লিটনের দেখানো পথে ব্যাটিং দাপট|112245|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
লিটনের দেখানো পথে ব্যাটিং দাপট
লিটনের দেখানো পথে ব্যাটিং দাপট

লিটনের দেখানো পথে ব্যাটিং দাপট

যেকোনো বড় সংকটেই জেগে ওঠে বাংলাদেশ। চাপের মুখে ঘুরে দাঁড়ায়। জাতিগত চরিত্রের বাইরে নয় ক্রিকেটও। পথ দেখায় একজন। সেই পথ পাড়ি দেওয়ার মাঝে কখনো বিপত্তি আসে। কিন্তু একজনের হাত থেকে আরেকজন নেতৃত্ব নিয়ে ছুটে চলেন লক্ষ্যের দিকে। থেমে যাওয়া নয়। ছুট। দে ছুট। লড়াইয়েই সমাধান। এবং মিরপুরে কাল সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে শুরুতে পথ দেখানো মানুষটি লিটন কুমার দাস। সেই পথে হেঁটে সৌম্য সরকারের পর সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ দলকে দেন ভরসা।

ম্যাচ হারলেই সিরিজ হার। শেষ ম্যাচ তখন গুরুত্বহীন। বাংলাদেশের বছরের শেষটা হয়ে যায় বড্ড ম্যাড়মেড়ে। অন্ধকার অনেকটা। তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথমটির বাজে হার এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। কারো ভেতর আবার টি-টুয়েন্টিতে সাকিবরা তেমন ভালো কি না জাতীয় তর্ক উঠে আসে। প্রমাণেরও ছিল অনেক কিছু। সেই প্রমাণের চেষ্টায় বাংলাদেশ পেয়ে যায় ২০ ওভারের ক্রিকেটে দ্বিতীয়বারের মতো ২০০ পার করা স্কোর। যেটা আবার আগে ব্যাট করে এই প্রথম। আগের ২১৫-কে শেষ পর্যন্ত পার হওয়া যায় না শেষ দুই ওভারে ১৬ রান এলে। কিন্তু ১০.১ ওভারে ১০০ আর ১৮.৩ ওভারে ২০০ স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের সামর্থ্যরে কথাই বলে গেছে। বুঝিয়েছে আগের ম্যাচে ওই যে মাত্র ১২৯ সেটা ক্রিকেট বলেই কখনো কখনো হয়ে যায়। পাওয়ার প্লের ছয় ওভার শেষে এখানে ৬১/১। প্রথম উইকেট পড়েছে ৪.১ ওভারে, ৪২ রানে। সিলেটে ছিল ৫৪/৪। ওখানে দ্বিতীয় ওভারেই দলের ১১ রানে পতন শুরু হয়েছিল।

লিটন যেন পণ করেছিলেন ঢাকার মাঠটাতে ফিরিয়ে দেবেন ফ্লোরিডার তৃতীয় টি-টুয়েন্টির স্মৃতি। স্থান আর কালটা বদলেছে শুধু। পাত্র একই। আর লিটনও বিস্ফোরক ভূমিকায়। আগস্টে উইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম কোনো কুড়ি ওভারের সিরিজ জয়ে এই ওপেনার ৩২ বলে খেলেছিলেন ৬১ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংস। যেটি সিরিজ জয়ের পথ এঁকে দিয়েছিল। পরে ম্যাচ জিতে দল সেটাকে দিয়েছিল পূর্ণতা।

আগের ম্যাচে ৩১ রানে ৩ উইকেট নেই হয়ে গিয়েছিল। তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারের মতো একই শট খেলে আউট হওয়ার অপরাধ ছিল লিটনেরও। এদিন তার পার্টনার তামিম আনলাকি থার্টিনে লাক পেলেন। তার ক্যাচ ছাড়া হলেও ১৫ রানে থামতে হয় দেশের সেরা ওপেনারকে। ততক্ষণে অবশ্য লিটনের ব্যাটে আলো ফুটতে শুরু করেছে। কার্লোস ব্রাফেটকে চতুর্থ ওভারের শেষ দুই বলে পুলে দুটি চোখ ধাঁধানো ছক্কা। প্রথমটির চেয়ে দ্বিতীয়টি মনকাড়া এবং প্রতাপের প্রকাশ। আত্মবিশ্বাসেরও। একটু বেরিয়ে এসে গ্যালারিতে। পরের ওভারটিতে লিটন টার্গেট করেন ব্রাফেটের বদলে আসা পেসার ওশেন টমাসকে। এবার প্রথমে উইকেটে বেরিয়ে এসে সামনের দিকে ছক্কা। পরের বলেই উল্টো। ঘুরে গিয়ে নিজের পেছনের দিকটায় বল উড়িয়ে সীমানার বাইরে।

২৬ বলে ফিফটি। সৌম্য সরকারও তাল মেলান। ক্লাস দেখান। ক্যারিবিয়ান পেসাররা এদিন তিন শীর্ষ ব্যাটসম্যানের সামনে আর সেদিনকার মতো নয়। ৩২ রান সৌম্যর। কিন্তু লড়াইয়ের পথে নতুন সংকটও আসে। ১১০ থেকে ১২০, বলের ব্যবধান ১১। ৩ উইকেট নেই বাংলাদেশের। সাময়িক এ সংকটে ৩৪ বলে ৪ ছক্কা ও ৬টি চারে ৬০ করা লিটন, ৩২ রানে থাকা সৌম্য ও মাত্র ১ রানেই ফিরে যান মুশফিকুর রহিম।

প্রথম ম্যাচে শুরুতে এমন ঝামেলার পর অধিনায়ক সাকিব ৬১ রানের ইনিংস খেলেও দলকে বড় সংগ্রহ দিতে পারেননি। কিন্তু এবার মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে একটা জুটি গড়ে তোলেন। এবং সেটাই ইনিংস সর্বোচ্চ ৯১ রানের। সাকিবের ব্যাটে আভিজাত্যের প্রকাশ। কী অবলীলায় না ছক্কা হাঁকান ব্রাফেটকে। এসেই শেলডন কটরেলের প্রথম তিন বলে তিন বাউন্ডারি মাহমুদউল্লাহর। এরপর কিমো পলকে আরো তিনটি। লাফ দিয়ে বেড়েছে তার রান।

মনে হয়েছিল অন্তত ২২০ হবে। উইন্ডিজের বিপক্ষে আগের সর্বোচ্চ ১৮১ পেরিয়েছে কখন। কিন্তু শেষ দুই ওভারে ক্যারিবীয় বোলাররা খুব সুযোগ দিলেন না। ২৬ বলে সাকিবের ৪২ আর ২১ বলে মাহমুদউল্লাহর ৪৩ শেষ ঘোষণার মতো যেন। সব অবস্থাতেই লড়াইয়ে লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়াতে জানে বাংলাদেশ।