সাকিবময় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ|112170|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
সাকিবময় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ
মোহাম্মদ খাইরুল আমিন

সাকিবময় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ : ২১১/৪ (২০ ওভার)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ১৭৫ (১৯.২ ওভার)

ফল : বাংলাদেশ ৩৬ রানে জয়ী।

টি-টুয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অঘটনঘটনপটীয়সী। কখনো ২৩২ রানের টার্গেট তাড়া করে জেতে। আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে যায় শেষ ওভারে অবিশ্বাস্য চার বলে ৪ ছক্কার প্রয়োজন মিটিয়ে। কিন্তু বাংলাদেশও তো এই ফরম্যাটে আজকাল ২১৫ রান তাড়া করে জিতছে। আবার বোলাররাও হয়ে উঠছেন জয়ের নায়ক। ব্যবধানটা কমে আসছে!

মিরপুরে এদিন যেন ব্যাটিং-বোলিংয়ে ভারসাম্য দেখানোর উদাহরণ বাংলাদেশ দল। আরো উদাহরণ সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার। ব্যাটিংয়ের প্রথম ভাগে লিটন কুমার দাস। দ্বিতীয় ভাগে ‘ক্যাপ্টেন’ সাকিব আল হাসান বড় স্কোর গড়ার অন্যতম কারিগর। আবার ক্যারিবিয়ানরা যখন চোখ রাঙায় তখন বল হাতে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিংটাও ওই সাকিবের। প্রথমবারের মতো ৫ উইকেটই টি-টুয়েন্টিতে। ২১ রানে এই গৌরব। বাংলাদেশের ইতিহাসেরই দ্বিতীয় সেরা। তাতে ম্যাচটাই শেষে সাকিবময়!

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিটা ছোট সংস্করণের ক্রিকেটে বাংলাদেশের বড় হয়ে ওঠার পথের আরেকটি উদাহরণ হয়ে থাকল। যেমন হয়েছে এই বছরের নিদাহাস ট্রফিতে। যেমন হয়েছে সেদিন ফ্লোরিডায়। এমনটা হলো বলেই তিন ম্যাচের সিরিজের উত্তেজনা আর আগ্রহটা রইল বেঁচে। খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে সাকিবের দল প্রথমে ব্যাট হাতে দেখাল দোর্দণ্ড প্রতাপ। তারপর এক ওভারে ২৪ রানও দিয়ে ফেললেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান।

দারুণ ধারাবাহিক শেই হোপ আবারও ব্যাট হাতে দিচ্ছিলেন হুমকি। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের বড় কীর্তিকে ছোট করে বোলাররা কীভাবে দলকে ডোবান! তা তারা হতে দিলেন না। গত আগস্টের মতো আবার উইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে হারিয়ে সিরিজে ফিরল বাংলাদেশ। এখানেই ২২ তারিখের সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচটা কোন রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষায় কে জানে!

প্রথমে ব্যাট হাতে লিটন দাস দেখালেন, আগের ম্যাচের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছেন তারা। তামিম ইকবালও খানিকটা সঙ্গে রইলেন। সৌম্য সরকার এসে লিটনকে দিলেন সঙ্গ। এবার আর ক্যারিবিয়ান পেসাররা আতঙ্ক জাগাতে পারলেন না। উল্টো বারবার বোলিং পরিবর্তনের কথাই ভাবতে হলো প্রতিপক্ষ অধিনায়ককে। টস হেরে পরে বল করার জন্য হাতে পুঁজি লাগে বেশি এই শীতল আবহাওয়ায়। লিটন তার সাহসী ইনিংসে মন মাতানো কিছু শট উপহার দিলেন। তামিম ১৫ রান করে ফিরে গেলেন। সৌম্য ৩২। কিন্তু পাওয়ার প্লেতে ভালো রান হলো। শুরুতে উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে হলো না যেমনটা হয়েছিল সিলেটে। ২৬ বলে লিটনের হাফসেঞ্চুরি ফ্লোরিডায় সিরিজ জেতানো ৬১ রানের ইনিংসটার রেপ্লিকা যেন। এখানে ৩৪ বলে ৬০। দারুণ ৪টি ছক্কা।

শুরুর জুটি ৪২ রানের। দ্বিতীয়টিতে ৬৮। বাংলাদেশ দলের পতনের ইতিহাস এর মধ্যে চোখ রাঙিয়ে গেছে। ১০ রানে পড়েছে ৩ উইকেট। কিন্তু নেতা হলে সাকিব আল হাসানের মতোই তো হতে হবে। আগের ম্যাচে স্রোতের প্রতিকূলে ফিফটি করেছিলেন। এবার মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে তার অবিচ্ছিন্ন ৯১ রানের পার্টনারশিপ পথ হারাতে দেয়নি দলকে। প্রায় ১৬২ স্ট্রাইকরেটে ৪২ সাকিবের। ২১ বলে ৪৩ রানে মাহমুদউল্লাহর স্ট্রাইকরেট ২০৫-এর মতো। বোঝাই যায়, লিটনের বিস্ফোরণের পর সাকিব আর মাহমুদউল্লাহর অভিজ্ঞতা কী কাজটাই না করেছে।

৪ উইকেটে ২১১। টি-টুয়েন্টিতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। তারপরও টি-টুয়েন্টির বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এ সংস্করণের দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বলে কথা। তিন ওভার পূরণের আগে ৫০ হয়ে যায়। গ্যালারিতে ধুকপুকানি। জীবনের সেরা ফর্মে ধাকা ধারাবাহিক হোপ (৩৬) যেতেই অবশ্য উইন্ডিজের হোপ বা আশা মিলিয়ে যাওয়ার শুরু। মাঝে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন রোভম্যান পাওয়েল (৫০)। কিন্তু মোস্তাফিজ তাকে ফেরানোর আগেই ৭ উইকেট হারানো ক্যারিবিয়ানদের সম্ভাবনা অনেকটা শেষের পথে। আর মাঝের ওই সাতের পাঁচটিই কি না সাকিবের। নিকোলাস পুরানকে (১৪) দিয়ে শুরু। শিমরন হেটমায়ার (১৯) আর ড্যারেন ব্রাভো (২) এক ওভারেই শিকার। পরের দুই ওভারে যথাক্রমে প্রতিপক্ষ অধিনায়ক কার্লোস ব্রাফেট (৮) আর অলরাউন্ডার ফ্যাবিয়েন অ্যালেন (০)। ৪-০-২১-৫। নিজের দল যে পার্টনারশিপে বেড়ে উঠেছে তার ধারেকাছে কখনো প্রতিপক্ষকে যেতে দেননি এই স্পিনার!

এক কথায় শেষে আসেন সেই সাকিবই। ব্যাটেও তিনি, বলেও। অধিনায়কত্বে, ম্যাচ জেতানোতেও। সিরিজ হারের মুখ থেকে টেনে দলকে সিরিজ জেতার সম্ভাবনায় নিয়ে আসা মানুষটিও সাকিব। বিস্ময়ের পর বিস্ময়! এক ম্যাচে এত সাকিব!