চলে গেলেন সাইদুল আনাম টুটুল|111907|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
চলে গেলেন সাইদুল আনাম টুটুল
দেশ রূপান্তর

চলে গেলেন সাইদুল আনাম টুটুল

জীবন কেমন হুট করেই মৃত্যুর কাছে আত্মসমর্পণ করে! জীবনানন্দ দাশ লিখেছিলেন, ‘নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয়’। অসংখ্য মানুষকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনের আরো একজন নক্ষত্র। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৩টা ১০ মিনিটে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে শেষ নিঃশাস ত্যাগ করেছেন সাইদুল আনাম টুটুল। (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। এ সময় পাশে ছিলেন তাঁর স্ত্রী মোবাশে^রা খানম। টুটুলের বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। তিনি স্ত্রী ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

এদিকে গত ৫ ডিসেম্বর শিল্পকলা একাডেমিতে সদ্য প্রয়াত চিত্রগ্রাহক আনোয়ার হোসেনের স্মরণসভায় স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রেখেছিলেন সাইদুল আনাম টুটুল। আর মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে নিজেই পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে। চিত্রগ্রাহক আনোয়ার হোসেন ছিলেন ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ সিনেমার চিত্রগ্রাহক। আর টুটুল ছিলেন সেই সিনেমার চিত্রসম্পাদক।

 দুজনই ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ সিনেমার জন্য পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। মাত্র এক মাসের মধ্যেই অন্যলোকে পাড়ি জমালেন এই দুই গুণী ব্যক্তিত্ব। চলচ্চিত্র গবেষক বেলায়াত হোসেন মামুন বলেন, কী নিদারুণ এক মাস এটা! আনোয়ার ভাইয়ের স্মরণসভায় আনোয়ার ভাইকে স্মরণ করলেন ৫ ডিসেম্বর। আর ১৮ ডিসেম্বর চলে গেলেন চলচ্চিত্র সম্পাদক, মুক্তিযোদ্ধা টুটুল ভাই।’

১৫ ডিসেম্বর রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হন সাইদুল আনাম টুটুল। তাকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকেরা তাকে লাইফ সাপোর্টে নিয়ে যান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। গুণী এই নির্মাতার মৃত্যু খবর জানার পর ল্যাবএইড হাসপাতালে ছুটে যান সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ, নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম, গাজী রাকায়েত, সালাউদ্দিন লাভলু, মাসুম রেজা, ফরিদুর রেজা সাগর, শাইখ সিরাজ, আফরোজা বানুসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেকে। নাসির উদ্দিন ইউসুফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাইদুল আনাম টুটুলের সঙ্গে কতো স্মৃতি জমা হয়েছে। ঢাকা থিয়েটারে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। টুটুল নির্মাতা, চিত্রসম্পাদক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশ একজন গুণী মানুষকে হারালো।’ নির্মাতা গাজী রাকায়েত বলেন, ‘সাইদুল আনাম টুটুল ছিলেন একাধারে নির্মাতা, চিত্রসম্পাদক ও অভিনেতা। সবাই তাকে ক্যামেরার পেছনের মানুষ হিসেবে জানলেও তিনি কিন্তু একজন তুখোর অভিনেতা। টেলিভিশনে অনেক নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন, মঞ্চনাটকে অভিনয় করেছেন। এই গুণী ব্যক্তিত্বের মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’

নাসিরউদ্দিন ইউসুফ জানান, ‘সাইদুল আনাম টুটুলের মরদেহ হিমঘরে রাখা হবে। তার দুই মেয়ে ঐশী আনাম ও অমৃতা আনাম যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। গতকাল সোমবার বড় মেয়ে ঐশী বাবার অসুস্থতার খবর শুনে ঢাকায় এসেছেন। আর ছোট মেয়ে অমৃতা বুধবার ঢাকা এসে পৌঁছাবেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হবে। এরপর বাদ জোহর ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় জামে মসজিদে জানাজার পর তাকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে। প্রাথমিকভাবে এটা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ছোট মেয়ে ঢাকায় আসার পর চূড়ান্তভাবে জানানো হবে।’

২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকারী অনুদানে ‘কালবেলা’ নামের একটি সিনেমার শুটিং করছিলেন সাইদুল আনাম টুটুল। আইন ও সালিশ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত ‘নারীর ৭১ ও যুদ্ধপরবর্তী কথ্য কাহিনি’ বই থেকে সিনেমাটির গল্প নেয়া হয়েছে। সিনেমাটির শুটিং প্রায় শেষ বলে জানান তাঁর সহকর্মীরা। টুটুল ২০০৩ সালে ‘আধিয়ার’ নামের একটি সিনেমা নির্মাণ করে প্রশংসিত হন। এছাড়া ১৯৭৯ সালে ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ সিনেমার চিত্র সম্পাদক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ‘ঘুড্ডি’, ‘দহন’, ‘দীপু নাম্বার টু’, ‘দুখাই’র মতো সিনেমার সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। বাংলাদেশের টেলিভিশন নাট্য পরিচালকদের সংগঠন ‘ডিরেক্টর’স গিল্ডের প্রথম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ৬ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন।