অপেক্ষা ও আক্ষেপ ঘোচানোর ম্যাচ|111884|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
অপেক্ষা ও আক্ষেপ ঘোচানোর ম্যাচ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

অপেক্ষা ও আক্ষেপ ঘোচানোর ম্যাচ

একটি দলের সামনে পাঁচ বছর পর স্বাধীনতা কাপের ফাইনাল খেলার হাতছানি। আরেকটি দলের অপেক্ষাটা ১৩ বছরের। খেলতে পারার অপেক্ষাটা তাদের কাছে আক্ষেপও। তো, আজ কার ফুরাবে এই অপেক্ষা? কে ঘোচাবে আক্ষেপ? জানতে আজ চোখ রাখতে হবে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে। যেখানে সাবেক চ্যাম্পিয়ন শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লড়বে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে।

শেখ রাসেল ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন। তার আগের বছর তারা হেরেছিল ফাইনালে। অন্যদিকে ব্রাদার্স একবারই খেলেছে এই আসরের ফাইনাল। ২০০৫ সালের সেই ফাইনালে তারা মুক্তিযাদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের কাছে হেরে যায় ২Ñ০ গোলের ব্যবধানে। দুটি দলই অবশ্য অতীতাশ্রয়ী হয়ে আজ মাঠে নামবে না। রাসেল কোচ সাইফুল বারী টিটু তো হপ্তাখানেক আগের অতীতকেও ভুলে যেতে চাইছেন। তার চোখ এখন বর্তমান আর নিকট ভবিষ্যতে। বর্তমান বলতে অভিজ্ঞ এই কোচের ভাবনায় পুরোটা জুড়েই আজকের ম্যাচ। যেটা জিতে তিনি পা রাখতে চান ২৪ ডিসেম্বরের ফাইনাল। ‘একেবারে নতুন একটা ম্যাচের চিন্তা নিয়েই কাল মাঠে নামবে আমাদের ছেলেরা। কোয়ার্টার ফাইনালে চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে ম্যাচটা এখন অতীত। আমরা খেলতে নামব ফাইনালে চোখ রেখে। প্রতিপক্ষ যেই হোক ছেলেদের দায়িত্ব একটাই নিজেদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করা।’ গত ম্যাচে ২Ñ০ গোলে জয়টা টিটুর কাছে অনেক স্বস্তির। কারণ তাদের কোয়ার্টারে উঠে আসা গ্রুপে কোনো গোল না করেই। দলের আক্রমণভাগ যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন স্বপ্নের লাগামে টান পড়ে। এটা জানেন বলেই নিজের স্ট্রাইকারদের কাছ থেকে গত ম্যাচের পারফরম্যান্সটাই চাওয়া সাবেক এই তারকার। ‘রাফায়েল ওদোইনকে নিয়ে চিন্তা ছিল। গত ম্যাচে সে গোল করেছে। কিন্তু এই গোলের অভ্যেসটা ধরে রাখতে না পারলে তো কোনো লাভ হবে না। আমার চাওয়া একটাই গোলের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হবে। ব্রাদার্স যোগ্য হিসেবেই সেমিফাইনালে উঠেছে। আর এ ধরনের ম্যাচে সামর্থ্যে ব্যবধান আসলে খুব বেশি থাকে না। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। রক্ষণে আমরা ভালোই করছি। এই ম্যাচেও সেটা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গোল করতে হবে, ’ বলছিলেন টিটু।

ব্রাদার্সের খেলায় পরিবর্তনটা লক্ষ করা গেছে এই টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই। মৌসুমের শুরুর আসর ফেডারেশন কাপ দলটি খেলেছে পেরুর এই কোচের তত্ত্বাবধানে। সেই কোচ নিজেকে প্রমাণে ব্যর্থ হয়ে চাকরি হারিয়েছেন। ব্রাদার্স এরপর ভরসা রেখেছেন তাদের দীর্ঘদিনের সুহৃদ ভারতীয় কোচ সৈয়দ নঈমউদ্দিনের ওপর। অভিজ্ঞ এই কোচ এসেই যেন দলটাকে জাগিয়ে তুলেছেন। তার ছোঁয়াতে ফর্মের তুঙ্গে থাকা আবাহনীর সঙ্গে ড্র করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে আসে গোপীবাগের দলটি। এরপর টুর্নামেন্টের সেরা ম্যাচ উপহার দিয়ে তারা বিদায় দিয়েছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন আরামবাগকে। এখন তাদের সামনে ১৩ বছরের আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ। সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে বদ্ধপরিকর দলটিকে আশায় বুক বেঁধেছেন দলীয় ম্যানেজার আমের খান। সাবেক এই ফুটবলার শোনালেন সেই আশার কথাই, ‘ফেডারেশন কাপে আমাদের প্রস্তুতি তেমন ভালো ছিল না পেরুর কোচের তত্ত্বাবধানে। নঈম দার অধীনে প্রস্তুতি ভালো হওয়াতে আমরা সেমিফাইনালে উঠে এসেছি। এটাকে ধরে রাখতে পারলে আমাদের পক্ষে ফাইনালে খেলা সম্ভব।’ আমের খান মনে করেন রাসেলের সবচেয়ে বড় শক্তি জমাট রক্ষণ, ‘তারা এখনো কোনো গোল হজম করেনি। বোঝাই যায় রক্ষণভাগ বেশ শক্তিশালী তাদের।’

সেমিফাইনাল বলেই সামর্থ্যে বিচারটা গৌণ। তাই আরেকটা জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা করাই যায়।