ভৈরবে বিএনপির অফিস-ক্যাম্প ভাঙচুর, পৌর নেতা আটক|112103|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৫:১৯
ভৈরবে বিএনপির অফিস-ক্যাম্প ভাঙচুর, পৌর নেতা আটক
ভৈরব প্রতিনিধি

ভৈরবে বিএনপির অফিস-ক্যাম্প ভাঙচুর, পৌর নেতা আটক

কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কার্যালয় এবং নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়েছে। বুধবার রাত ৮টার দিকে এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

একই রাতে পৌর বিএনপি নেতা ও গত পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী সাফি উদ্দিনকে আটক করেছে পুলিশ। পৌর শহরের গাইলটকাটাস্থ নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

বিএনপির অভিযোগ, বুধবার রাত ৮টার দিকে রামদি ইউনিয়নের বাজরা বাসস্ট্যান্ডস্থ ইউনিয়ন বিএনপি ও উপজেলা জিয়া পরিষদের অফিস, বড়চড়া জিয়া পরিষদের অফিস ও নির্বাচনী ক্যাম্প, আগরপুর বাসস্ট্যান্ডস্থ বিএনপি অফিস, মনোহরপুরের নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা চালায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা কার্যালয়গুলোতে থাকা আসবাবপত্রসহ শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও দলীয় প্রার্থী শরীফুল আলমের ছবি ভাঙচুর করে।

অন্যদিকে একই রাতে কুলিয়ারচর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদাৎ হোসেন শাহ আলম, পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন বাবুলের বাসায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। তল্লাশিকালে তাদের আটক করতে না পারলেও পুলিশ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ বিএনপির।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবুল হোসেন লিটন বলেন, “বুধবার রাত ৭টার দিকে উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী তানজিল, রাফি, রাসেল ও সুজন মনোহরপুর নির্বাচনী প্রচারের গেলে বিএনপির কর্মীরা হামলা চালিয়ে তাদের আহত করে।”

তিনি বলেন, “স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে বাজিতপুরের ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে রাসেল ও সুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়। আর তানজিল ও রাফি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।”

এই ঘটনার পর বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে জানিয়ে এই আওয়ামী লীগ নেতা অভিযোগ করেন, বিএনপি এখানে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে চাইছে।

বিএনপি দলীয় প্রার্থী ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম অভিযোগ করেন, পুলিশের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয় ও নির্বাচনী ক্যাম্পে ভাঙচুর চালায়। হামলার সময় একটি মোটরসাইকেল, দুটি দোকানও ভাঙচুর করে।

সাফি উদ্দিনের আটক বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সাফি উদ্দিন কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত। তার কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়েছে। মাসে দুইবার সিঙ্গাপুর গিয়ে তার কিডনি ডায়ালাইসিস করতে হয়। এমন একজন রোগীকে পুলিশ বিনা মামলায় আটক করেছে।”

কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নান্নু মোল্লা বলেন, “সাফি উদ্দিন একাধিক মামলার সন্দেহভাজন আসামি। এই কারণেই তাকে আটক করা হয়েছে।”