যেখানে অনুপ্রেরণা সেখানেই ভয়!|112017|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
যেখানে অনুপ্রেরণা সেখানেই ভয়!
ক্রীড়া প্রতিবেদক

যেখানে অনুপ্রেরণা সেখানেই ভয়!

হুমকি দিচ্ছে সিরিজ হার! কিন্তু চাপ নিয়ে কী হবে? তার চেয়ে খুনসুটিতে সব ঝেড়ে ফেলে হঠাৎ চলে আসা শীতটাই উপভোগ করা যাক না! গতকাল দুপুরে অনুশীলনে এমন কিছু নিয়েই মেতে উঠেছিলেন তামিম ইকবাল। তাতে আমোদিত মুশফিকুর রহিম আর নেইল ম্যাকেঞ্জিহ নাজমুল হক

পারবে না কেন বাংলাদেশ? এই সেদিন না ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদেরই মাঠে এবং আমেরিকায় হারিয়ে এলো! পরিস্থিতিও তো এখনকার মতোই ছিল। প্রথম ম্যাচে হারের পর কোণঠাসা।

পারবে না কেন? টেস্টে সিরিজে এই দলটিকে হোয়াইটওয়াশ করেছে। ওয়ানডে সিরিজে সমতা আসার পর শেষ ম্যাচ জিতে ট্রফিটাতে খেয়েছে চুমু। খেলা ঘরের মাঠে। হাতের তালুর মতো সব চেনা।

না পারার কারণ আছে কিছু? বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ের দিকে তাকালেও তো ভরসা মেলে। ওখানে বাংলাদেশ ১০ বটে। কিন্তু ক্যারিবিয়ানরাও বা কত এগিয়ে। ওরা ৭।

অনুপ্রেরণার অভাব নেই। কিন্তু যেখানে প্রেরণা সেখানেই যে ভয়! এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলই ২০ ওভারের ক্রিকেটে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। শুধু তাই নয়, এই সংস্করণে তারা দুবারের শিরোপাজয়ী। একসময় টেস্ট-ওয়ানডেতে বিশ্ব শাসন করা ক্যারিবীয়দের ক্যালিপসো সুর এখন সবচেয়ে ভালো বাজে এ সংস্করণেই। তারা বিপজ্জনক।

বাংলাদেশ তা জানে। গতকাল দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসে ড্যাশিং ওপেনার সৌম্য সরকার মনে করিয়ে দিলেন গত জুলাই-আগস্টের কথা, ‘একটা ম্যাচ পিছিয়ে আছি আমরা। চেষ্টা করব শক্তভাবে কামব্যাক করতে। শেষ সিরিজেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে আমরা প্রথম ম্যাচ হেরেছিলাম, পরের দুই ম্যাচে আমরা ভালোভাবে কামব্যাক করেছি।’

আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সেই কামব্যাকের লড়াই বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচ সিলেটে বাজেভাবে হারার ফলেই স্বাগতিকদের এই দশা। আজও হারলে সর্বনাশ। ফেরা হবে না। এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ হার বরণ করে নিতে হবে। প্রথমবারের মতো তিন সিরিজের প্রতিটি জেতার স্বপ্ন মুখ থুবড়ে পড়বে।

আজকাল ঢাকায় সূর্যের মুখ দেখা ভার। কালেভদ্রে মিলছে। মাঝ ডিসেম্বরের আবহাওয়াকে শীতের আগমনী বার্তার মতো লাগছে। প্রথম ম্যাচে ওশেন টমাস, শেলডন কটরেলের মতো গতিময় পেসাররা হারিয়ে দিয়েছেন। তবে স্বীকৃত তিন ওপেনারের একই ঢঙে তেড়ে গিয়ে শর্ট বলে মেরে আউট হওয়া প্রশ্ন তুলেছে।

অনুপ্রেরণার পাশে ভয় হাঁটতে দেখে এবং সবকিছু মেনেই সৌম্য জানিয়ে গেলেন, ‘সবাই তো জানি ওরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল এই ফরম্যাটে। আমরাও যে খারাপ করছি তা নয়।’ প্রথম ম্যাচের ভুলত্রুটি এই বাঁচা-মরার ম্যাচে শুধরে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি তার কণ্ঠে, ‘চেষ্টা তো করছি তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার। হয়তোবা কোনো একটা মিসটেক ছিল। কোনো বুদ্ধির ঘাটতি ছিল হয়তো। আমরা শুরুতে তাদের চার্জ করতে গিয়েছি। যদি বুদ্ধি খাটিয়ে খেলতাম, পেসারদের প্রথম কিছু ওভার আমরা সামলাতাম তাহলে শেষের দিকে রান আরো কাভার করতে পারতাম।’  তবে পেসে বা শর্ট বলে তাদের যে কোনো ভয় নেই এবং সেদিনেরটা সামনে গিয়ে খেলার চেষ্টা যে সাহসের প্রকাশ ছিল তাও একাধিকবার উল্লেখ করলেন।

আশার কথা, উইন্ডিজ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও চলমান মৌসুমের সাত টি-টুয়েন্টির পাঁচটিতে হেরেছে। সিরিজ জেতার সুযোগ মেলেনি। বাংলাদেশ ছয় ম্যাচের দুটি জেতার সঙ্গে একটি সিরিজের মালিক। দুই দলের এই হিসাবে ব্যবধান সামান্য। তারপরও প্রতিপক্ষ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বলে কথা।

কিন্তু সাকিব আল হাসানের দল জানে, এ ম্যাচটা তাদের বছরের শেষটায় হয়তো আঁধার এনে দেবে নয়তো রঙিন করার আশা টিকিয়ে রাখবে। মরণকামড় তাই দিতেই হবে।

ক্রিকেট দেব কী ভাবছেন? ম্যাচটা স্বাগতিকরা হারলে তো সিরিজের সব মজাই শেষ। শেষ ম্যাচ তখন গুরুত্বহীন। খেলার শেষ কথা তো বিনোদন। উপভোগের পেয়ালাটা উপচে পড়ার আগেই ফুরিয়ে যাবে? জবাব আছে মিরপুরে।