ক্যান্সারের রাজধানী!|111971|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৯:০১
ক্যান্সারের রাজধানী!
অনলাইন ডেস্ক

ক্যান্সারের রাজধানী!

স্থানীয়রা মারালিংগাকে ক্যান্সারের রাজধানী বলে ডাকে।

হিরোশিমা-নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা হামলার ধ্বংসযজ্ঞ পৃথিবীর মানুষ দেখতে পেয়েছে। কিন্তু পরমাণু বোমা পরীক্ষার বীভৎসতা সম্পর্কে খুব বেশি মানুষ জানে না। শীতলযুদ্ধের সময়ে অস্ট্রেলিয়া এবং ব্রিটেন সরকার মিলিতভাবে ১২টি পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালিয়েছিল। আর সেই পরীক্ষার বলি হয় ১৬ হাজার শ্রমিক, কয়েকটি আদিবাসী গ্রাম ও একটি ছোটো শহর। যেটি পরিচিতি পেয়েছে ক্যান্সারের রাজধানী নামে।

অস্ট্রেলিয়া এবং ব্রিটিশ সরকার যৌথভাবে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার উওমেরা রকেট রেঞ্জ নামের একটি এলাকা নির্ধারিত করে এই পরীক্ষার জন্য, যেখানে যুগের পর যুগ ধরে আনানগু আদিবাসী গোষ্ঠীর বসবাস ছিল। আজও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার মারালিংগা অঞ্চলের মানুষ বোমার তেজস্ক্রিয়তা উপহার ক্যান্সার বয়ে বেড়াচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে। বমি, চর্মরোগ, ডায়রিয়া, জ্বর, রক্তে সমস্যা এবং ক্যান্সার ওই অঞ্চলের মানুষের কাছে এখন সাধারণ রোগের মতো। স্থানীয়রা তাই মারালিংগাকে ক্যান্সারের রাজধানী বলে ডাকে।

বিশ্ববাসীর নজর এড়িয়ে চালানো এই পরমাণু বোমা পরীক্ষার গোপন নথি চলতি বছরের শুরুর দিকে ফাঁস হয়। প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, দুই দেশের সরকার তখন অস্ট্রেলিয়ার বেশ কয়েকটি অঞ্চলে গোপনে এই পরীক্ষা চালায়। এরমধ্যে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার মারালিংগা ছাড়াও ছিল ইমু ফিল্ড এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার মন্টেবেল্লো দ্বীপ।

১৯৮৫ সালের দিকে লন্ডনের রয়্যাল কমিশন মারালিংগার মাটিতে সিজিয়াম-১৩৭, ইউরেনিয়াম, প্লুটোনিয়াম এবং বেরেলিয়ামের মতো ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতি পায়। ১৯৯৩ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সরকার ওই অঞ্চলের তেজস্ক্রিয়তা কমাতে ১০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে এবং আদিবাসীদের তাদের অঞ্চলে ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা দেয়। কিন্তু ২০০৪ সালেও ২১ হাজার বর্গকিলোমিটারের ওই অঞ্চলে ফিরে যেতে পারেনি আদিবাসীরা। এখনও ওই অঞ্চলের মাটিতে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে।