লাগাতার হামলা-বাধার মুখে বিরোধী প্রার্থীরা|111689|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
লাগাতার হামলা-বাধার মুখে বিরোধী প্রার্থীরা
রূপান্তর ডেস্ক

লাগাতার হামলা-বাধার মুখে বিরোধী প্রার্থীরা

হামলার প্রতিকার চেয়ে টাঙ্গাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিসে অবস্থান ধর্মঘটে লতিফ সিদ্দিকী

রাজধানীসহ সারা দেশে নির্বাচনী সহিংসতা চলছেই। গতকাল রোববারও বিভিন্ন স্থানে হামলা, সংঘর্ষে শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে নগরীতে বিজয় দিবসে শোভাযাত্রা করার সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমানের ওপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর গাড়িবহরে হামলা হয়েছে।
গতকাল সকালে নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুকের গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুপুর ১২টার দিকে নরসিংদী পাঁচদোনা বাজারে নির্বাচনী প্রচারকালে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের গাড়িবহরে হামলা হয়েছে।
এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ১৩ ডিসেম্বর পাবনায় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদের গাড়িবহরে হামলা হয়। ১৪ ডিসেম্বর  মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়ে বের হওয়ার সময় ড. কামালের গাড়িবহরে হামলা হয়। গত শনিবার নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি বাজারে সংঘর্ষের সময় বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন গুলিবিদ্ধ হন। একই দিন রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের ওপর হামলা হয়।
বিএনপিপ্রধান সরকারবিরোধী জোটের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই এসব হামলা চালিয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, নির্বাচন বানচাল করার মিশন নিয়ে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিএনপিই এসব হামলার নাটক মঞ্চায়ন করছে।
গতকাল সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে বিএনপির প্রার্থী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের গাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভোলা ২ আসনের বিএনপি প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিম এলাকায় আসাকে কেন্দ্র করে বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ-বিএনপি কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। গত শনিবার সন্ধ্যা ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম-১৪ আসনে নির্বাচনী প্রচারের সময় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক এলডিপি প্রার্থী কর্নেল অলি আহমদের  ছেলে ওমর ফারুক সানির ওপর হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
বিস্তারিত  আমাদের আঞ্চলিক অফিস, নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো  খবরে নোমানের বিজয় র‌্যালিতে হামলা : চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর নয়াবাজার এলাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আবদুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বাধীন বিজয় র‌্যালিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়ায় আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কখনো তিনি এ ধরনের হামলার শিকার হননি।
ঘটনার বর্ণনা দিতে বিকেল সাড়ে ৫টায় নগরীর কাতালগঞ্জের নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন আবদুল্লাহ আল নোমান। তিনি বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মহান বিজয় দিবসে এ বিজয় র‌্যালির আয়োজন করেছিলেন তিনি। এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনকেও আগে থেকে অবহিত করা হয়েছিল। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বিকেল সাড়ে ৩টায় র‌্যালি শুরুর প্রাক্কালে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. আফসারুল আমীনের ভাই ও আওয়ামী লীগ নেতা সুমনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের লোকজন তাদের ওপর অস্ত্র, রিভলবার ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়।
দেশে নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ নেই উল্লেখ করে বিএনপি নেতা নোমান বলেন, চট্টগ্রামসহ বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে দেওয়া হচ্ছে না। একের পর এক হামলা হচ্ছে। এ অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন আদৌ হবে কি না তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত বলে জানান।
আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর গাড়িবহরে হামলা : টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে নির্বাচনী প্রচারের সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রোববার দুপুরে কালিহাতীর গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের সরাতৈল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার বিচারের দাবিতে তিনি রোববার ২টা থেকে টাঙ্গাইলের জেলা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিসের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন।
আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, প্রতিদিনের মতোই  সকাল থেকে  নির্বাচনী প্রচারণা করতে সকালে তার বাসা থেকে বের হন। দুপুরের দিকে কালিহাতীর গোহালিয়াবাড়ি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে যাওয়ার সময় সেখানকার স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বর্তমান সংসদ সদস্য হাসান ইমাম খানের ইন্ধনে তার গাড়িবহরে হামলা করে। এতে তার ব্যক্তিগত গাড়িসহ আরো তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ সময় ইটপাটকেলের আঘাতে তার কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়।
তিনি আরো বলেন, যে পর্যন্ত নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন।
হাজারী-লতিফ সিদ্দিকীর সমর্থকদের সংঘর্ষ : টাঙ্গাইলের কালিহাতীর বল্লভবাড়ী এলাকায় টাঙ্গাইল-৪ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
লতিফ সিদ্দিকীর দাবি, তার সমর্থকরা কিছু করেনি। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরাই তার গাড়িবহরের ওপর হামলা চালায়। সোহেল হাজারীর সমর্থকরা তার গাড়িবহরের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করে। তিনি বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনার পর প্রায় এক ঘণ্টা তাকে এবং তার প্রচারণা দলকে ঘটনাস্থলে অবরোধ করে রাখা হয়।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী দল থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর এবারই প্রথম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ‘নৌকা’ প্রতীকের সোহেল হাজারীর বিরুদ্ধে নির্বাচনের জন্য মাঠে নামেন।


