নির্বাচনের প্রভাবে বাস্তবায়নে ধীরগতি|112042|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
নির্বাচনের প্রভাবে বাস্তবায়নে ধীরগতি
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচনের প্রভাবে বাস্তবায়নে ধীরগতি

নির্বাচনের আগেই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) কাটছাঁট প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। তবে কাটছাঁটের এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন আরো সময় লাগবে। তবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) নিয়ম অনুযায়ী তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে যাচ্ছে। এ জন্য আসন্ন সংসদ নির্বাচনের আগেই এডিপি সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংসদ নির্বাচনের প্রভাব জাতীয় উন্নয়নে সব সময় পড়ে । এর আগের নির্বাচনগুলোয় এমনটাই দেখা গেছে। তবে এবার তুলনামূলক পরিবেশের অবস্থা কিছুটা ভাল। এই অবস্থায় সংশোধিত এডিপিতে কতটা প্রভাব পড়বে সেটা বাস্তবায়নকারী সংস্থা ও বিভাগগুলোর সঙ্গে বৈঠকের পর বোঝা যাবে।

ইআরডি সূত্র জানায়, বৈদেশিক সহায়তা প্রকল্পের বরাদ্দ নিশ্চিত করতে চলতি অর্থবছর সংশোধিত এডিপির বৈঠক শুরু হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে  বৈঠকে বসছে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে দুদিনব্যাপী ১৭ খাতের প্রকল্প নিয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মন্ত্রণালয় ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বরাদ্দ চূড়ান্ত করা হবে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ২০  দশমিক  ১৫ শতাংশ। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২০ দশমিক ১১ শতাংশ। এডিপি বাস্তবায়নের সার্বিক হার বাড়লেও বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পের ব্যয় কমেছে। আলোচ্য সময়ে এডিপির বৈদেশিক বরাদ্দের মধ্যে ব্যয় হয়েছে ২১ দশমিক ৬২ শতাংশ, এই বরাদ্দ গত বছরের একই সময় ব্যয় হয়েছিল ২২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

এ হিসেবে এডিপিতে বরাদ্দ থাকলেও বছর শেষে পুরো টাকা ব্যয় না হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। কারণ নির্বাচন ঘিরে এডিপি বাস্তবায়নে কিছুটা শ্লথ হওয়ার নজির রয়েছে। এ জন্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো বৈদেশিক বরাদ্দে পুরো টাকা ব্যয় করতে পারবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। এ অবস্থায় বড় ধরনের একটা কাটছাঁট হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে সংশোধিত এডিপিতে বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো কী পরিমাণ বৈদেশিক সহায়তা ব্যবহার করতে পারবে তা জানতে চেয়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে আগেই চিঠি দিয়েছে ইআরডি। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর প্রাক্কলন চূড়ান্ত হবে ইআরডিতে আয়োজিত দুদিনের বৈঠকে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় সংশোধিত এডিপি অনুমোদন করা হবে। চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে বৈদেশিক অর্থায়ন ধরা হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছর ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৬৯ কোটি ১৭ লাখ টাকার এডিপি বাস্তবায়নের লক্ষ নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে মূল এডিপি ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৮৬৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও বৈদেশিক সাহায্যের বাজেট ও হিসাব অনুবিভাগের (ফাবা) ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ফরিদা নাসরিন বলেন, মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোয় চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে বৈঠকও করা হবে। এরপর বলা যাবে বৈদেশিক অংশ কাটা হবে কিনা।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাস্তবায়ন সংস্থাগুলো যদি ব্যয় করতে পারে, তাহলে অর্থের কোনো অভাব হবে না। গত বছর থেকে রেকর্ড পরিমাণ বৈদেশিক অর্থ ছাড় করছে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো। আমরাও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে অর্থ ছাড় করার বিষয়ে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছি। উন্নয়ন সহযোগীরা রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ছাড় করেছে।’

ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, অর্থবছরের প্রথম চার মাসে দাতা দেশ ও সংস্থাগুলো অর্থছাড় কমিয়ে দিয়েছে। গেল অর্থবছরের প্রথম চার মাসের তুলনায় ১২ কোটি ডলার কম অর্থছাড় হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রতিশ্রুতিও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে।

চার মাসে দাতা দেশ ও সংস্থা মিলে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও কর্মসূচির বিপরীতে ১৩৩ কোটি ১ লাখ ডলার ছাড় করেছে। এর মধ্যে ১২৭ কোটি ৪৬ লাখ ডলার এসেছে ঋণ সহায়তার অংশ হিসেবে। বাকি ৫ কোটি ৫৪ লাখ ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে।

সাধারণত প্রতি অর্থবছরের শুরুতে এডিপিতে বিদেশি সহায়তা খাতে যে বরাদ্দ প্রাক্কলন করা হয়, বাস্তবায়ন সক্ষমতার অভাবে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ কমে যায়। গত অর্থবছরের শুরুতে এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তার বরাদ্দ ছিল ৬০ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা। আরএডিপিতে তা কমে হয় ৫২ হাজার ৫০ কোটি টাকা। এবারের এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তানির্ভর বেশ কিছু বড় প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর মধ্যে বহুল আলোচিত  মেট্রো রেল, পদ্মা রেল সংযোগ, পায়রা বন্দর উন্নয়ন, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বেশ কিছু প্রকল্প  রয়েছে। সরকার চাইছে এসব প্রকল্পের বাস্তবায়নের গতি যেন না কমে। কিন্তু এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি নির্ভর করবে বৈদেশিক সহায়তার ব্যয়ের সক্ষমতার ওপর। এ জন্য বাস্তবায়নে গতি ধরে রাখতে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করেছে সরকার।