যানজট কমাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা|111526|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৪:৪৯
যানজট কমাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
অনলাইন ডেস্ক

যানজট কমাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ঢাকার মতো শহরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা জটিল হলেও কাজে আসবে।

নগর জীবনের ‘অভিশাপ’ যানজট কমাতে আধুনিক প্রযুক্তিই সাহায্য করতে পারে। ঢাকা কিংবা ভারতের বেঙ্গালুরুর মতো শহর থেকে যানজট দূর করতে ‘আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের উপর জোর দিতে বলছেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এবং বিবিসির খণ্ডকালীন লেখক ফ্রান্সেসকা বেকার।

ফ্রান্সেসকা তার কলামে লিখেছেন, ২০১৫ সালে বিশ্বে ১.৩ বিলিয়ন যানবাহন ছিল। ২০৪০ সাল নাগাদ দুই বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে। বাড়তি যানবাহনের চাপ সামাল দিতে রাস্তার নেটওয়ার্ক উন্নত করতে হবে। সেজন্য ব্যবহার করতে হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী?
কোনো যন্ত্রকে যখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্য বানানো হয়, তখন সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ মানুষের মতো কাজ পেতে যে যন্ত্র তৈরি করা হয় তাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যন্ত্র বলে।

গুগল ইতোমধ্যে এর ব্যবহার শুরু করেছে। কয়েকটি গাড়ি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে গাড়ি বানিয়েছে। কোনো ড্রাইভার ছাড়াই এই গাড়ি রাস্তায় চলাচল করতে পারে।

যেভাবে যানজট নিয়ন্ত্রিত হবে
স্বয়ংক্রিয় গাড়ি রাস্তায় নামানোর সময় এখনো আসেনি। কিন্তু অন্যভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করা যেতে পারে। ফ্রান্সেসকা বলছেন, রাস্তায় আধুনিক ক্যামেরার ব্যবহার বাড়াতে হবে। এই ক্যামেরাগুলো যানবাহনের চলাচল পর্যবেক্ষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়িগুলোর কাছে সংকেত পাঠাবে। সেজন্য গাড়ি অথবা চালকের মোবাইলের সঙ্গে ক্যামেরার নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে হবে।

এই প্রক্রিয়ায় সফল হতে প্রচুর ‘ডেটা’ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। রাস্তার গঠন, ট্রাফিক পদ্ধতি সবকিছু ডিভাইসে যুক্ত থাকতে হবে।

ঢাকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে যে ট্রাফিক লাইট ব্যবহার করা হয়, তা নির্দিষ্ট সময় পরপর সংকেত দেয়। কিন্তু লাইটগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করতে পারলে সেটি হবে না। যখন যেভাবে প্রয়োজন এটি সেভাবে সংকেত দেবে।

শহরের কোন রাস্তা কোন সময় খালি তার তথ্যও পৌঁছে যাবে চালকের মোবাইলে। রাস্তায় কত গাড়ি, কোনদিকে কে যাচ্ছে সেসব জানা যাবে নিমেষে। ভুল পথে গেলেও সংকেত আসবে।

রাস্তায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সেটি সহজে চিহ্নিত করতে পারবে ডিএসএসও বা ‘ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেম’। দুর্ঘটনার প্রতিক্রিয়া, ট্রাফিকের অবস্থা এবং সমস্যা সমাধানের জন্য কোন পন্থা অবলম্বন করলে সমস্যার সমাধান হবে তাও নির্ধারণ করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

বিশ্লেষণধর্মী এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে শহর কর্তৃপক্ষ ট্রাফিক সমস্যা শুরু হওয়ার পূর্বেই তা চিহ্নিত করতে এবং সমাধান করতে সক্ষম হবে। তথ্য সংগ্রহ করে তা আধুনিক অ্যানালিটিক্স এবং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে দৈনন্দিন অথবা ঘটনাবহুল দিনের ট্রাফিক ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে সকল যানবাহনের উপর তার প্রতিক্রিয়া নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। সিস্টেমটি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছানোর সময় এবং ট্রাফিকের অবস্থা সম্পর্কে আরো নিখুঁত তথ্য প্রদান করতে পারবে।

সফলতার সম্ভাবনা কতটুকু?
ঢাকার মতো শহরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা জটিল হলেও কাজে আসবে। জার্মানি, ইংল্যান্ড তাদের কয়েকটি শহরের রাস্তায় প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে। সিঙ্গাপুর তো রীতিমতো সফল।

ল্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথোরিটি (এলটিএ) সিঙ্গাপুরের রাস্তায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লাইট প্রস্তুত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এই পদ্ধতি রাস্তায় যানবাহন এবং পথচারীর পরিমাণ সংরক্ষণ করে। তারপর বিশ্লেষণ করে চালকদের কাছে সংকেত পাঠায়। ২০২০ সাল পর্যন্ত এই পদ্ধতি উন্নত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।