হাসপাতালেই আত্মহত্যা করলেন লিলি |111855|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২১:৫৯
হাসপাতালেই আত্মহত্যা করলেন লিলি
নিজস্ব প্রতিবেদক

হাসপাতালেই আত্মহত্যা করলেন লিলি

দীর্ঘ ছয়বছর মরণব্যাধী ব্রেস্ট ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে অবশেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন শাহনাজ বেগম লিলি (৪২)। গতকাল মঙ্গলবার ভোর রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ক্যান্সার ভবনে নিজের গলা কেটে আত্মহত্যা করেন লিলি। চিকিৎসা নিয়ে দীর্ঘ দিনের হতাশা আর কেমোথ্যারাপির যন্ত্রণা থেকে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি পরিবারের। 

লিলির ভাগিনা হুমায়ন কবির জানান, ২০১৩ সালে লিলির বেস্ট ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে গত কয়েক বছর ভালো ছিলেন লিলি। হঠাৎ আবার অসুস্থ হয়ে পরলে গত ৯ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগে ভর্তি করা হয়। লিলির সাথে তার বোন সুরাইয়াও হাসপাতালে থাকতেন। 

গতকাল ভোর পৌনে ৫ টার দিকে ৫২৭ নম্বর কক্ষে আত্মহত্যা করে লিলি। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠায় বলে জানান তিনি। 

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার পাটধা পাঠালিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী লিলি। তিনি ২ ছেলের জননী। স্বামী রফিকুল ইসলাম স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সচিব। লিলি নিজে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। 

লিলির বোন সুরাইয়া বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে লিলি কিছু খাচ্ছিলেন না। তার শরীরে স্যালাইন চলছিলো। গত সোমবারও তাকে কেমথেরাপি দেওয়া হয়েছিলো। কেমথেরাপি দেওয়ার পর থেকেই লিলি যন্ত্রণায় কাতরাতেন।

ক্যান্সারের মত মরণব্যাধি আক্রান্তদের কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে এধরনের আত্মহত্যা রোধ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ও ব্রেস্ট ক্যান্সার এওরনেস প্রোগ্রামের সমন্বয়ক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাজকিন। 

দেশ রূপান্তরকে বলেন, ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীরা মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পরে। চরম হতাশা থেকে অনেক সময় তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। 
 
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ বেলাল হোসেন বলেন, গত তিন চারদিন লিলি ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন। গলার যখম থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

শাহবাগ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মশিউর রহমান জানান, আত্মহত্যার খবর পেয়ে সকাল ৯ টায় হাসপাতাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি নিজের গলায় নিজে চালিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়না তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।