নির্বাচন কমিশনারদের দ্বন্দ্ব কাম্য নয়|112198|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
নির্বাচন কমিশনারদের দ্বন্দ্ব কাম্য নয়
প্রতিদিন ডেস্ক

নির্বাচন কমিশনারদের দ্বন্দ্ব কাম্য নয়

নির্বাচনে সব দল ও জোটের অংশগ্রহণের জন্য সমান সুযোগ বা মাঠ সমতল আছে কি না, তা নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে অন্য একজন নির্বাচন কমিশনারের প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলতে পারে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ১১ দিন আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা ও নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের দ্বন্দ্ব আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে গড়িয়েছে।

ক্ষমতার বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেপ্তার ও মাঠে নামতে না দেওয়ার অভিযোগ করে আসছেন বিএনপি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বাম জোটের বেশ কিছু নেতা। এই প্রেক্ষাপটেই সোমবার মাহবুব তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি না নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলে কিছু আছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কথাটা এখন অর্থহীন কথায় পর্যবসিত হয়েছে।’

মঙ্গলবার রাঙ্গামাটিতে এক অনুষ্ঠানে মাহবুব তালুকদারের বক্তব্য অসত্য বলে মন্তব্য করে কমিশনারদের অন্তর্দ্বন্দ্বকে সামনে নিয়ে আসেন। পরদিন নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সামনে লিখিত প্রতিবাদলিপি পড়ে মাহবুব তালুকদার দ্বন্দ্বের বিষয়টিকে আরো তীব্র করে তোলেন। সিইসির বক্তব্যের কঠোর প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ কথা বলে তিনি একজন নির্বাচন কমিশনারের অস্তিত্বে আঘাত করেছেন। একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, সিইসিসহ সব নির্বাচন কমিশনার সমান।’

এর আগে, নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার নিয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে ইসির সভা বর্জন করে আলোচনায় আসেন মাহবুব তালুকদার। কমিশনের কর্মকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য করে আলোচনায় ঢুকে পড়েন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘যিনি নোট অব ডিসেন্ট দিলেন বা বেরিয়ে গেলেন, তিনি সার্চ কমিটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি যে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করেছিলেন, সেখানে বিএনপির মনোনীত ব্যক্তি হিসেবে নির্বাচন কমিশনে এসেছেন।’

নির্বাচন কমিশনারদের এই দ্বন্দ্ব এবং এ নিয়ে রাজনীতিকদের প্রতিক্রিয়ায় কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে। সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়োগপ্রাপ্তরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন না এবং কাউকে পক্ষপাতিত্বমূলক আনুকূল্যও দেবেন না, এমনটাই তাদের শপথ। কিন্তু আলোচনার আগুনে ঘি ঢালে দুই কমিশনারের নিকটাত্মীয়দের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা।

পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে সিইসির ভাগ্নে এস এম শাহজাদাকে মনোনয়ন দিয়েছে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। মাহবুব তালুকদারের জামাতা বান্দরবানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল হয় ইসিতে। পরে হাইকোর্টে আবেদনেও ফেরেনি তার প্রার্থিতা।

এর আগে, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বিষয়ে পুলিশের খোঁজখবর করা এবং পোলিং এজেন্টদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে পুলিশি খোঁজ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়েও বিতর্ক ওঠে। এই সময় নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর এবং ভোটারদের আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নির্বাচনের ঠিক আগে আগে জনগণের সামনে এ বিষয়ে যে বার্তা আসছে, তা ইতিবাচক নয়।