দুই যুগ পর জানলেন তিন সন্তানের জনক তিনি নন!|111942|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৬:০৩
দুই যুগ পর জানলেন তিন সন্তানের জনক তিনি নন!
অনলাইন ডেস্ক

দুই যুগ পর জানলেন তিন সন্তানের জনক তিনি নন!

দুই যুগ ধরে সংসার করে জানলেন, এতদিন ধরে যাদের মুখে বাবা ডাক শুনে আসছেন, তারা তার ঔরসজাত নয়। নিশ্চয় ব্যাপারটা শুধু বড় ধরনের আঘাতই নয়, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার মতো ঘটনা। এমন বাস্তবতার মুখে পড়ে তুরস্কের এক নাগরিক তার স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়েছেন।

বুধবার তুরস্কের সংবাদমাধ্যম হুরিয়েত ডেইলি এক প্রতিবেদনে জানায়, অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে একে একে ওই তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন স্ত্রী। দুই যুগ পরে এ ঘটনা জানতে পেরে প্রতারণার অভিযোগ এনে তাকে ডিভোর্স দেন স্বামী।

৪৫ বছর বয়সী নেজদেত বলেন, “আমার পুরা জীবনটা একটা মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়েছিল। সে শুধু আমাকেই ঠকায়নি, এতদিন ধরে তার প্রেমিককেও ঠকিয়েছিল। এমনকি আমার থেকে একটি অ্যাপার্টমেন্টও ভাগিয়ে নিয়েছে সে।”

চলতি সপ্তাহে তুরস্কের সংবাদমাধ্যমগুলোতে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে এই দম্পতির বিচ্ছেদের ঘটনা। তবে ছয় বছর আগেই সন্তানসহ দীর্ঘদিনের প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়েছে ৩৭ বছর বয়সী স্ত্রী  ইকায় ইয়ে। অনেক চেষ্টা পর তাদের খোঁজ না পেয়ে স্ত্রীকে ডিভোর্স দিতে তিনি আদালতের কাছে দ্বারস্থ হন।

তবে নেজদেত সন্তানদের দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তার দাবি, তারা যেহেতু তার ঔরসজাত নয়, তাদের দায়িত্বও তার নয়।

তিনি বলেন, “আমরা একই গ্রামেই জন্মেছি। পেস্ট্রি ব্যবসায় টাকার প্রয়োজন ছিল বিধায় শ্বশুরের কথায় আমার অ্যাপার্টমেন্টটি স্ত্রীর নামে বন্ধক রাখি। আমি তখন নিরুপায় ছিলাম।”

তিনি ধারণা করছেন, বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে থাকার সময় অন্য ব্যক্তির সঙ্গে তার স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এতে একে একে তিন সন্তানের জন্ম নেয়। যদিও স্বাভাবিকভাবে তাদেরকে নিজের সন্তান হিসেবেই মনে করতেন। পরবর্তীতে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় তিনি তাদের বাবা নন।

সন্তানদের নিয়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে ইস্তাম্বুলে বসবাস শুরু করলেও কয়দিন পরপর ঠিকানা পরিবর্তন করায় তাকে ধরতে পারেননি নেজদেত।

তিনি বলেন, “ছেলেমেয়েরা যখন একে একে জন্ম নিল, আমি ছিলাম স্ত্রী সঙ্গে হাসপাতালে। জন্মের পর তাদেরকে আমিই কোলে নিয়েছি। তাদের আমি নিয়মিত স্কুলে নিয়ে যেতাম। এখন আমি জানলাম, আমি তাদের বাবা নই।”

নেজদাত বলেন, “সে আমার একটি অ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে নিয়েছে। আমার কিছুই থাকলো না। সে এমনটা করবে কখনো কল্পনাই করিনি। সৃষ্টিকর্তার কাছে তার এবং ওই ব্যক্তির শাস্তি কামনা করা ছাড়া কিছুই করার নাই আমার।”