ভুল হলে ক্ষমা করে দেবেন : হাসিনা|111894|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
ভুল হলে ক্ষমা করে দেবেন : হাসিনা
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভুল হলে ক্ষমা করে দেবেন :  হাসিনা

সরকার পরিচালনায় কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা ‘ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে’ দেখার অনুরোধ জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, আবার নৌকাকে বিজয়ী করলে তিনি আরো ‘উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি’ এনে দেবেন। আর এটাই তার নির্বাচনী ওয়াদা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকার একটি হোটেলে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে এই প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। 

‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে এই ইশতেহারে আওয়ামী লীগের দলীয় অবস্থান, গত দুই মেয়াদে সরকারের সাফল্য এবং আগামী দিনের লক্ষ্য ও পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এবারের ইশতেহারে আওয়ামী লীগের ২১টি বিশেষ অঙ্গীকার এসেছে। তার শুরুতেই রয়েছে প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া এবং যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি।

৮০ পৃষ্ঠার ইশতেহারের সংক্ষিপ্তসার অনুষ্ঠানে পড়ে শুনিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষ মাত্রই ভুল হয়। কাজ করতে গিয়ে আমার বা আমার সহকর্মীদেরও ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকতে পারে। নিজের ও দলের পক্ষ থেকে আমাদের যদি কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকে, সেগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য আপনাদের প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি।’

ভোটারদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমি কথা দিচ্ছি, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আরো সুন্দর ভবিষ্য নির্মাণ করব। জাতির পিতার কাক্সিক্ষত ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’ওই সময় তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগ ‘টেকসই বিনিয়োগ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন’ নিশ্চিত করতে কাজ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ‘কথা নয়, কাজে’ বিশ্বাস করে।

নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করতে অনুষ্ঠানের মঞ্চে এসে শেখ হাসিনা প্রথমেই স্মরণ করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশকে। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ৩০ লাখ শহীদ, দুই লাখ নির্যাতিত নারী, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সন্তানদের এবং পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট নিহত বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদেরও তিনি স্মরণ করেন।

ইশতেহার ঘোষণা শেষে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ‘বাঙালি জাতির এই দুই মাহেন্দ্রক্ষণ সামনে রেখে, মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী আওয়ামী লীগই পারবে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে দিতে, পারবে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে।’

গৌরবের এই সময়কালে স্বাধীনতাবিরোধী কোনো শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলে তা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে ‘গ্লানিকর’ হবে বলেও মন্তব্য করেন বঙ্গবন্ধুর মেয়ে শেখ হাসিনা। জনগণ ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ব্যালট বিপ্লবের’ মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতাসীন করবে বলে আশা করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার প্রতীক নৌকা মার্কায় বিজয় অর্জন করবে, এ বিশ্বাস আমাদের আছে। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।’ ওই সময় নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আবার আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করুন। আপনারা নৌকায় ভোট দিন। আমরা আপনাদের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জন করে দেব। এটা আমাদের জাতির কাছে ওয়াদা।’

নিজের ব্যক্তিগত কোনো ‘চাওয়া পাওয়া’ নেই মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বাবা-মা-আত্মীয়স্বজনকে হারিয়ে রাজনীতি করছি শুধু জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য। এ দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য। এ দেশের সাধারণ মানুষ যাতে ভালোভাবে বাঁচতে পারে, উন্নত জীবন পায়, তাদের জীবন সমৃদ্ধিশালী হয়, ক্ষুধা, দারিদ্র্য থেকে, বঞ্চনা থেকে তারা মুক্তি পায়।’