মন্ত্রীদের পেছনে ছুটছে দপ্তরও|111998|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
মন্ত্রীদের পেছনে ছুটছে দপ্তরও
নিজস্ব প্রতিবেদক

মন্ত্রীদের পেছনে ছুটছে দপ্তরও

নির্বাচনী প্রচারে ছুটে বেড়ানো মন্ত্রীদের পিছু পিছু যাচ্ছে তাদের দাপ্তরিক ফাইলও। জরুরি ফাইল নিয়ে কর্মকর্তারা নির্বাচনী এলাকায় যাচ্ছেন। প্রচারের ফাঁকে ফাঁকে তাতে সই দিচ্ছেন তারা। সচিবালয়ে যাচ্ছেন কদাচিৎ।

এক কর্মকর্তা জানান, মন্ত্রিসভার সর্বশেষ বৈঠক শেষে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী নির্বাচনী এলাকা শেরপুর-২ এ চলে যান। ভোট শেষ হওয়ার আগে তার রাজধানীতে ফেরার সম্ভাবনা নেই। প্রধান নির্বাহী মন্ত্রী দপ্তরে না থাকলেও আটকে নেই কোনো ফাইল অনুমোদন।

গত সপ্তাহে মন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাজমুল ইসলাম। তিনি সাতটি ফাইলে মন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে ফিরে এসেছেন। এসবের মধ্যে ছিল কর্মকর্তাদের গ্রেড পরিবর্তন, চিকিৎসার জন্য বিদেশ সফরসহ আরো কয়েকটি ফাইল। তিনি বলছেন, যেসব ফাইল অনুমোদনে নির্বাচন কমিশনের বিধিনিষেধ নেই সেগুলোই যাচ্ছে কেবল মন্ত্রীর কাছে।

নাজমুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি শুধু মন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য যাচ্ছি না। যাওয়া-আসার পথে কৃষি মন্ত্রণালয়ের যেসব প্রকল্প আছে সেগুলো পরিদর্শন করছি। এতে করে প্রকল্প পরিদর্শনও হলো মন্ত্রীর অনুমোদনের কাজটিও হলো।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামালের নির্বাচনী এলাকা লক্ষ্মীপুর-৩। গত মঙ্গলবার মন্ত্রণালয় থেকে একটি ফাইল অনুমোদনের জন্য লক্ষীপুর পাঠানো হয়েছে। ফাইলটি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান খানের বিদেশ সফর সংক্রান্ত। এর সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠাতে হবে।

সেখানে পাঠানোর আগে মন্ত্রীর অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের নির্বাচনী এলাকা রাজধানীর অদূরে গাজীপুরে হলেও তিনি অফিস করছেন না। টেকনোক্রেট মন্ত্রী মতিউর রহমান পদত্যাগ করার পর এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও এখন তার ওপর। দুই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ফাইল নিয়ে নিয়মিতই মোজাম্মেল হকের দরবারে হাজিরা দিচ্ছেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিভিন্ন সময় জরুরি কাজ করার জন্য মন্ত্রণালয়ে যান। তারপরও জরুরি ফাইল নিয়ে কর্মকর্তারা তার এলাকায় যাচ্ছেন।

নির্বাচনী এলাকায় বসে ফাইল সই করা প্রসঙ্গে ১০ বছর আগের মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তারা চাইলে যেকোনো জায়গায় বসেই ফাইল স্বাক্ষর করতে পারেন। তবে প্রশাসনে ই-নথি চালু হলে একজন কর্মকর্তাকে ফাইল নিয়ে মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় ছুটতে হতো না। ই-নথি চালু করার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। তাহলে সেসব প্রকল্প কি ফলপ্রসূ হয়নি? ফলপ্রসূ হলে তো ফাইল নিয়ে ছুটতে হতো না।’