বেলফোর্ডে রক্ষা আবাহনীর|111503|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
বেলফোর্ডে রক্ষা আবাহনীর
ক্রীড়া প্রতিবেদক

বেলফোর্ডে রক্ষা আবাহনীর

মাঠের লড়াইটা মোটেই আনন্দদায়ী ছিল না। ম্যাড়মেড়ে ম্যাচটা অবশ্য অতিরিক্ত সময়ে যেতে দেননি আবাহনীর হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড কারভেন্স বেলফোর্ড। তার ৮১ মিনিটের গোলে গতকাল সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবকে হারিয়ে স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনালে উঠেছে আবাহনী।

ফেডারেশন কাপে দুর্দান্ত ফাইনাল জেতার পর থেকেই যেন কিছুটা ছন্দহীন আবাহনী। ডাগআউটে নতুন পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমস। তারপরও যেন ছন্দটা কেটে গিয়েছে আকাশি-নীল দলটির। সামর্থ্যরে অনেক কম দিয়েই তারা উঠে এসেছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। এই মঞ্চেও আগ্রাসী রূপটা দেখা যায়নি। এমন আবাহনী পেয়েও অবশ্য জ্বলে উঠতে পারেনি তারুণ্যনির্ভর সাইফ। তাদের খেলায়ও ছিল না কোনো পরিকল্পনার ছাপ। ফলে মাঠের লড়াইয়ে তেজ ছিল না। এর মাঝেই দু-চারটে সুযোগ তৈরি করেছে দু’দল। আবাহনীর কোরিয়ান মিডফিল্ডার মিনহিয়োক কোর ফ্রিকিকে প্রাণতোষ কুমারের হেড বার ঘেঁষে বাইরে চলে যায় ম্যাচের নবম মিনিটে। ১৮ মিনিটে মিনহিয়োকের ফ্রিকিকে কারভেন্স বেলফোর্ডের ভলি গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন আসাদুজ্জামান বাবলু।

৩৩ মিনিটে প্রথম আক্রমণে যায় সাইফ। কোরিয়ান সিউনগিল পার্ক বল নিয়ে বক্সের বাম দিক দিয়ে ঢুকে কাটব্যাক দিয়েছিলেন জাফর ইকবালের উদ্দেশে। কিন্তু হাত ছোঁয়া দূরত্ব থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন জাতীয় দলের এ স্ট্রাইকার। ৭৩ মিনিটে ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন আবাহনী মিডফিল্ডার সোহেল রানা। বেলফোর্ডের ক্রসে তার শট অবশ্য ঠেকিয়ে দেন সাইফ ডিফেন্ডার আসাদুজ্জামান বাবলু। ৮১ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বামপ্রান্ত থেকে সোহেলের ক্রসে নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড সানডে চিজোবার হেড সাইফ গোলকিপার জিয়াউর রহমান ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলে বেলফোর্ডের প্লেসিং ঠিকানা খুঁজে পায়। যদিও এই গোল নিয়ে খানিকটা অসন্তুষ্ট সাইফের ইংলিশ কোচ জোনাথন ম্যাককিনস্ট্রির। তার দাবি সোহেলের সেই ক্রসের আগেই বল আঘাত হেনেছিল তার হাতে। যা এড়িয়ে গেছে রেফারির চোখ, ‘আসলে বলটি সোহেলের হাতে লেগেছিল। যা রেফারি দেখতে পাননি। এমনটা ম্যাচে হতেই পারে। আমি সর্বোপরি সন্তুষ্ট আমাদের দলের পারফরম্যান্সে। কারণ আবাহনী অনেক বড় দল। তারা অনেক সাফল্য পেয়েছে। আমাদের এই দলটি একেবারেই তারুণ্যনির্ভর। তারা যে আবাহনীর সঙ্গে সমান্তরালে খেলেছে এটাই বড় প্রাপ্তি।’

গত আসরে আবাহনী বিদায় নিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। এবার সেই বাধা ডিঙিয়ে অনেকটাই স্বস্তিতে দলটি। আবাহনীর কোচ লেমস খুশি কঠিন একটা ম্যাচ জিততে পারায়, ‘খুব কঠিন ম্যাচ ছিল এটা। কারণ কাউন্টার অ্যাটাকে ওরা খুবই ভালো করছিল। বেশ কিছু সুযোগ তারা তৈরি করেছে। তবে আমি সন্তুষ্ট জিততে পেরে। কারণ শেষ পর্যন্ত আমাদের বিশ্বাস ছিল জয়ের, সেটা আমরা পেয়েছি।’

ফেডারেশন কাপের পর আরেকটি শিরোপা থেকে আর দুটি জয় দূরে আবাহনী। সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো সহজ নয়। সেমিফাইনালেই যে তাদের দেখা হয়ে যেতে পারে কাগজে-কলমে সেরা দল বসুন্ধরা কিংসের। আজ দলটি কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে নামবে রহমতগঞ্জের বিপক্ষে। আজ স্বাভাবিক ফল হলে কিংসের বিপক্ষেই আবাহনীকে লড়তে হবে ২০ ডিসেম্বর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে।