বাঁচানো যায়নি বাগানে ফেলে যাওয়া সদ্যোজাতকে|111937|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৫:০১
বাঁচানো যায়নি বাগানে ফেলে যাওয়া সদ্যোজাতকে
নড়াইল প্রতিনিধি

বাঁচানো যায়নি বাগানে ফেলে যাওয়া সদ্যোজাতকে

শীতের সকাল। গ্রামের রাস্তা মানুষের আনাগোনা কম। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এক কিশোর পাশের একটি মেহগনি গাছের বাগানে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পায়। সঙ্গে সঙ্গে এলাকার লোকজনকে খবর দেয়। এলাকাবাসী এসে সদ্য জন্ম নেওয়া এক নবজাতককে জবুথবু অবস্থায় দেখতে পান। কনকনে শীতে শিশুটি দুর্বল অবস্থায় পড়ে আছে।

এলাকাবাসী দ্রুত নবজাতককে উদ্ধার করে প্রথমে সদর হাসপাতাল, পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে তাকে বাঁচানো যায়নি। জন্মের পরই নিষ্ঠুরতা দেখা সদ্যোজাত পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে। 

ঘটনাটি ঘটেছে নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের নিধিখোলা গ্রামে।

এলাকাবাসী জানায়, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেহগনি বাগান থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। শীতে দুর্বল হয়ে পড়ায় নবজাতককে আগুনের তাপ দিয়ে একটু সুস্থ করে দুপুর ২টার দিকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। রাত ৮টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিশুটির মৃত্যু হয়।

নড়াইল সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রোকসানা বিনতে আকবর জানান, প্রসবের পর প্রায় আড়াই ঘণ্টা শিশুটি বিনা পরিচর্যায় ছিল। এছাড়া শীতে বাগানে পড়ে থাকায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।

চন্ডিবরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোস্তফা কামাল জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসকেরা। অ্যাম্বুলেন্সযোগে যাওয়ার পথে খুলনা শহরে পৌঁছালে শিশুটির মৃত্যু হয়।

তিনি বলেন, “শিশুটিকে উদ্ধারের পর আমি নিজেই চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন করেছি। যত টাকা লাগতো আমি সুস্থ করে তুলতাম। কিন্তু মারা যাওয়ায় মনটা ভেঙে গেছে। সারা দিন শিশুটিকে কাছে রেখে মৃত্যুর পর নিজেকে সামলে রাখতে পারছি না।”

এই জনপ্রতিনিধি আরো বলেন, “আরা যারা অমানবিকভাবে শিশুটিকে শীতের মধ্যে বাগানে ফেলে গিয়েছিল, তাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।”

গ্রামবাসী জানায়, একটি মোটরসাইকেল নিয়ে একজন পুরুষ ও একজন নারীকে ওই রাস্তা দিয়ে যেতে দেখেন তারা। ধারণা করা হচ্ছে, মোটরসাইকেলে এসেই নবজাতককে বাগানে ফেলে দিয়ে চলে যায় ওই দুইজন।