চীনকে উপদেশ দিতে আসবেন না: শি জিনপিং|111818|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৬:৫২
চীনকে উপদেশ দিতে আসবেন না: শি জিনপিং
অনলাইন ডেস্ক

চীনকে উপদেশ দিতে আসবেন না: শি জিনপিং

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি: পিপলস ডেইলি।

বিশ্বের অন্যান্য জাতির উপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায় না চীন। মঙ্গলবার চীনের অর্থনৈতিক সংস্কারের ৪০ বছর পুর্তিতে দেওয়া ভাষণে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এমনটা বলেছেন। সেইসঙ্গে চীনকে উপদেশ না দেয়ার জন্যও অন্যদের সতর্ক করে দেন তিনি।

গার্ডিয়ান জানিয়েছে, চীনের জনগণের কী করা উচিত আর কী করা উচিত না সেটি বলার জন্য সে অবস্থান কারো তৈরি হয়নি বলেও মন্তব্য করেছেন জিনপিং।

চার দশক আগে চীনের নেতা দেং জিয়াওপিং ‘অর্থনৈতিক সংস্কার’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই সংস্কারের ফলে মাও সেতুংয়ের অর্থনৈতিক পন্থা থেকে সরে আসে চীন। সামষ্টিক মালিকানার জায়গায় ব্যক্তিমালিকানা ব্যবস্থা শুরু হতে থাকে।

বিবিসি জানায়, অর্থনৈতিক অগ্রগতি প্রশ্নে শি জিনপিং চীনের পররাষ্ট্রনীতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ভবিষ্যত পৃথিবীর মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করতে চায় চীন, কখনোই বৈশ্বিক কর্তৃত্ব করতে চায় না।”

গত চার দশকে কৃষি, বেসরকারি খাত, শিল্প আধুনিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চীন ব্যাপক সফলতা পেয়েছে। এই সফলতাকে শি জিনপিং পেছনের ভুল শুধরে এগিয়ে যাওয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

তিনি বলেন, “আমাদের কী করা উচিত এবং কোথায় পরিবর্তন আনতে হবে সেইসঙ্গে কী করা উচিত নয় এবং কোথায় পরিবর্তন করতে হবে না উভয়দিকেই সংস্কারে অটল থাকতে হবে।”    

তবে নিজের দেশেই কঠোর রাষ্ট্রনীতির কারণে বেশ সমালোচিত প্রেসিডেন্ট। সমালোচকরা বলছেন, চীন অভ্যন্তরীন ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দিচ্ছে।

দীর্ঘ বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি। বিশ্লেষকরা এর কারণে হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান বাণিজ্য যুদ্ধবিরতিকে সামনে আনেন।

সিএনএন বলছে, চীন বৈশ্বিক রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করতে না চাইলেও আন্তর্জাতিক ‘প্রযুক্তি’ বাজারে একচেটিয়া দখলদারিত্ব চাইছে। অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে চীন ২০১৫ সালে দশ বছর মেয়াদি ‘মেইড ইন চায়না ২০১৫’ প্রকল্প ঘোষণা করেছিল। এই প্রকল্পের আওতায় ইলেকট্রিক গাড়ি, বিমান এবং আধুনিক চিকিৎসা উপকরণ তৈরির মত পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।

তবে ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে কানাডা সরকার চীনা কোম্পানি হুয়াওয়ের কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে প্রযুক্তি বাজারে চীনের আধিপত্য রুখতে চাইছে ওয়াশিংটন। এক্ষেত্রে চীনও নমনীয় নীতি গ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী লড়াইয়ে যেতে চাইছে না। কয়েকদিন আগেই বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মাঝে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন কিনেছে চীন।

এডিনবার্গ ইউনিভার্সিটির পলিটিক্যাল ইকোনোমির প্রভাষক ক্রিস্টিন হোপওয়েলের মতে,“বেইজিং শিল্প এবং প্রযুক্তি খাতে আধিপত্য বিস্তারের পরিকল্পনা থেকে পিছু হটেনি, কিন্তু আপাতত ওয়াশিংটনকে তারা সন্তুষ্ট করতে চাইছে। কোনো পরিবর্তন হলে তা বাহিরে, কিন্তু প্রকৃত অর্থে কোনো পরিবর্তন হবে না।”

‘মেইড ইন চায়না ২০২৫’ ঘোষিত হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধের নিশানায় পরিনত হয় এই প্রকল্প। গত সপ্তাহেই বেইজিং স্থানীর সরকারকে সকল দাপ্তরিক কাগজপত্রে ‘মেইড ইন চায়না ২০২৫’ লিখতে মানা করে দিয়েছে।