ভোটের আগেই ৩৫ আসন নেওয়ার চেষ্টায় ক্ষমতাসীনরা: মান্না|111939|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৫:২৮
ভোটের আগেই ৩৫ আসন নেওয়ার চেষ্টায় ক্ষমতাসীনরা: মান্না
বগুড়া প্রতিনিধি

ভোটের আগেই ৩৫ আসন নেওয়ার চেষ্টায় ক্ষমতাসীনরা: মান্না

মাহমুদুর রহমান মান্না তার নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা বাধা দেওয়াসহ নির্বাচনী এজেন্ট ও কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ করেন। ছবি: দেশ রূপান্তর

আইনকে নিজেদের মতো ব্যবহার করে ক্ষমতাসীনরা ভোটের আগেই ৩৫টি আসন নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

বুধবার সকালে বগুড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন অভিযোগ করেন।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের যখন গ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করে, তখন তার ওপরে আসলে আদালতের রায় চলে না। কিন্তু সেই রায়ও দেওয়া হচ্ছে।”

সরকারর ২০১৪ সালের মতোই নির্বাচনের পরিকল্পনা করেছিল দাবি করে তিনি বলেন, “এবার সবাই আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি বলে আইনের কান দুমড়ে-মুচড়ে একবারে নিজের কবলে নিয়ে তারা ৩৫টি আসন খালি করার চেষ্টা করছে।”

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই নেতা বলেন, সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই। নির্বাচন দখল করার জন্য তারা সব নীতি বিসর্জন দিয়েছে। আর এই কাজে তারা যাকে যেভাবে ব্যবহার করা যায় করছে।

তিনি বলেন, সরকারি প্রশাসন এমনকি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যন্ত এই সরকার ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। এক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের রায় আরেক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বাতিল করে দিচ্ছে।

এসময় মাহমুদুর রহমান মান্না তার নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা বাধা দেওয়াসহ নির্বাচনী এজেন্ট ও কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, মহাজোট প্রার্থী নিজে উপস্থিত থেকে ধানের শীষের প্রধান নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করেছেন। প্রতিদিন তারা ট্রাক নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে ধানের শীষের পোস্টার কেটে নিয়ে আসছেন। মোকামতলায় বিএনপি অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে।

বগুড়া-২ আসনে ধানের শীষের এই প্রার্থী বলেন, বিষয়গুলো জেলা রিটার্নিং অফিসারকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। তবে যতো বাধাই আসুক, আমরা ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচনের এই লড়াই চালিয়ে যাব।

এসময় তিনি বলেন, “আমি মনে করি না এই আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ। এখনকার নৌকা হচ্ছে দুঃশাসনের প্রতীক আর ধানের শীষ গণতন্ত্রের লড়াইয়ের প্রতীক।”

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এম আর ইসলাম স্বাধীন, জেলা ইসলামী ঐক্যজোটের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সামছুল হক, শিবগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান মতিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে যোগাযোগ করা হলে বগুড়া-২ আসনে মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ বলেন, “তার মতো একজন নেতা মনগড়া কথা বললে বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক।”

তিনি বলেন, “আমার গাড়িবহরে তার জোটের নেতারা ১৭ ডিসেম্বর হামলা চালিয়েছে। এতে দুজন কর্মী আহত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনের আশ্রয় নিতেই মামলা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে তার কোনো নেতাকর্মীকে আমার লোকজন কোথাও বাধা দেয়নি, সেখানে কোনো অফিস ভাঙচুরও হয়নি।”