অগ্নিঝুঁকিতে ঢাবির অধিকাংশ ভবন|112347|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
অগ্নিঝুঁকিতে ঢাবির অধিকাংশ ভবন
ওমর হায়দার

অগ্নিঝুঁকিতে ঢাবির অধিকাংশ ভবন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে একাডেমিক, প্রশাসনিক ও আবাসিক শতাধিক ভবনের অধিকাংশই রয়েছে অগ্নিঝুঁকিতে। কোথাও আগুন লাগলে নেভানোর কেন্দ্রীয় কোনো ব্যবস্থা নেই। এমনকি অগ্নিনির্বাপক গ্যাস ও পাউডার সিলিন্ডার, হিটার ও ওয়ার্নিং অ্যালার্মের মতো প্রাথমিক ব্যবস্থাও নেই বেশির ভাগ ভবনে। কিছু ভবনে অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার ঝুলানো থাকলেও মেয়াদ নেই। এই অবস্থায় অগ্নিকাণ্ড ঘটলে ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর রেজিস্ট্রার ভবন। উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রারসহ উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের কার্যালয় এখানে। ৮২টি বিভাগ, ১২ ইনস্টিটিউটসহ অধিভুক্ত ১১৮টি কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সনদ ও নম্বরপত্র, বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির দলিলপত্র, আর্থিক হিসাবসহ সব গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এ ভবনে সংরক্ষিত। গুরুত্বপূর্ণ এ ভবনের নিচতলায় ক্যান্টিনে ছয়টি গ্যাসের চুলা রয়েছে। চুলার ঠিক ওপরেই বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক তার, যা থেকে যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় দুর্ঘটনা। অথচ ভবনটিতে অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা নেই।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট প্রধান কর্মকর্তা লুৎফর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের বাজেট ঘাটতি রয়েছে। প্রয়োজনে ওয়াশরুমের পানি দিয়ে সাময়িক ব্যবস্থা নেব। তবে নতুন ভবনগুলোতে আমরা অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

দু®প্রাপ্য বই সংগ্রহের দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যতম ঢাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। এখানে আছে সাত লাখের বেশি বই, বিভিন্ন প্রামাণ্য দলিল, পুরোনো বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও পত্রিকা। এখানে শর্টসার্কিট থেকে ঘটে যেতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা। কিন্তু পুরো গ্রন্থাগারে মাত্র ২১টি অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্রন্থাগারের এক কর্মকর্তা বলেন, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র আছে, কিন্তু অনেক কর্মকর্তা জানেন না এটা কীভাবে ব্যবহার করতে হয়।

একইভাবে আগুন লাগলে ঝুঁকিতে রয়েছে বিজ্ঞান গ্রন্থাগার। সেখানে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র মাত্র পাঁচটি।

বেশির ভাগ একাডেমিক ভবন ঝুঁকিতে : বিভিন্ন একাডেমিক ভবন ঘুরে দেখা যায়, অল্প কয়েকটি ছাড়া বেশির ভাগেই নেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের এমবিএ ভবনের পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টমতলায় একটিও অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার নেই। প্রথম থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত যেগুলো আছে তার মেয়াদ গত ১৯ জানুয়ারি শেষ হয়েছে। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের পুরাতন একাডেমিক ভবনেও নির্বাপকের মেয়াদ ১১ মাস আগেই শেষ। একই অবস্থা আইবিএ ভবনেও। শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউটেও অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা নেই। কলাভবনে ৪৮টি অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র থাকলেও মেয়াদ ছয় মাস আগে শেষ। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ঝুলানো থাকলেও মেয়াদ নেই।

বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ভবন : বিজ্ঞান অনুষদের ভবনগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন রাসায়নিক গবেষণাগার। এসব ল্যাবে গ্যাস সংযোগ আছে। গবেষণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক থেকে যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

নতুন তৈরি হওয়া গণিত ভবনে কর্র্তৃপক্ষ আগুন নেভানোর সব ব্যবস্থা থাকার দাবি করলেও গিয়ে দেখা যায় ৬৮টি অগ্নিনির্বাপক গ্যাস সিলিন্ডার আছে, যার মেয়াদ মে মাসেই শেষ। একই অবস্থা মোকাররম ভবন এলাকার অনুষদগুলোতে। ষষ্ঠতলায় ২৫টি অগ্নিনির্বাপক থাকলেও যথেষ্ট নয়। একই চিত্র কার্জন এলাকার ভবনগুলোতেও। একই অবস্থা সব সময় মুখর থাকা ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি)।

একই চিত্র আবাসিক হলে : মেয়েদের পাঁচটি হলের দুটিতে আগুন নেভানোর প্রাথমিক কোনো ব্যবস্থাই নেই। তবে সম্প্রতি চালু হওয়া রোকেয়া হলে ৭ই মার্চ ভবনে ব্যবস্থা আছে। কুয়েত মৈত্রী হলে মাত্র দুটি ও বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে ২৫টি অগ্নিনির্বাপক গ্যাস সিলিন্ডার থাকলেও কোনোটিরই মেয়াদ নেই। একমাত্র সুফিয়া কামাল হলে তিনটি ভবনে ১২২টি অগ্নিনির্বাপক গ্যাস সিলিন্ডার রয়েছে।

ছেলেদের ১৩টি হলে থাকেন ১৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। একমাত্র বিজয় একাত্তর হলে আগুন নেভানোর যন্ত্র থাকলেও মেয়াদ ফুরিয়েছে আগেই। অন্য হলগুলোতে কোনো ধরনের প্রাথমিক ব্যবস্থা নেই। একইভাবে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, স্যার পিজে হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হল, উপাচার্যসহ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবনগুলোতে নেই আগুন নেভানোর ব্যবস্থা। ফলে অগ্নিকা- ঘটলে প্রাথমিক অবস্থায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে না।

এ বিষয়ে ঢাবির প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী বলেন, প্রতিটি বিভাগের প্রধানের উচিত সেটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। হলের প্রাধ্যক্ষ নিরাপত্তার বিষয়ে দেখবেন।

জানতে চাইলে উপাচার্য ড. আখতারুজ্জামান বলেন, অগ্নিনির্বাপণের সব ব্যবস্থা প্রয়োজন। আগামীতে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে।