সিলেটের অভিষেকে সিরিজ জয়ের হ্যাটট্রিক|111448|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৯:০৪
সিলেটের অভিষেকে সিরিজ জয়ের হ্যাটট্রিক
অনলাইন ডেস্ক

সিলেটের অভিষেকে সিরিজ জয়ের হ্যাটট্রিক

তামিম-সৌম্যর যুগলবন্দীতে সহজ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ছবি: নাজমুল হক বাপ্পি

মিরাজ, মাশরাফিদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে শেই হোপের লড়াকু শতক। ‘নিঃসঙ্গ’ পথচলায় ধ্রুপদি ব্যাটিং করলেন বটে; তবে নায়ক হতে পারলেন না। অন্যরা যখন এসেছেন আর গেছেন, হোপ তখন দলীয় সংগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করে গেছেন। তার সেই চেষ্টা বৃথা গেছে তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকারের ‘কপিবুক’ ব্যাটিংয়ে। দুজনের যুগলবন্দীতে সিলেট স্টেডিয়ামের অভিষেক ওয়ানডেতে বাংলাদেশ পেয়েছে টানা তিনটি সিরিজ জয়ের উপলক্ষ।

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে শুক্রবার বাংলাদেশ জিতেছে ৮ উইকেটে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ টস হেরে আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৯৮ রান সংগ্রহ করে। তামিম (৮১*), সৌম্যর (৮০) অর্ধশতকে বাংলাদেশ ৩৮.৩ ওভারে জয় তুলে নেয়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে সুযোগ ছিল চার বছর বাদে ওয়ানডে সিরিজ জয় করার। এমন ম্যাচে দলটি বাংলাদেশের কাছে পাত্তাই পেল না। অন্যদিকে বাংলাদেশ এ বছর খেলা তিনটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজই নিজেদের করে নিল। যার দুটি ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে।

সহজ লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশ ভালো শুরু পায়। দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম, লিটন অনায়াসে প্রথম পাওয়ার-প্লে পার করে দেন। এই সময়ে স্কোরবোর্ডে জমা করেন ৪৫ রান। ১১তম ওভারে ‘খেয়ালি’ শটে উইকেট ছুড়ে আসেন লিটন। কিমো পলের স্লোয়ার শর্ট বল পড়তে ভুল করেন। ব্যাক অব লেংথে পড়া ডেলিভারি পুল করতে চেয়েছিলেন। ঠিকমতো ব্যাটে নিতে পারেননি। ধরা পড়েন মিডঅনে, রভম্যান পাওয়েলের হাতে। প্রথম ম্যাচে ৪১ আর দ্বিতীয় ম্যাচে ৮ রান করা লিটন এদিন পথ ধরেন ৩৩ বলে ২৩ রানের ইনিংস খেলে।

ব্রেক-থ্রু পাওয়ার পরও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলটি উইকেটের প্রভাব তো কাজে লাগাতে পারেইনি, কেউ পারেননি চমকপ্রদ কিছুও করতে। বাতাসে ধোঁকা দেয়া, কিংবা চমকে দেওয়া শর্ট বলের পসরাও সাজাতে পারেননি অতিথি বোলাররা। শীতের সন্ধ্যায় শিশিরের প্রভাবও খুব একটা বিপাকে ফেলতে পারেনি স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের। সময়ের প্রয়োজন মিটিয়ে দেখেশুনে ব্যাট চালাতে থাকেন তামিম, সৌম্য। টানা দ্বিতীয় ফিফটিতে পৌঁছাতে তামিম খেলেন ৬২ বল। অন্যদিকে ক্যারিয়ারের সপ্তম ফিফটিতে পৌঁছাতে সৌম্যও খরচ করেন সমান বল। দুজনে ১৩১ রান যোগ করেন। ব্যক্তিগত ৮০ রানের মাথায় সাজ ঘরে ফেরেন সৌম্য।

লিটনের মতো তাকেও ফেরান পল। সৌম্য বারবার অফসাইডে মুভ করে ব্যাট চালাচ্ছিলেন। সেটি বুঝতে পেরেই পরিকল্পিতভাবে লেগস্টাম্পে ফুল-লেংথ ডেলিভারি দেন ক্যারিবীয় পেসার। ক্রস ব্যাটে ‘হাফসুইং’ শট খেলতে গিয়ে লাইন মিস করেন বাঁহাতি ওপেনার। পাঁচটি করে চার-ছক্কায় ৮১ বলে ৮০ করে শতক হাতছাড়ার আক্ষেপ নিয়ে পথ ধরেন। এরপর মুশফিককে নিয়ে বাকি পথটুকু পাড়ি দেন তামিম।

এর আগে উইন্ডিজকে চেপে ধরতে দারুণ ভূমিকা রাখেন ম্যাচসেরা মিরাজ। ক্যারিয়ার-সেরা বোলিংয়ে ১০ ওভারে ২৯ রান দিয়ে চারজনকে ফেরান। এর মধ্যে মেডেন ছিল একটি। মুস্তাফিজ ৩৩ রান খরচ করে উইকেটহীন। সাকিব ৯ ওভারে ৪০ রান দিলেও দুই উইকেট নেন। ৩৪ রান দিয়ে মাশরাফির শিকারও দুইজন। পেস-অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন নেন এক উইকেট।

এমন বোলিংয়ের বিপরীতে ৫৫ বলে অর্ধশতকে পৌঁছানোর পর ১২১ বলে শতকে পৌঁছান হোপ। সংযত ব্যাটিংয়ের পথে মাত্র একটি ছয় হাঁকিয়েছেন। নিজের সহজাত সব শটকে নিয়ন্ত্রণ করে চার হাঁকিয়েছেন ৯টি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৫০ ওভারে ১৯৮/৯ (হেমরাজ ৯, হোপ ১০৮*, ব্রাভো ১০, স্যামুয়েলস ১৯, হেটমায়ার ০, পাওয়েল ১, চেইস ৮, অ্যালেন ৬, পল ১২, রোচ ৩, বিশু। মুস্তাফিজ ০/৩৩, মিরাজ ৪/২৯, সাকিব ২/৪০, মাশরাফি ২/৩৪, সাইফ ১/৩৮, মাহমুদউল্লাহ ০/১৪)।
বাংলাদেশ: ৩৮.৩ ওভারে ২০২/২ (তামিম ৮১*, লিটন ২৩, সৌম্য ৮০, মুশফিক ১৬*। রোচ ০/১৬, চেইস ০/৩২, পল ২/৩৮, স্যামুয়েলস ০/২৫, বিশু ০/৪৮, অ্যালেন ০/২২, পাওয়েল ০/২১)

ম্যাচসেরা: মেহেদী হাসান মিরাজ
সিরিজসেরা: শেই হোপ