মোমেন-মুক্তাদীর লড়াইয়ে জমজমাট ভোটের মাঠ|112062|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
মোমেন-মুক্তাদীর লড়াইয়ে জমজমাট ভোটের মাঠ
ফখরুল ইসলাম, সিলেট

মোমেন-মুক্তাদীর লড়াইয়ে জমজমাট ভোটের মাঠ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে পরিচিত সিলেট-১ (মহানগর-সদর) আসনে জমে উঠেছে ভোটের লড়াই। এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় দুই প্রার্থী। তারা হলেন মহাজোটের প্রার্থী, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আবদুুল মোমেন ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর।

দুই প্রার্থীর কর্মী অবিরাম প্রচার আর গণসংযোগে তারা মাতিয়ে রেখেছেন সিলেটের ভোটের মাঠ। কর্মী-সমর্থকরা এখন দিনরাত ছুটে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। ড. মোমেন ও খন্দকার মুক্তাদীরের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে কিছুটা উত্তাপও ছড়াচ্ছে। একে অন্যের বিরুদ্ধে পোস্টার ছেঁড়া, নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ এরই মধ্যে তুলেছেন।

ভোটাররাও এই দুই প্রার্থীকে নিয়ে আলোচনা, হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত। অফিস-বাসা, চায়ের দোকানে আলোচনায় রয়েছেন মোমেন-মুক্তাদীর। ‘এই আসনে যে দল বিজয়ী হয়েছে, সেই দল ক্ষমতাসীন হয়েছে’- অতীতের এমন একটি রেকর্ডের কারণেও নির্বাচন এলে এই আসন আলাদাভাবে আলোচিত। ড. মোমেন ও খন্দকার মুক্তাদীর ছাড়াও সিলেট-১ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরো আটজন প্রার্থী।

আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী শনিবার সিলেট সফরে আসবেন। ওই দিন তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহ পরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর দুপুর ২টায় সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।

এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এই আসনে বেশ আগেভাগেই প্রার্থী চূড়ান্ত করে। এই আসনের বর্তমান সাংসদ, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নির্বাচন ও রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন বেশ আগেই। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার ছোট ভাই ড. এ কে আবদুুল মোমেনকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। যদিও এই আসনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানও মনোনয়ন চেয়েছিলেন। এখন তারা ড. মোমেনের পক্ষেই নির্বাচনী মাঠে সরব।

ড. এ কে আবদুুল মোমেন গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিলেটের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আমি যে সমর্থন পাচ্ছি, তা অসাধারণ। এতে আমি অভিভূত। দলও আমার পক্ষে একাট্টা হয়ে কাজ করছে। আশা করি উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সিলেটবাসী নৌকাকেই বিজয়ী করবেন।’

সিলেট-১ আসনে বিএনপি দলীয় সাবেক সাংসদ ছিলেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। তার মৃত্যুর পর থেকে এখানে যোগ্য প্রার্থীর সংকটে বিএনপি। এ অবস্থায় তারেক রহমানের স্ত্রী, সিলেটের মেয়ে ডা. জোবাইদা রহমানও এখানে প্রার্থী হতে পারেন বলে অনেকদিন প্রচার চালিয়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। কিন্তু একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর খন্দকার মুক্তাদীরের পাশাপাশি প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আসেন সাবেক আমলা ইনাম আহমদ চৌধুরী। শেষমুহূর্তে বিএনপি হাইকমান্ড ইনাম চৌধুরীকে বাদ দিয়ে খন্দকার মুক্তাদীরকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়। এরপর বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা খন্দকার মুক্তাদীরের প্রচারে নেমেছেন।

গতকাল খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিলেটে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের অতীত যে ঐতিহ্য তা এবার অক্ষুন্ন থাকবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান। আমার কর্মী-সমর্থকদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। অনেকে গ্রেপ্তার হচ্ছেন। পুলিশ একটি দলের হয়ে কাজ করছে। এ অবস্থা চললে নিরপেক্ষ নির্বাচন অসম্ভব।’

সিলেটের শিক্ষাবিদ ও গবেষক ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ বলেন, ‘মহাজোট প্রার্থী ড. এ কে আবদুল মোমেন ও ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর অবাধে ও নিরাপদে তাদের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই আসনের ভোটাররা যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে কখনো ভুল করেননি।’

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করি, ঐতিহ্যের এই ধারা আসন্ন নির্বাচনেও অব্যাহত থাকবে। সব ভোটার নির্বিঘ্নে, নিরাপদে ভোট দিতে পারবে।’

সংস্কৃতিকর্মী, উর্বশী আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি মোকাদ্দেস বাবুল বলেন, ‘সুষ্ঠু-শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হোক এটাই বড় প্রত্যাশা। সিলেটের অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতিতেও যেন কোনো চিড় না ধরে।’