ডাইনোসরের সমাধি পেলেন মেষপালক|111911|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
ডাইনোসরের সমাধি পেলেন মেষপালক
রূপান্তর ডেস্ক

ডাইনোসরের সমাধি   পেলেন মেষপালক

গল্পটি এক মেষপালকের। এতে আরো আছেন একজন ভূগোল শিক্ষক এবং পেনশনের টাকায় নিজের খরচা চালানো আরেকজন প্রৌঢ়। মেষপালকের নাম ডুমাঙ্গে তৈয়বেকা। মূলত তিনিই সন্ধান দিয়েছেন ২০ মিলিয়ন বা দুই হাজার বছরের পুরোনো সেই ডাইনোসরের কঙ্কালের। দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেইপ প্রদেশের ক্ষেমেগা গ্রামে ঘটেছে এ ঘটনা।

গতকাল সোমবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ডাইনোসরের সমাধি আবিষ্কারের পর থেকে নিজের লোকালয়ে রীতিমতো ‘নায়ক’ বনে গেছেন ৫৪ বছরের তৈয়বেকা। তার মুখেই শোনা যাক সেই সমাধি খুঁজে পাওয়ার ঘটনাটা। তিনি বলেন, ‘আমার বংশের পূর্বপুরুষ অর্থাৎ আমার দাদার বাবা ও মায়ের কবর ছিল এখানটায়। আর আমার ওপরে ছিল সেগুলো দেখভাল করার ভার। একদিন কবর রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করার সময় হঠাৎ নজরে এলো বিরাটকায় একটা হাড়। এরকম হাড় আমি জীবনে দেখিনি।’

আমাদের গ্রাম নিয়ে একদিন বই লেখা হবে : ডাইনোসরের সমাধি আবিষ্কার গল্পের আরেক চরিত্র; পেনশনের টাকার ওপরেই যার জীবিকা নির্ভরশীল তার নাম জেমস রেলেন। তিনি বলেন, ‘শৈশবে আমরা ডাইনোসরের গল্প শুনেছি। কিন্তু তখন আমরা জানতাম যে, ডাইনোসরের গল্প হচ্ছে একধরনের রূপকথা। তবে ১৯৮২ সালে কিছু বই পড়ার পর আমার মনে হলো, ডাইনোসর আসলে কল্পকাহিনী নয়, এটি বাস্তব। সেই থেকেই ডাইনোসরের অস্তিত্বের সন্ধান করেছি আমি।’ রেলেন বলছিলেন, ‘এই আবিষ্কারের অংশ হতে পেরে আমার যে কী আনন্দ হয়েছে তা আর বলে বোঝানো যাবে না। এই ক্ষুদ্র গ্রাম নিয়ে একদিন বই লেখা হবে। আর সারা দুনিয়া তখন জানবে আমাদের।’ এমনকি এখানকার স্থানীয় উন্নয়নেও এটি বেশ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।

ডাইনোসরের ফসিল বা জীবাশ্ম খুঁজে বের করা এই তিনজনের আরেকজন হলেন থেম্বা জিকাজিকা। তিনি পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভূগোল শিক্ষক। জিকাজিকা বলছিলেন, ‘কঙ্কালটা পেয়ে তারা সেটি আমার কাছে নিয়ে আসে। তখন সেটিকে আমি জানাই যে, এটি একটি ফসিল।’

সবখানে ছড়ানো ছিল ডাইনোসর : ২০১৮-এর শুরুর দিকে এই গ্রামে একদল প্রতœ-জীবাশ্মবিদ কয়েক সপ্তাহ ধরে ডাইনোসরের সমাধিতে খননকাজে অংশ নেয়। দলটির নেতৃত্ব দেওয়া অধ্যাপক জোনাহ কোইনিয়ের বলছিলেন, ‘আমরা যখন প্রথম ওই জায়গাটা দেখতে যাই, সেটি ছিল দারুণ ব্যাপার। মনে হচ্ছিল সবখানেই ছড়ানো ছিল ডাইনোসর।’ সামনের বছর আবার তারা এই গ্রামে আসবেন এবং এই কঙ্কাল ও হাড়গুলোকে জোহান্সবার্গে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করবেন বলে জানান তিনি।

বারো জাতের উদ্ভিদখেকো প্রজাতি : যেখানে এই কঙ্কাল মিলেছে সেই জায়গাটি একেবারে পতিত ভূমি। কোনো গাছপালা কিছুই নেই সেখানকার প্রায় ১২ মাইলের মধ্যে। ধারণা করা হচ্ছে, শত শত প্রতœ-জীবাশ্ম সেখানে রয়েছে। আর এগুলো এসেছে অন্তত ১২ জাতের বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদখেকো সরোপোডোমর্ফ ডাইনোসর থেকে। যে হাড়টা পাওয়া গেছে তা দেখে অনুমান করা হচ্ছে যে, প্রাণীটি অন্তত ২৬ ফিট লম্বা আর এক টন ওজন ছিল।

আজ থেকে প্রায় ১,৪৫০ বছর থেকে ২,০০ বছর আগে জুরাসিক যুগে লম্বা গলার, দীর্ঘ শরীরের এই ডাইনোসরগুলো পাওয়া যেত।

গবেষণায় এই জায়গা থেকে আরো দারুণ তথ্য আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে গবেষণা সম্পন্ন করতে হয়তো সময় লাগতে পারে বছরের পর বছর। কিন্তু ইতোমধ্যে এই প্রজেক্টে কাজ করতে গিয়ে খুব উচ্ছ্বসিত নবীন গবেষক চেবিসা  মেডকাজি।

পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু : নদীর শুকনো রেখা ধরে হাঁটতে হাঁটতে তিনজন স্থানীয় পুরুষ বলছিল এই জায়গাটিকে ঘিরে তাদের বিরাট স্বপ্নের কথা। তারা চায়, এই স্থানটিকে ইউনেস্কো ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করুক। যদি তা করা হয় তাহলে গবেষক ও পর্যটকরা এখানে আসবে। এর ফলে চাঙ্গা হয়ে উঠবে এখানকার স্থানীয় অর্থনীতি। আর মেষপালক তৈয়বেকা মনে করেন, এই স্থান এখানকার তরুণ প্রজন্মের জীবনটাই পাল্টে দিতে পারে। তিনি বলছিলেন, ‘আমার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। কিন্তু এই ডাইনোসরগুলো পাওয়ায় আমাদের সন্তানরা বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান পড়ায় আগ্রহী হবে।’