ভারসাম্যের লড়াই দেখার অপেক্ষায়|111600|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
ভারসাম্যের লড়াই দেখার অপেক্ষায়
ক্রীড়া প্রতিবেদক

ভারসাম্যের লড়াই দেখার অপেক্ষায়

সাবেক সতীর্থের সঙ্গে হঠাৎ দেখা, গতকাল দলের অনুশীলন না থাকায় সাকিব ফিরছিলেন হোটেল রুমে আর কেসরিক উইলিয়ামস যাচ্ছিলেন অনুশীলনের উদ্দেশ্যে। রিসেপশনের সামনে দেখা হওয়ায় সৌহার্দ্য বিনিময় করে নিলেন দুজন। ২০১৭ ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে জ্যামাইকা তালাওয়াহসে একসঙ্গে খেলেছিলেন তারা _নাজমুল হক, সিলেট থেকে

কেবল অতীত গরিমা দিয়ে কি আর ম্যাচ জেতা যায়। গেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টি-টুয়েন্টি সিরিজে নিশ্চিত ফেভারিট বলা যেত। ওয়ানডে এবং টেস্ট সিরিজও একপেশে হতো না। অন্তত বাংলাদেশের সঙ্গে লড়াই করত তারা। বাস্তবে এসবের কিছুই হয়নি। কারণ এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের (পড়ুন আশি-নব্বইয়ের দশকের) ফসিল মাত্র। উত্তরাধিকারী হওয়ার যোগ্যই নয়। তবে প্রচলিত ধারণা টি-টুয়েন্টিতে এখনো ক্যারিবীয়রা অন্যরকম। পরিসংখ্যান এ ধারণার পক্ষেই সাখ্য দেয়। আবার দেয়ও না।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-টুয়েন্টি পরিসংখ্যানে হার-জিতের হিসাব সমান সমান। দুই দেশ মোট নয়টি ম্যাচ খেলেছে। প্রত্যেকেই জিতেছে চারটি করে ম্যাচ। একটি পরিত্যক্ত। তবে সর্বশেষ দুটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচের দুটিতেই জিতেছে বাংলাদেশ। এই তথ্য একটু হলেও এগিয়ে রাখবে স্বাগতিকদের। এই বছর ফ্লোরিডার সেন্ট্রাল ব্রোওয়ার্ড রিজিওনাল পার্কে ৪ আগস্ট একটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিল দুই দল। ১২ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ। ম্যাচসেরা হয়েছিলেন তামিম ইকবাল। তার ৭৪ আর সাকিব আল হাসানের ৬০ রানের ওপর ভর করে ৫ উইকেটে ১৭১ রানের স্কোর গড়ে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। জবাবে ৯ উইকেটে ১৫৯ রানে থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একই মাঠে পরের ম্যাচেও হেরেছিল ক্যারিবিয়ানরা। ফ্লোরিডার দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিতে লিটন দাসের ঝড়ো ৬১ রানে ভর করে ১৮৪ রানের বড় স্কোর গড়ে বাংলাদেশ। এরপর বৃষ্টি নামে। ফলে টার্গেট বেঁধে দেওয়া হয় ১৭.১ ওভারে ১৫৫ রানের। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭ উইকেটে ১৩৫ রান করতে পেরেছিল। বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ। সর্বশেষ দুটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচের স্মৃতিই হয়তো সোমবার সিলেটের লড়াইয়ে সাকিবদের মনোবল বৃদ্ধি করবে। তবে দুদলের মুখোমুখি লড়াইয়ের হিসাব এবং শেষ দুটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচের স্মৃতি যে ইঙ্গিতই দিয়ে থাকুক না কেন, ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ক্যারিবীয়রা এখনো শক্তিশালী দল। দুবার টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে তারা। এ ফরম্যাটে তাদের সাফল্যের হারও প্রায় ফিফটি-ফিফটি। ১০৪ ম্যাচে ৪৮টি জয়। হার ৫১টিতে। একটি টাই। অন্য চারটি ফলশূন্য। ক্যারিবিয়ানদের তুলনায় টি-টুয়েন্টিতে বাংলাদেশের সার্বিক রেকর্ড সাদামাটা বলতে হবে। এ পর্যন্ত খেলা ৮২টি ম্যাচে সাকিবরা জিতেছে মাত্র ২৫টিতে। হার ৫৫ ম্যাচে। বাকি দুটি ফল শূন্য। একটা মজার তথ্য হলো, ঘরের চেয়ে বাইরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় বেশি। ২০১১ সালে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে একবার মাত্র ক্যারিবীয়দের টি-টুয়েন্টিতে হারাতে পেরেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ২৬ বলে ৪১ রানের ইনিংসে খেলেছিলেন। মিরপুরের ঘরের মাঠে বাংলাদেশ এরপর দুটি ম্যাচ ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে খেলে দুটিতেই হেরেছিল। বিজয় দিবসের পরের দিন সিলেট থেকে কি পরিস্থিতি বদলানো শুরু করবে? যে ফর্মে টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ তাতে আশাবাদী হওয়ায়ই যায়। কিন্তু লড়াইটা টি-টুয়েন্টি বলেই একটু সংশয় থেকে যাচ্ছে। বর্তমান ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে বেশ কিছু প্রতিভাবান হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান আছেন। এভিন লুইস ও শিমরন হেটমায়ার নিজেদের দিনে একাই ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখেন। তাছাড়া শেই হোপ, ড্যারেন ব্রাভোরা আছেন। গতিঝড় তোলার জন্য আছেন ওশান থমাস। কাজেই টি-টুয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। আর নেই বলেই আশা করা যায় সিলেটে সোমবারের প্রথম ম্যাচটি লড়াই হবে সমানে সমান। ব্যাটিংয়ের ঝড় তোলার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছেন সাকিব-তামিম- মুশফিক- সৌম্য-লিটনরা। বল হাতে প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করার জন্য প্রস্তুত মিরাজ-মোস্তাফিজরা। সিলেটে তাই ভারসাম্যপূর্ণ লড়াই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীরা।