চিঠির পর তৃণমূলে হাসিনার ফোন|111472|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
চিঠির পর তৃণমূলে হাসিনার ফোন
পাভেল হায়দার চৌধুরী

চিঠির পর তৃণমূলে হাসিনার ফোন

নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে দৃশ্যত দলীয় কোন্দল নিরসনে সরাসরি হস্তক্ষেপ শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তৃণমূলের নেতাদের চিঠি দেওয়ার পর সরাসরি তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলা শুরু করেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ফোন পাওয়াদের একজন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ফজলুর রহমান ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নেত্রী আমার সঙ্গে প্রায় তিন মিনিট কথা বলে নানা দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।’

ক্ষমতাসীন দলের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কমপক্ষে এক ডজন নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন।

৩০ ডিসেম্বর ভোটাভুটির আগে মনোনয়ন পাওয়া এবং স্থানীয় বিরোধে ক্ষমতাসীন দলে বিবদমান দ্বন্দ্ব নিরসনে অনেক দেনদরবারের পর প্রধানমন্ত্রী সরাসরি কথা বলে বিবাদ মেটাতে চেষ্টা করছেন। এই নির্বাচনে সারা দেশ থেকে ৪ হাজার ২৩টি মনোনয়নপত্র কেনেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তাদের মধ্যে ২৫৮ জন দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। মনোনয়ন না পেলে কেউ যেন স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী না হন সেজন্য দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বারবার সতর্ক করেছেন। তবে তাতে তেমন ফল হয়নি। মনোনয়নবঞ্চিতদের কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টেও ভিড়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ  এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া, সাবেক সাংসদ গোলাম মওলা রনি প্রমুখ। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামাতে তৃণমূল নেতাদের ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন করে কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শেখ হাসিনা। এ সম্পর্কে আওয়ামী লীগের ওই কেন্দ্রীয় নেতারা দেশ রূপান্তরকে জানান, পাওয়া-না পাওয়ার ক্ষোভ-দুঃখ ভুলে দলের জন্য কাজ করতে তৃণমূল নেতাদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছেন শেখ হাসিনা। ফোনে তিনি বলছেন, ক্ষোভ-বিক্ষোভের সময় এখন নয়। দলীয় প্রধানের এই ফোনে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হয়ে উঠছেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, বিশেষ করে যেসব জেলা-উপজেলায় দলীয় নেতাদের দুঃখ-কষ্ট-ক্ষোভ এখনো দূর করা সম্ভব হয়নি সেসব জেলা-উপজেলার নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলছেন শেখ হাসিনা। তৃণমূল নেতাদের তিনি বলছেন, আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, আওয়ামী লীগ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে নৌকা মার্কাকে পরাজিত করার সাংগঠনিক শক্তি আর কারো নেই। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি সারা দেশের নেতাকর্মীদের সজাগ-সতর্ক থাকতেও বলছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, তৃণমূলে নেতাদের কাছে ফোন করার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় নেতাদের উজ্জীবিত করা। শেখ হাসিনা সেই চিন্তা করে ঝামেলাপূর্ণ জেলার নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলছেন।    

গত শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেওয়া হয় তৃণমূলের নেতাদের কাছে; যাদের মধ্যে মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও ছিলেন। চিঠিতে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে বিশেষ অনুরোধ জানান তিনি। চিঠিতে ক্ষোভ-বিক্ষোভ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে নৌকার পক্ষে মাঠে নামার নির্দেশও দেন শেখ হাসিনা।

তার চিঠির শেষ দিকে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, ‘আপনার কাছে আমার বিশেষ অনুরোধ ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে আপনার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে মহাজোটকে বিজয়ী করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করবেন। আপনার ত্যাগ, শ্রম ও আন্তরিকতা সবকিছুই আমার বিবেচনায় আছে।’