রোহিঙ্গা হত্যাকান্ড- নিয়ে মার্কিন সিনেটরদের চিঠি গণহত্যার স্বীকৃতি দিন|112187|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
রোহিঙ্গা হত্যাকান্ড- নিয়ে মার্কিন সিনেটরদের চিঠি গণহত্যার স্বীকৃতি দিন
রূপান্তর ডেস্ক

রোহিঙ্গা হত্যাকান্ড- নিয়ে মার্কিন সিনেটরদের চিঠি গণহত্যার স্বীকৃতি দিন

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা আখ্যা দিতে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একদল সিনেটর। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত বুধবার সিনেটররা এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন।

চিঠিতে সিনেটররা জানান, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব প্রতিবেদনে গণহত্যার পরিষ্কার প্রমাণ উপস্থিত। এর পরও মন্ত্রণালয় গণহত্যার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে দৃঢ় আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’ পাশাপাশি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ওপর একটি আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেওয়ার জন্য পম্পেওর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ওই সিনেটররা।

সিনেটের ফরেন রিলেশন্স কমিটির প্রধান ডেমোক্র্যাট সিনেটর বব মেনেনডেজ, রিপাবলিকান সিনেটর মার্কো রুবিও ও সুসান কলিন্স এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর এড মার্কি, টিম কেইন, বেন কার্ডিন ও জেফ মার্কলি চিঠিটিতে স্বাক্ষর করেছেন।

গত সেপ্টেম্বরে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা স্বীকৃতি দিতে আহ্বান জানায়। যুক্তরাষ্ট্র সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন বৈধ পদক্ষেপ নিতে পারবে। মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর এ দমনাভিযানকে জাতিগত নির্মূল অভিযান বলে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অন্যরা। যদিও জাতিগত নির্মূল অভিযানের অভিযোগ অস্বীকার করেছে মিয়ানমার।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, ‘কোনো সন্দেহ নেই, রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করতে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হয়েছে, যাকে গণহত্যার সংজ্ঞায় ফেলা যায়। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ওই পদক্ষেপকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণহত্যা আখ্যা দিতে ব্যর্থ হওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য ‘সত্য বলা ও দায়িত্ব’ অস্বীকার করা হবে। একই সঙ্গে ‘মানবাধিকার, মর্যাদা ও জবাবদিহিতার প্রচারও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের জাতির পূর্বপুরুষদের কর্মকাণ্ডকে ‘কলঙ্কলেপন’ করছে।’

প্রসঙ্গত, গত বছর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকটি সীমান্ত চৌকিতে সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গাদের গ্রামে সেনা অভিযান শুরু করে দেশটির সামরিক বাহিনী। এ অভিযানের মুখে গত বছরের আগস্ট থেকে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

এদিকে রোহিঙ্গা শরণার্থীবিষয়ক সংকট নিরসনে মিয়ানমারকে জাতিসংঘের সঙ্গে মিলে কাজ করতে চাপ দিতে দেশটির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে নিরাপত্তা পরিষদ।