জয়নুল আবদিন ফারুকের গাড়িবহরে হামলা : নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুকের গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। এতে এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সময় দুর্বৃত্তরা উপজেলা বিএনপি অফিস ভাঙচুর ও পোস্টারে অগ্নিসংযোগ করে।
জয়নুল আবদিন ফারুক জানান, রোববার সকালে বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে তিনি উপজেলা সদরে ফুল দিতে যান। এ সময় সেনবাগ বাজারের কাছে রাস্তার ওপর তাদের গাড়িবহরে এ হামলা চালানো হয়। তিনি ঘটনার নিন্দা জানান এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
ড. আব্দুল মঈন খানের গাড়িবহরে হামলা : বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খানের গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার জানিয়েছেন, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পক্ষ থেকে এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, রোববার বেলা ১২টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাঁচদোনা বাজারে নির্বাচনী প্রচারকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, হামলাকারীরা গুলিবর্ষণ করতে করতে গাড়িবহরের সামনে এসে কুড়াল, রামদা, চাপাতি, রড, হকিস্টিক দিয়ে আক্রমণ করে।
নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ড. আবদুল মঈন খান জানান, নির্বাচনী এলাকা পাঁচদোনা বাজারে নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ করতে যান তিনি। তিনি পাঁচদোনা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের শতাধিক নেতাকর্মী আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মঈন খানের ওপর হামলা চালায়। ওই সময় নেতাকর্মীরা মানবপ্রাচীর তৈরি করে ড. মঈন খানকে রক্ষা করে। হামলাকারীদের অস্ত্রের আঘাতে বিএনপির ৫০ নেতাকর্মী আহত হয়। তাদেরকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এই ব্যাপারে জানতে চাইলে পাঁচদোনা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ইউসুফ আহাম্মেদ বলেন, দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নরসিংদী-২ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপ বলেন, ‘ড. মঈন খান সন্ত্রাসের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা আমাদের ওপর তিনটি হামলা চালিয়েছে, নির্বাচনী অফিসে ককটেল বিস্ফোরণ করেছে, ভাঙচুর করেছে। তার ভিডিও প্রমাণসহ প্রশাসনের নিকট অভিযোগ করেছে। তারা পায়ে পাড়া দিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে।’
ঝালকাঠিতে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ভাঙচুর : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত  শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় রাজাপুর বাইপাসসংলগ্ন বিএনপি প্রধান কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়েছে।
উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও রাজাপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাকারিয়া সুমন বলেন, ‘সন্ধ্যা ৭টার দিকে হঠাৎ করে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের প্রধান কার্যালয়ে ঢুকে টেলিভিশনসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ও অবস্থানরত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।’
উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হাসান বাপ্পী মৃধা বলেন, ‘শুনেছি বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর হয়েছে তবে কারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না ।  
এ বিষয় জানতে চাইলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা বেগম পারুল বলেন, ‘বিএনপি কার্যালয়ে হামলা হয়েছে শোনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’  
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুর, আহত কয়েকজন : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের গাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে শ্যামলসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন জানান, বিজয় দিবস উপলক্ষে রোববার সকালে বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের স্মৃতিসৌধে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ফুল দিতে যান বিএনপি প্রার্থী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। ফুল দিয়ে ফেরার পথে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের ভবনের সামনের সড়কে ছাত্রলীগ-যুবলীগের কয়েকশ নেতাকর্মী অতর্কিত শ্যামলের গাড়িতে লাঠিসোটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এতে প্রার্থী শ্যামল, গাড়িচালক মোস্তফাসহ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
বিজয়নগর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফয়জুন্নাহার টুনি অভিযোগ অস্বীকার করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বিজয় মিছিল করছিলাম। সে সময় একটা গাড়ি আমার মিছিলের ভেতরে প্রবেশ করে। এটা বিএনপির প্রার্থী, নাকি অন্য কারো গাড়ি ছিল, তা জানি না। গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে কি না, সেটিও জানি না। তবে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মী গাড়ি ভাঙচুর করেনি।’
এ ব্যাপারে বিজয়নগর থানার ওসি নবীর হোসেন বলেন, ‘তিনি গাড়ি রেখে নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে ফিরে এসে দেখেন কে বা কারা বাম পাশের গ্লাসটি ভেঙে ফেলেছে। আমরা উপজেলা কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকায় বুঝতে পারিনি। তদন্ত চলছে।’
জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন প্রথম আলাকে বলেন, ‘বিভিন্নজন বিভিন্ন কথা বলেছেন। বিষয়টি শুনেছি। আওয়ামী লীগের লোকজন বিজয় মিছিল করছিল বলে শুনেছি। তবে বিএনপির প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ।’
বোরহানউদ্দিনে আ. লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ : ভোলা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিম এলাকায় আসাকে কেন্দ্র করে বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ-বিএনপি কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় হামলা ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় দলের অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। গতকাল বোরবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সাংবাদিকদের ওপর হমলা ও ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। আহতরা ভোলা সদর ও বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিএনপি প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিম জানান, তিনি ঘটনার কথা শুনেছেন। টবগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুলের নেতৃত্বে আমার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। এ সময় ১২ বিএনপি কর্মী আহত হয়েছে। এ ছাড়া দৌলতখানে বিএনপিকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ।
এদিকে, দুপুওে ভোলা-২ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলী আজম মুকুল তার বোরহানউদ্দিনের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিএনপি প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিম এলাকায় এসেই আবার ২০০১-এর মতো সন্ত্রাসী তা-বলীলা শুরু করেছে।
এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অসীম কুমার সিকদার জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক-লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী কর্নেল অলি আহমদেও ছেলে ওমর ফারুক সানির ওপর হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।  গত শনিবার দুপুরে সাতকানিয়া থানার তেমুহনী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় কেওচিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু সাঈদ, তার বড় ভাই আব্দুস সালাম, ছেলে আব্দুল গফুরসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল কবির দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।