নির্বাচন করা হচ্ছে না খালেদা জিয়ার|111831|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৮:৩৩
নির্বাচন করা হচ্ছে না খালেদা জিয়ার
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচন করা হচ্ছে না খালেদা জিয়ার

তিন নির্বাচনী আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচন করা হচ্ছে না। নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রশ্নে তার পক্ষে করা পৃথক তিনটি রিট আবেদন মঙ্গলবার খারিজ করে দেন বিচারপতি জে বি হাসানের একক বেঞ্চ।

এর আগে এই বেঞ্চের প্রতি বিএনপির চেয়ারপারসনের আইনজীবীদের করা অনাস্থার আবেদন সকালে খারিজ করে দেন এই আদালত। পাশাপাশি রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের নির্দেশ দেন আদালত।

তবে, শুনানি না করে আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান বিএনপির চেয়ারপারসনের আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, বদরুদ্দোজা বাদলসহ অন্যরা। একপর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে  মাহবুবে আলম ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজুর বক্তব্য শোনেন আদালত।

এরপর রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেন বিচারপতি জে বি এম হাসান। এই আদেশের ফলে খালেদা জিয়া আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

ইসিতে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর হাইকোর্টে তার পক্ষে রিট আবেদন করা হয়। রিটের শুনানি নিয়ে খালেদা জিয়ার মনোনয়নের বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে গত ১১ ডিসেম্বর বিভক্ত আদেশ হয়।

এর মধ্যে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত ও খালেদা জিয়ার মনোয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশনা দিয়ে রুল জারি করলেও বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. ইকবাল কবির তাতে দ্বিমত পোষণ করেন।

পরদিন বিচারপতি জে বি এম হাসানের একক বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানির জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি। গত বৃহস্পতিবার এই আদালতের প্রতি মৌখিকভাবে অনাস্থার কথা জানান খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। আদালত এ বিষয়ে লিখিত আবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার আদেশ শেষে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না তা জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ১০ বছর ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া- ৬ ও ৭ এবং ফেনী- ১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়।

যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। পরে রিটার্নিং কর্মকর্তার ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করা হলে গত ৮ ডিসেম্বর ইসিতে শুনানি শেষে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে খালেদা জিয়ার আপিল খারিজ করে দেয় নির্বাচন কমিশন।

পরে ইসির ওই সিদ্ধান্ত স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।