'কাঁদো চলচ্চিত্র অঙ্গন কাঁদো'|111465|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২২:২৮
'কাঁদো চলচ্চিত্র অঙ্গন কাঁদো'
অনলাইন ডেস্ক

'কাঁদো চলচ্চিত্র অঙ্গন কাঁদো'

বরেণ্য চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেন মৃত্যুর খবরে শোবিজ অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলচ্চিত্র প্রেমিরা আমজাদ হোসেনের জন্য শোক প্রকাশ করেছেন।

ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক পরিচালক এস এ হক অলিক তার ফেসবুকে লেখেন, 'আমি জানি না আমি কী লিখব। গুরু আপনি  যেখানেই থাকেন ভালো থাকেন।'

চিত্রনায়ক জায়েদ খান লিখেছেন, 'এবার সত্যি সত্যি চলে গেলেন দেশবরেণ্য চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেন। আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।'

পরিচালক শাফি উদ্দিন শাফি লেখেন, 'একটি প্রতিষ্ঠানের সমাপ্তি। কাঁদো চলচ্চিত্র অঙ্গন কাঁদো।'

 তরুণ প্রজন্মের চলচ্চিত্র পরিচালক সৈকত নাসির নিজের টাইমলাইনে লেখেন, 'একজন আমজাদ হোসেন বাংলা সিনেমার এক সোনালি ইতিহাস। আপনার কর্ম যুগে যুগে আমাদের উৎসাহ যোগাবে। বিদায় লিজেন্ড।'

উল্লেখ্য, ১৮ নভেম্বর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় ঢাকার তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয় আমজাদ হোসেনকে। শুরু থেকে তাকে কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাস দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়।

এই নির্মাতার শারীরিক অসুস্থতার খবর শুনে তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে আমজাদ হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক নিয়ে যাওয়া হয়।

আমজাদ হোসেনের জন্ম ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট জামালপুরে। তিনি একাধারে অভিনেতা, পরিচালক ও লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। তিনি ১৯৬১ সালে ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় দিয়ে বড়পর্দায় পা রাখেন। পরবর্তীতে চিত্রনাট্য রচনা ও পরিচালনায় মনোনিবেশ করেন। তার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘আগুন নিয়ে খেলা’ (১৯৬৭)। 

পরে তিনি নয়নমনি (১৯৭৬), গোলাপী এখন ট্রেনে (১৯৭৮), ভাত দে’র (১৯৮৪) মতো কালজয়ী সিনেমা নির্মাণ করে প্রশংসিত হন।‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ ও ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক (১৯৯৩) ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।