‘হামাগের ছাওয়াল হক কথা কয়, হ্যারে ভোট দিমু’|111952|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৭:০৩
‘হামাগের ছাওয়াল হক কথা কয়, হ্যারে ভোট দিমু’
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

‘হামাগের ছাওয়াল হক কথা কয়, হ্যারে ভোট দিমু’

কুড়িগ্রামের-৪ আসন (চিলমারী-রৌমারী-রাজীবপুর) থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটরগাড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান। ছবি: ফেসবুক।

কুড়িগ্রাম রৌমারীর থানা মোড়ে জিলাপি ভাজছেন দোকানি। পাশের একটা স্টলে চায়ের কাপে উঠেছে নির্বাচনী ঝড়। বেশ কয়েকজন নিজ নিজ প্রার্থীদের সমর্থনে তর্কে মশগুল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল ও জোটের প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান এইচ সরকার ভোটারদের মধ্যে আলোচনায় স্থান করে নিয়েছেন।

কুড়িগ্রামের-৪ আসন (চিলমারী-রৌমারী-রাজীবপুর) থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটরগাড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান। এছাড়া এই আসন থেকে লড়ছেন- নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের জাকির হোসেন, লাঙ্গল প্রতীকে আসাফ উদ দৌলা তাজ ও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির আজিজুর রহমানসহ ১৩ জন স্বতন্ত্র দলীয় প্রার্থী।

জয় নিয়ে ভোটারদের মধ্যে সংশয় থাকলেও নির্বাচনী আলোচনায় উঠে এসেছেন ইমরান বেশ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক তরুণ ভোটার বলেন, ”২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর শাহবাগে সারা দেশের মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগিয়ে তুলেছিল গণজাগরণ মঞ্চ। মঞ্চের মুখপাত্র ছিলেন ইমরান এইচ সরকার। ফলে স্থানীয় তরুণদের পছন্দের প্রার্থী ইমরান”।

অনেকে মনে করেন, এলাকায় কম উপস্থিতি ও স্থানীয়দের সঙ্গে ওঠা-বসা কম থাকায় ভোটের মাঠে তার খুব সুবিধা হবে না। আবার অনেকে বলছেন, তিনি প্রধান রাজনৈতিক ধারার সাথে সংযুক্ত না থাকায়, ভোটের মাঠ গরম করতে পারছেন না।

রৌমারীর আলোকচিত্রী সৈয়দ কাকন একজন ছাত্রলীগের কর্মী। গণজাগরণ মঞ্চেও কাজ করেছেন তিনি। তার মতে, শহরাঞ্চলের মানুষজনদের কাছে তিনি খুব পরিচিত হলেও, ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে বিচ্ছিন্ন রৌমারী-রাজীবপুরে তেমন পরিচিত না।

রাজীবপুরের বালিয়ামারী গ্রামের কৃষক জাবের আলী বলেন, ‘অঁয় হামার জায়গার ছাওয়াল। কিন্তু ভাল মার্কা আনবার পারে নাই।’ ভাল মার্কা বলতে তিনি মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেন। আবার এর বিপরীত চিত্রও আছে এখানে। ওই গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা শুকুর মামুদ, গেন্দলা মিয়া, আবুল কালাম বলেন, ‘হামাগের ছাওয়াল হক কথা কয়, হ্যারে ভোট দিমু।’

চিলমারী সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র পিয়াল একজন নতুন ভোটার। প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাওয়া এই তরুণ অকপটেই ইমরানকে ভোট দেবেন বলে জানালেন। একই কথা বললেন তার সহপাঠী ফারুক, আখলাকুর ও শ্যামল।

কুড়িগ্রাম জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক শ্যামল ভৌমিক বলেন. ‘গণজাগরণ মঞ্চের ইস্যুতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল রাজনৈতিক দল এককাট্টা হয়েছিলেন তার নেতৃত্বে। কিন্তু নির্বাচনের ইস্যুটি আলাদা। এখানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মূলধারার পক্ষে বিপক্ষে ভোটারদের অবস্থান থাকবে। সে ক্ষেত্রে ইমরান এইচ সরকার কতটা ভোটারদের কাছে যেতে পারবেন সেটা সময় বলে দেবে।’

মুক্তিযুদ্ধের গবেষক ও উত্তরবঙ্গ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন বলেন, ‘কাদের মোল্লা ইস্যুতে ইমরান এইচ সরকারের আন্দোলনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন ছিলো। এখন তিনি বড়দলগুলোর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন। এই দলগুলোর বাইরে তার জন্য এই নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ভোটারদের পাওয়া কঠিন। ’

ইমরান এইচ সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন,  ‘আমি তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের কাছে অতীতের মতো সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছি। আগের চেয়ে অনেক বেশি সাড়া পাচ্ছি। তরুণ প্রজন্মসহ সর্বস্তরের মানুষের ভোট পাব। ’

এ আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় মূলত আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মধ্যে। মোট ভোটার ২ লক্ষ ৮৯ হাজার ১১৭। নবম জাতীয় নির্বাচনে এখানে নৌকা প্রতীক নিয়ে জিতেছিলেন আওয়ামী লীগের জাকির হোসেন। তিনি পেয়েছিলেন,৭৩ হাজার ৯১৩ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে গোলাম হাবিব দুলাল পেয়েছিলেন-৫৩ হাজার ৬৮২ ভোট। দশম জাতীয় সংসদে জেপি (মঞ্জু) মনোনীত প্রার্থী  রুহুল আমিন ৩২ হাজার ৬০৭ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের জাকির হোসেন। তিনি পেয়েছিলেন ২৪হাজার ১৩৯ ভোট।