সাইয়িদ টুকুর সঙ্গে নীরব প্রতিদ্বন্দ্বী নিজামীর ছেলেও|112120|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৮:০৬
পাবনা-১
সাইয়িদ টুকুর সঙ্গে নীরব প্রতিদ্বন্দ্বী নিজামীর ছেলেও
পাবনা প্রতিনিধি

সাইয়িদ টুকুর সঙ্গে নীরব প্রতিদ্বন্দ্বী নিজামীর ছেলেও

জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পাবনা-১ (সাঁথিয়া ও বেড়ার আংশিক) আসনে জটিল হয়ে উঠেছে ভোটের সমীকরণ। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর নৌকার বিপরীতে ধানের শীষের প্রার্থী আওয়ামী লীগ ছেড়ে গণফোরামে যোগ দেওয়া সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ।

আর ভোটের মাঠে প্রকাশ্য উপস্থিতি না থাকলেও আপেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে আছেন জামায়েতের সাবেক নেতা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নজিবুর রহমান। নির্বাচনে উভয়পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ভোটের মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। 

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাত্র ক’দিন আগেও নৌকার প্রচারে ছিলেন আবু সাইয়িদ। তার হাতেই এখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতীক ধানের শীষ। একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে গণফোরামে যোগ দিয়ে প্রার্থী হয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের। আর এতে ক্ষতির মুখে পড়েছে জামায়াত। শক্ত অবস্থান থাকার পরও জোটের সমীকরণে মনোনয়ন হাতছাড়া হয়েছে তাদের।

১৯৯১ ও ২০০১ সালে আসনটিতে নির্বাচিত জামায়াতের সাবেক আমীর মতিউর রহমান নিজামীর মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় দল হিসেবে কাগজে কলমে জামায়াতের অস্তিত্ব না থাকলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে রয়েছেন নিজামীপুত্র নজিবুর রহমান। সম্প্রতি ফেসবুকে ভিডিও বার্তায় নিজামীর বড় ছেলে ড. নকিবুর রহমান সাঁথিয়া-বেড়ার মানুষের কাছে ছোট ভাই নজিবুর রহমানের জন্য ভোট চেয়েছেন।

ভিডিও বার্তায় নকিবুর রহমান ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী আবু সাইয়িদকে নিজামীর ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুতকারী বলেও উল্লেখ করেছেন। তবে ভোটের মাঠে নজিবুর রহমানের আপেল প্রতীকের কোনো পোস্টার বা প্রচার দেখা যায়নি। 

পাবনা রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান স্বপন বলেন, অস্বীকার করার উপায় নেই সাঁথিয়ায় জামায়াতের ভোট ব্যাঙ্ক আছে। তবে, তা এককভাবে নির্বাচিত হওয়ার মতো যথেষ্ট নয়। তা ছাড়া, প্রায় পাঁচ বছর ধরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক তৎপরতাও চালাতে পারেননি। বিএনপির ভোট ছাড়া জামায়াত নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে পারবে না।

প্রতীক বরাদ্দের পর আবু সাইয়িদ বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচারে নেমেই দফায় দফায় হামলার শিকার হয়েছেন। গত ১৩ ও ১৪ ডিসেম্বর সাঁথিয়ার শিমুলতলা বাজার, জোড়গাছা বাজার এবং মাধপুর মোড়ে হামলার শিকার হন। এসব ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। 

আবু সাইয়িদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত আদর্শ প্রতিষ্ঠায় সময়ের প্রয়োজনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছি। কিন্তু প্রতিটি স্থানেই নৌকার প্রার্থীর নির্দেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমি ও আমার সমর্থকদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমার গাড়ি ভাঙচুর করে, সমর্থকদের পিটিয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। জনগণের ভোটে জিততে পারবে না বলে ভয় দেখিয়ে নির্বাচনী মাঠ থেকে আমাদের সরিয়ে দ্ওেয়া সম্ভব হবে না।’

আর ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীকে আদর্শচ্যুত উল্লেখ করে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাংসদ শামসুল হক টুকু। তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করে আবু সাইয়িদ পরিকল্পিত মিথ্যাচার করছেন। আদর্শ বিচ্যুত হয়ে জামায়াতের সমর্থন পেতে তিনি নানা ছলচাতুরী করছেন। জামায়াতের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা তার ওপর বিভিন্ন স্থানে হামলা করছে।