দেশের মাঠে মাশরাফীর শেষ পরীক্ষা|111470|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
দেশের মাঠে মাশরাফীর শেষ পরীক্ষা
মোহাম্মদ খাইরুল আমিন, সিলেট থেকে

দেশের মাঠে মাশরাফীর শেষ পরীক্ষা

সিলেটে গতকাল অনুশীলনে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ও ওশান থমাস-দেশ রূপান্তর

কখনো কখনো একটা হারে মনে হয় যেন সবকিছুই হারিয়ে গেল! যদিও তা নয়। তারপরও অনেকটা তেমনই মনে হয়েছিল ঢাকায় বছরের শুরুর ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে হারের পর। মনে হয়েছিল দুবাইয়ে সেদিন এশিয়া কাপের ফাইনালে হেরে। একটুর জন্য এই আক্ষেপ গ্রাস করে। এখন একটি মাত্র জয় বাংলাদেশকে শেষ ভালোর সূত্রে সব আরো ভালো করে দিতে পারে। আবার একটি হারই সামনের বছরের বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে আত্মবিশ্বাসের দেয়ালে আঘাত হেনে সৃষ্টি করে দিতে পারে ফাঁকফোকর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আজ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেটা তাই টাইগারদের ভিন্ন এক পরীক্ষাও বটে।

অথচ সিরিজের শুরুতে একদমই মনে হয়নি এমন পরীক্ষার সামনে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দল পড়তে পারে। প্রথম ওয়ানডেতে দুর্দান্ত জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ফেভারিট

লেগেছিল তাদের। মনে হয়েছিল ঢাকার দ্বিতীয় ওয়ানডের সঙ্গে সিরিজ জিতে সিলেটের পুণ্যভূমিতে পা রাখবে হোয়াইটওয়াশের টার্গেট নিয়ে। কিন্তু স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ের সামান্য খামতি আর এক ক্যারিবিয়ান শেই হোপের ১৪৬ রানের হার না মানা ইনিংসের আদ্যন্ত ব্যাটিং তাদের সমতায় ফিরিয়ে আনল। তাতে ২০১৪ সালের পর প্রথম কোনো সিরিজ জয়ের সম্ভাবনার সামনে দ্বীপবাসীরা। স্বাগতিকদের সামনে সফল ওয়ানডে বছরটা হারে শেষ করার শঙ্কা।

কে বা চায় হারে শেষ করতে এভাবে? বাংলাদেশ দলেরও যে সেটা কোনোভাবেই হতে না দেওয়ার পণ তা এখানকার স্টেডিয়ামে গতকালের বিকেলে মাশরাফীর সংবাদ সম্মেলনে পরিষ্কারÑ ‘এ বছরে জয়ের পার্সেন্টেজ বেশ ভালো। সব মিলিয়ে ওয়ানডে ফরম্যাটটা বেশ ভালো গিয়েছে। শেষেও জয়ী দলে থাকতে পারলে ভালো হবে।’

২০১৮ সালে ১৯ ওয়ানডের ১২টিতে জয় বাংলাদেশের। দেশে ১০ ম্যাচের ৭টি জিতেছে। দেশ-বিদেশ মিলে খেলা দুই সিরিজেই জয়ী দল মাশরাফীর। শুধু দুটি আসরের ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে না পারার আক্ষেপ।

দল হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে নিঃসন্দেহে এগিয়ে বাংলাদেশ। তারপরও খেলাটা ৫০ ওভারের বলে কথা। ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপকে চূড়ান্ত লক্ষ্য ধরে সমস্ত শক্তি নিয়ে ঝাঁপাবে বাংলাদেশ। মাশরাফীর দলের কাছে এটা বড় অর্থে আত্মবিশ্বাসের টনিকের মতো, ‘অবশ্যই এই ম্যাচটা জিততে পারলে পরের সিরিজের আত্মবিশ্বাস ভালো থাকবে। টি-টুয়েন্টি সিরিজটিতেও এটা সহায়তা করবে। পরে নিউজিল্যান্ড ট্যুর আছে। ফরম্যাট যদিও আলাদা। স্পোর্টসে আসলে উইনিং বা লুজিং দিয়ে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। তাই আত্মবিশ্বাসটা গুরুত্বপূর্ণ।’ মানে মরিয়া টাইগাররা।

