ট্রাম্পের সেনা প্রত্যাহারে অস্বস্তিতে মিত্ররা|112202|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
ট্রাম্পের সেনা প্রত্যাহারে অস্বস্তিতে মিত্ররা
রূপান্তর ডেস্ক

ট্রাম্পের সেনা প্রত্যাহারে অস্বস্তিতে মিত্ররা

সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সকল সৈন্য প্রত্যাহারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেওয়া ঘোষণায় মিত্ররা সমালোচনা করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) সম্পূর্ণভাবে পরাস্ত করা হয়েছে এমন বিবৃতি দিয়ে গত বুধবার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

এমন ঘোষণার পর জ্যেষ্ঠ অনেক রিপাবলিকান নেতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো শঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, সৈন্য প্রত্যাহার করে নিলে আইএস’র পুনরুত্থান হতে পারে। সিএনএন বলছে, সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতাকেন্দ্রিক শূন্যতার সুযোগ নিতে পারে ইরান ও অন্যান্য দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা বা চিঠি এখন আসেনি বলে উল্লেখ করেন সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কুর্দি বাহিনীর মুখপাত্র আলদার জলিল।

দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জ্যাক ট্যাপার বলেন, ‘এটা প্রচণ্ড ভুল এবং এই সিদ্ধান্ত কীভাবে আমাদের দেশকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে তা দেখতে পাচ্ছেন না প্রেসিডেন্ট।’ প্রেসিডেন্টের অন্যতম মিত্র হিসেবে পরিচিত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও বুধবার সিনেটে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘এমন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সম্মানে আঘাত হানবে। আমার মনে হয় এটা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে।’

গত বুধবার প্রকাশিত এক ভিডিওতে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের ছেলে-মেয়েরা আসছে এবং দেশে ফিরে আসছে। আমরা জিতেছি এবং এই কারণেই আমরা তাদের ফিরে আসা চাই।’ ব্রিটিশ সরকার সিরিয়া থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানায়। ইসরায়েল সরকার অবশ্য মনে করে, যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার করলেও সিরিয়ায় প্রভাব বিস্তার করার ভিন্ন পন্থা আছে ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তের সুযোগ নেবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান। প্রসঙ্গত, গত সোমবার এরদোয়ান সিরিয়ার কুর্দি গেরিলা বাহিনীর (ওয়াইপিজি) ওপর নতুন করে অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন। অভিযান চালানোর ব্যাপারে টেলিফোনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলাপ হয়েছে বলেও তিনি জানান।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দি অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দুই হাজার সেনা সদস্য অবস্থান করছে। সিরিয়ার কুর্দি এবং আরব যোদ্ধাদের (সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্স) সঙ্গে অংশীদারিত্বের কারণে আইএসবিরোধী লড়াইয়ে অংশ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের এক রিপোর্টে বলা হয়, সিরিয়ায় এখনো ১৪ হাজার আইএস যোদ্ধা রয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ইরাকে তাদের সংখ্যা আরো বেশি। এসব যোদ্ধা গেরিলা যুদ্ধ পদ্ধতি পাল্টে নতুন করে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করতে পারে বলেও জানানো হয় রিপোর্টে।