কৈশোরে নিপীড়নে বাড়ে আত্মহত্যার ঝুঁকি|111576|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
কৈশোরে নিপীড়নে বাড়ে আত্মহত্যার ঝুঁকি
রূপান্তর ডেস্ক

কৈশোরে নিপীড়নে বাড়ে আত্মহত্যার ঝুঁকি

কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে যারা অবহেলা, কটূক্তি, পারিবারিক সহিংসতা এবং যৌন নিপীড়নের শিকার হয়Ñ তাদের আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। লন্ডনের কিংস কলেজের এক গবেষণায় এমন ফলাফলই মিলেছে। এসবের সঙ্গে আত্মসম্মান বোধের অভাব কিংবা পরিবারের সমর্থন না থাকার বিষয়ও প্রভাব ফেলে থাকে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কৈশোরে এসব জটিলতায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানোর পদক্ষেপ নিলে তাদের আত্মহত্যার প্রবণতা রোধ করা যেতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। পৃথিবীজুড়েই কিশোরদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ আত্মহত্যা এবং আত্মপীড়ন।

গত বছর প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান থেকে এমন চিত্রই পাওয়া যায়। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আত্মহত্যা এবং আত্মপীড়নের কারণে আনুমানিক ৬৭ হাজার অকালমৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই প্রকল্পের প্রধান গবেষক কিংস কলেজ লন্ডনের জেসি বেল্ডউইন বলেন,‘কৈশোরে নির্যাতনের ঘটনা কিশোরদের আত্মপীড়ন, আত্মহত্যা এবং এর চেষ্টার ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে যারা বাজে ব্যবহার, কটূক্তি, সাইবার বুলিং বা অন্যান্য নিপীড়নের শিকার হয়।’ আমেরিকান একাডেমি অব চাইল্ড অ্যান্ড এডোলোসেন্ট সাইকিয়াট্রি নামের জার্নালে গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।

২০১৫ সালের হিসাবে সড়ক দুর্ঘটনা, শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ এবং গর্ভকালীন জটিলতাজনিত মৃত্যুর পর কৈশোরকালীন মৃত্যুর পেছনে আত্মহত্যা এবং আত্মপীড়নকে মূল কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়। ইউরোপ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতেও এগুলো কিশোর মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। আত্মপীড়নের প্রবণতা কিছুটা পরিণত বয়সীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। বিশ্বব্যাপী পরিণত কিশোরীদের মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ হলো এই আত্মহত্যা ও আত্মপীড়ন।

এ নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা চালানো হয়। ১৯৯৪-৯৫ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে জন্ম নেওয়া দুই হাজার ২৩২ জন যমজকে দীর্ঘমেয়াদে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। সেখানে তাদের বিভিন্নভাবে এবং ব্যাপক হারে নিপীড়নের শিকার হওয়ার প্রমাণ মেলে। তাদের বয়স ১৮ বছর হলে তখন তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া কৈশোরকালীন বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের বিষয়ে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সেসব ঘটনার মধ্যে ছিল- নির্যাতন, অবহেলা, যৌন নিপীড়ন, পারিবারিক সহিংসতা, ভাই বা বোনের দ্বারা নির্যাতন, সাইবার নিপীড়ন ইত্যাদি।

গবেষণায় দেখা যায়, এক-তৃতীয়াশ কিশোর-কিশোরী তাদের ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সের মধ্যে অন্তত একবার গুরুতর নির্যাতন বা নিপীড়নের শিকার হয়। আর অন্তত ৭ শতাংশ দুই থেকে তিন ধরনের গুরুতর নিপীড়নের শিকার হয়। প্রায় এক পঞ্চমাংশের (১৮.৯ শতাংশ) ক্ষেত্রে ছিল কিছু ক্ষতিকারক চিন্তা ও আচরণ।

যেসব কিশোর-কিশোরীর ক্ষেত্রে এমন বিষয় ঘটেনি তাদের তুলনায় নির্যাতনের শিকার হওয়া কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে নেতিবাচক চিন্তাভাবনা বেশি ছিল। যারা অতিরিক্ত নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে আত্মপীড়নের ঝুঁকি দ্বিগুণ বেড়েছে এবং আত্মহত্যার চেষ্টার ঝুঁকি বেড়েছে তিনগুণ।

তিন বা ততোধিক ধরনের নিপীড়নের শিকারে আক্রান্তের প্রায় অর্ধেক কিশোর আত্মঘাতী ভাবনা এবং আত্মনিপীড়নের সম্মুখীন হয়েছিল। আর এর এক-চতুর্থাংশ আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। পারিবারিক এবং ব্যক্তিগতভাবে এই ঝুঁকি মোকাবিলার পরও অনেকের ক্ষেত্রে আত্মঘাতী ভাবনা বা আত্মপীড়নের প্রবণতা বাড়তে দেখা গেছে, যদিও তারা আত্মহত্যার চেষ্টা আর করেনি।

নিপীড়ন থেকে কিশোর-কিশোরীদের রক্ষার কিছু উপায় গবেষণায় উঠে আসে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুলভিত্তিক কটূক্তি নিরোধে পদক্ষেপ, পারিবারিক সহায়তা কর্মসূচি এবং কমিউনিটিতে সুরক্ষা উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের আত্মঘাতী ভাবনা ও কাজে ক্ষতির সম্ভাবনা হ্রাস করা। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে বয়োসন্ধিকালের অকালমৃত্যু ঠেকানোর সঙ্গে আগে থেকে বিদ্যমান সমস্যারও মোকাবিলা করতে হবে।