দ্বিতীয় ওয়ানডের ঘুরে দাঁড়ানো জয়ে সিরিজের ট্রফি ঘরে নেওয়ার সুবাস মিলছে। সেই ২০১৪ সালে বাংলাদেশকে হারানোর পর আর সিরিজ জয়ের স্মৃতি নেই উইন্ডিজের। বর্তমান দলের অনেকেরই ওই ঘটনার পর অভিষেক। এ বছর খেলা ১৭ ম্যাচের আটটি তারা জিতেছে, আটটি হেরেছে। একটি টাই। জেতা আটের পাঁচটি আবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের। বড় জয় বলতে বাংলাদেশের বিপক্ষে গেল ম্যাচেরটি। উইন্ডিজ দল যে নতুন প্রেরণায় শেষ আঘাত হানবে সেটাই যেন মাশরাফীর আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে ঘোষণা করে গেলেন ক্যারিবিয়ান দলের তরুণ ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল, ‘সবার ঠোঁটের আগায় এখন একটাই (সিরিজ জয়) কথা লেগে আছে। অনেক দিন হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওডিআই সিরিজ জেতে না। বিরাট সুযোগ আমাদের সামনে তা বদলে ফেলার। দলের সবাই কাল (আজ) তা করে ফেলতে মুখিয়ে আছে, আত্মবিশ্বাসী সবাই।’

এর সঙ্গে পাওয়েল হুমকির সুরে আরো জানাচ্ছেন, ‘এটা একটা ফ্যাক্ট যে বাংলাদেশ ফাস্ট বোলিং পছন্দ করে না। এটাকে অবশ্যই কাজে লাগাতে চাইব আমরা।’

পাওয়েল বলতে চাইছেন ওশান থমাসের মতো ঘণ্টায় ১৪০-১৪২ কিলোমিটার গতির বোলারকে বাংলাদেশি ব্যাটাররা খেলতে ভয় পান বা অমন বোলিং খেলায় দুর্বল। সেটা অবশ্যই মানার মানুষ নন মাশরাফীÑ ‘ওদের পেস বোলিং কিন্তু আমরা দুই ম্যাচেই সামাল দিয়েছি। শেষ ম্যাচেও মুশফিক ও তামিমকে ওরা পেস বোলিং দিয়ে খুব একটা ভোগাতে পারেনি। রিয়াদকেও না। ইনিংসের শুরুতে হয়তো কিছুটা হতে পারে এটা স্বাভাবিক। সাকিবও খুব আরামে খেলেছে, শটও খেলেছে। আমার মনে হয় না খুব একটা কিছু (পেসাররা) করতে পেরেছে। আগে একটা সময় এই ব্যাপারগুলো অনেক প্রভাব ফেলত, এখন আর সেটা সেই জায়গায় নেই।’ এর সঙ্গে সংযুক্তি, ‘এক্সট্রিম পেসের কথা যদি বলেন তাতে তো পৃথিবীর সব ব্যাটসম্যানেরই সমস্যা হয়। কিন্তু ১৪০, ১৪২-১৪৩ গতির বল আমাদের অনেক ব্যাটসম্যান সহজেই সামলাতে পারে।’

সহজ হিসাব, নিজেদের খেলাটা খেলতে পারলে বাংলাদেশেরই শেষ হাসি হাসার কথা। কিন্তু চার ওপেনারের ফর্মুলা যে ক্লিক করল না! ওখানে একটা পরিবর্তনের কথা শোনা যাচ্ছিল। আর উইকেট কিংবা ডিউ ফ্যাক্টর? উইকেট ঢাকারই মতো নিচু ও ধীর। আগের মতোই হয়তো তিন পেসার দুই স্পিনার থাকছে স্বাগতিকদের । শিশিরের প্রভাব গেল রাতের অন্তত ৭টা পর্যন্ত কারো কাছে প্রভাবক হতে পারে বলে মনে হয়নি। শুধু ঝামেলার ব্যাপার হলো, এই স্টেডিয়ামের ওয়ানডে অভিষেক হচ্ছে। টি-টুয়েন্টি ও টেস্ট অভিষেকে জিতেছে প্রতিপক্ষ। মাঠের ওই ধারা বদলাতে না পারলে যে বাংলাদেশের সর্বনাশ!