চা বাগানে ভোটের আমেজ|111535|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৭:০২
চা বাগানে ভোটের আমেজ
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

চা বাগানে ভোটের আমেজ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মৌলভীবাজার জেলার প্রতিটি চা বাগানে বিরাজ করছে ভোটের আমেজ। পক্ষে বিপক্ষের আলোচনা ছাড়াও নিজেদের চাওয়া পাওয়া নিয়েও কথা বলছেন চা শ্রমিকরা। এবার আর মার্কা দেখে নয়, বরং চা শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া এবং চাওয়া পাওয়ার ব্যাপারে যারা সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেবেন তাদেরই ভোট দেবেন বলে জানান তারা।

জেলার চারটি সংসদীয় আসনে ফাড়ি বাগানসহ ৯৩ টি চা বাগানে বসবাস করেন প্রায় ৫ লক্ষ চা শ্রমিক। চা বাগানের নির্দিষ্ট গণ্ডির ভেতরে অমানবিক পরিশ্রম আর মানবেতর দৈনন্দিন জীবনের মধ্যেই কাটে চা শ্রমিকদের বছরের পর বছর। তবে ভোট প্রার্থীদের আনাগোনায় সেখানে নির্বাচনকে ঘিরে চা শ্রমিকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। ভোটের মাধ্যমে নিজেদের দাবি দাওয়া আদায়ে এবার সচেতন চা শ্রমিকরা।

চা শ্রমিক ইউনিয়নের তথ্যমতে, দুই লক্ষাধিক ভোট রয়েছে মৌলভীবাজারের ৪ টি আসনে। জেলার চারটি আসনেই জয়পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখে চা শ্রমিকদের ভোট। তবে অন্য তিনটি আসন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-৪ আসন । এই আসনে জেলার অর্ধেকেরও বেশি চা শ্রমিকের বসবাস। এই চা শ্রমিকদের ভোট যেদিকে যায় সেদিকেই ভারী হয় জয়ের পাল্লা।

মৌলভীবাজার-৪ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৮৩০ জন তার মধ্যে চা শ্রমিকদের ভোট লক্ষাধিক, যা এই আসনের জয় পরাজয়ে সরাসরি ভূমিকা রাখে।

চা শ্রমিকরা বরাবর নৌকার ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। এই চা শ্রমিকদের ভোটের ওপর ভিত্তি করেই ৯১ থেকে টানা পাঁচবার এখানে নৌকা নির্বাচিত হয়েছে। এবারও এ আসনে জয় পরাজয়ে ভূমিকা রাখবে চা শ্রমিকের ভোট। তাই নৌকার প্রার্থীরা ব্যাংক ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে চষে বেড়াচ্ছেন জেলার ৯৩ টি চা বাগান। অন্যদিকে নৌকার প্রতিপক্ষ প্রার্থীরাও ভোট ব্যাংকে ফাটল ধরাতে মরিয়া হয়ে প্রচার চালাচ্ছে চা বাগান গুলোতে। তাই পক্ষে বিপক্ষের প্রচারণায় নতুন আমেজ এসেছে মৌলভীবাজারের চা বাগান গুলোতে।

সরেজমিনে কয়েকটি চা বাগান ঘুরে দেখা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চাবাগানগুলো বেশ সরগরম। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাল্টে গেছে চা বাগানের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের ধরন ।

জাগছড়া চা বাগানের প্রদীপ উড়াং জানান, যারা কথা দিয়ে কথা রাখবে তাদেরকেই ভোট দেব। আমাদের বেতন বাড়ানোর পক্ষে যে থাকবে তাকেই ভোট দেব।

শ্রমিকরা অভিযোগ করে জানান, প্রতি বছর ভোটের সময় প্রার্থীরা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোটের পর তাদেরকে আর মনে রাখেন না। স্বাধীন দেশে তারা পরাধীন ,স্বাধীনতার জন্য অনেক চা-শ্রমিক জীবন দিয়েছেন কিন্তু এই স্বাধীন দেশে তাদের নিজের এক খণ্ড ভূমির মালিকানা নেই।

সারা জীবন ভোট দিয়ে গেলাম আমাদের কি হল শীর্ষক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে মাজদিহী চা বাগানের প্রবীণ চা শ্রমিক প্রদীপ চাষা বলেন, ভোটের সময় আসলেই শুনি আমাদের বেতন বাড়বে, ভূমির অধিকার পাব । কেউ দাাদ ডাকে কেউ কাকা ডাকে কিন্তু ভোট শেষে সাহেবদের দেখা মেলে না।

শ্রমিক নেতারা বলছেন আমরা আর প্রার্থীদের কথায় আস্থা রাখতে পারছি না আমাদের দাবি-দাওয়া এবং চাওয়া পাওয়ার ব্যাপারে দল বা জোটের প্রধানদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি চাই ।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাম ভজন কৌরী দেশ রূপান্তরকে জানান, প্রার্থীদের প্রতি আমরা আর আস্থা রাখতে পারছি না। আমরা অমানবিক জীবন যাপন করি,নির্বাচন আসলেই যে প্রতিশ্রুতি আমরা পাই নির্বাচনের পরে তার বাস্তবায়ন দেখি না। আমাদের বেতন বৃদ্ধি, ভূমির অধিকার, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মত মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তার প্রতিশ্রুতি দলীয় প্রধান বা জোটের প্রধানের কাছ থেকে চাই।