক্যাম্প করে কংগ্রেসের আরেকটি টিম।

প্রসঙ্গত, ২৩০ আসনের এ রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৬ আসন। সেখানে মাত্র একটি আসনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কংগ্রেস। তারা পেয়েছে ১১৫ আসন।

বিজেপির অন্যতম ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই রাজ্যে ৫৭ আসন হারিয়েছে দলটি। উল্টোদিকে ৫৭ আসন নিজেদের ঘরে তুলে নিয়েছে কংগ্রেস। একইভাবে অন্য দুই শক্তিশালী ঘাঁটি রাজস্থান এবং ছত্তিশগড়েও কংগ্রেসের কাছে হেরেছে বিজেপি। মিজোরামে কংগ্রেসকে হারিয়ে উত্থান ঘটেছে স্থানীয় মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট (এমএনএফ)-এর। তেলেঙ্গানায় রাষ্ট্র সমিতি দল পুনরায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে।