প্রার্থীর প্রচারে হামলা চলছেই|111908|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
প্রার্থীর প্রচারে হামলা চলছেই
রূপান্তর ডেস্ক

প্রার্থীর প্রচারে হামলা চলছেই

ঢাকা-৯ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের গণসংযোগে আবারও হামলার হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে দক্ষিণ গোড়ানের বাগানবাড়ি রোডে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় দলের দুইজন করে কর্মী আহত হয়।

এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর আফরোজা আব্বাসের প্রচারে হামলা হয়েছিল। গতকালে ঘটনায় বিএনপির নেতারা হামলার জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

গত সোমবার রাতে ফেনী-৩ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মো. আকবর হোসেনের গাড়ি বহরে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মৌলভীবাজার-৪ আসনে ঐক্যফন্টের প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরীর ছেলে মুঈদ আশিক চিশতীর গাড়িতে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বগুড়া-২ আসনে মহাজোট ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর গাড়িবহরে ককটেল হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশ বাদি হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেছে। বিস্তারিত আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরেÑ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকালে শাহজাহানপুরের বাসা থেকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগে বের হন আফরোজা আব্বাস। বেলা সোয়া ১১টার দিকে খিলগাঁও রেলগেট অতিক্রম করে আফরোজা আব্বাস তিলপাপাড়ায় গণসংযোগ করেন। এ সময় এলাকার প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন যুবক সেখানে গিয়ে নৌকার পক্ষে সেøাগান দিতে শুরু করেন। আফরোজা আব্বাস বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দক্ষিণ গোড়ান এলাকায় পৌঁছলে সেখানে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। আফরোজার গণসংযোগে থাকা নেতাকর্মীদের ওপর পেছন থেকে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। একপর্যায়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষের ঘটনায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের দুজন নেতা ও বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

এ ঘটনার পর গ্রেপ্তার এড়াতে বিএনপির নেতাকর্মীরা এলাকা ছেড়ে চলে যায়। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা খিলগাঁও চৌরাস্তার পাশে ইসলামী পাঠাগার ও সমাজকল্যাণ পরিষদের উল্টো পাশের সড়কে অবস্থান নেয়। তবে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গতকাল ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর আদাবর শেরে বাংলা নগর) আসনের বিএনপি ও জাতীয় ঐক্য ফ্র্ন্ট মনোনীত প্রার্থী মোঃ আব্দুস সালামের নির্বাচনী প্রচারনায় পুলিশ বাধা দিয়েছে। সালামের সমর্থক নেতাকর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণায় নামলে আদাবর থানার পুলিশ এসে গণসংযোগে বাধা সৃষ্টি করে এবং গণ সংযোগে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেয়। এতে নেতাকর্মীরা ছত্রভ ঙ্গ হয়ে যায়।

বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, ঢাকা-৪ আসন ডেমরা এলাকায় ধানের শীষের প্রচারের সময় ৩ জন মহিলা নেত্রীকে বিনা কারণে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া জুরাইন এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ সালাউদ্দিন আহমেদের গণসংযোগকালে আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা অতর্কিতে হামলা করে। এতে ২০ জনের অধিক নেতাকর্মী আহত হয় এবং প্রার্থী গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

ঢাকা-৫ আসন যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদল সরদার নি¤œ আদালত থেকে জামিন নিয়ে বাসায় আসার পথে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকধারীরা তুলে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও ডিবি অফিসে খোঁজখবর নেওয়া হলে তারা আটক করার বিষয়টি অস্বীকার করে। তার পরিবারের লোকেরা গুম আতঙ্কে ভুগছে।

ঢাকা-৬ আসনের ৩৭ নং ওয়ার্ড এলাকা থেকে ঐক্যফ্রন্ট নেতা নবকুমার রতœকে বিনা কারণে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঢাকা-১১ আসনের বাড্ডা থানা বিএনপির সহসভাপতি মাকসুদুর রহমানকে বিনা কারণে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া রামপুরায় একজন বিএনপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঢাকা-১৪ আসনে গতরাতে ২ জন বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় আওয়ামী প্রার্থী আসলামুল হক এর নেতৃত্বে হামলা চালায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা।

ঢাকা-১২ আসনের তেজগাঁও থানা পুলিশ বিএনপি নেতা শিফুকে গ্রেফতার করেছে। তাছাড়া পোস্টার লাগানোর সময় আবুল হোসেন ও সাঈদ নামে দুইজন যুবদল নেতাকে হামলা করে মারাত্মক আহত করেছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা।

ঢাকা-১৭ আসনের বনানী থানা পুলিশ করাইল নামক স্থান থেকে বিএনপি নেতা শাকিলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে পোস্টার ছিড়ে ফেলে প্রচারপত্র নিয়ে কোন কর্মীকে দেখলে তাদের মারধর এবং হুমকি দিচ্ছে পুলিশ এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীরা।

বিভন্ন স্থানে প্রার্থীদের গণসংযোগে হামলা: ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মো. আকবর হোসেনের গাড়ি বহরে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত সোমবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে উপজেলার বগাদানা ইউনিয়েনর তাকিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এতে আকবরসহ অন্ততপক্ষে ২০ নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের দাগনভূঞা ও ফেনীর বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

হামলার জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে দায়ী করেছেন ধানের শীষের প্রার্থী মো. আকবর হোসেন ও উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক জামাল উদ্দিন সেন্টু। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।  ধানের শীষের প্রার্থী মো. আকবর হোসেন অভিযোগ কওে জানান, সোনাগাজী উপজেলা বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে চরচান্দিয়া ইউনিয়নের সওদাগর হাটে মতবিনিময় সভা শেষে দাগনভূঞা ফেরার পথে তাকিয়া বাজারে ২০ / ২৫ জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন তাদের দলীয় নেতাকর্মীরা জড়িত নয়। তাদের নিজেদের কোন্দলে সভা পন্ড হয়েছে।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. মোয়জ্জেম হোসেন বলেন, ‘কে বা কারা হামলা করেছে তা জানা যায়নি। তবে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এ ঘটনা ঘটতে পারে।

মৌলভীবাজার-৪ আসনে ঐক্যফন্টের প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরীর ছেলে মুঈদ আশিক চিশতীর গাড়ীতে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত সোমবার সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সুত্রে জানা যায়, ধানের শীষের প্রার্থী হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরীর পুত্র মুঈদ আশিক চিশতী তার পিতা পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে শ্রীমঙ্গল থেকে কমলগঞ্জ আসার পথে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় পৌছালে একদল যুবক চিশতীর চলন্ত গাড়ীতেই তার গাড়ীতে লাঠি নিয়ে হামলা করে।

এ ব্যাপারে মুঈদ আশিক চিশতী বলেন, শ্রীমংগলে বাবার পক্ষে ধানের শীষের গনসংযোগ শেষে কমলগঞ্জ ফেরার পথে লাউয়াছড়ায় জাতীয় উদ্যানে পৌছামাত্র কিছু লোকজন আমার গাড়ীতে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আরিফুর রহমান জানান, এ ধরণের ঘটনার ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বগুড়ায় মহাজোট প্রার্থীর গাড়িবহওে ককটেল হামলা: বগুড়া-২ আসনে মহাজোট ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর গাড়িবহরে ককটেল হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে দুই কর্মী আহত হয়। গত সোমবার রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের ভাইয়েরপুকুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ওই রাতেই পুলিশ বাদি হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলা করেছে। এতে থানা বিএনপির বর্তমান ও সাবেক সভাপতিসহ ৩৪ জনকে আসামী করা হয়েছে।

এদিকে ওই হামলার পরপরই মহাজোট প্রার্থীর সমর্থকরা ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী অফিস ও বিএনপির একটি অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ্ ওই হামলার জন্য বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টকে দায়ী করে বলেন, ‘এলাকায় দলের নেতা-কর্মীদের সে ঙ্গ কথা বলে ফেরার পথে আলিয়ার হাটমুখী রাস্তায় পৌঁছার পরপরই গাড়ি বহরের সামনে বেশ কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের নেতা-কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে।’

ওই হামলার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল ও দুটি হাসুয়া উদ্ধার করে। রাতেই উপজেলা যুব সংহতির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রায়নগর ইউপি সদস্য ছানাউল হক বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলম, সাবেক সভাপতি এবিএম কামাল সেলিম, বিহার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম ঠা-ুসহ ৩৪ জনকে আসামী করা হয়।

যোগাযোগ করা হলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলম বলেন, তারা হামলার সাজানো নাটক করে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। ভাইয়েরপুকুর থেকে ফেরার পথে তারা উপজেলা সদরের নাগর বন্দরে ঐক্যফ্রণ্ট প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্নার প্রধান নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করেছে, এরপরই মোকামতলায় বিএনপি অফিস ভাঙচুর করা হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানের সে ঙ্গ যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মহাজোট প্রার্থীর গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী অফিস বা বিএনপি অফিসে হামলার বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।