ধানের শীষের প্রার্থিতা বাতিলে নৌকায় স্বস্তি|112371|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
ধানের শীষের প্রার্থিতা বাতিলে নৌকায় স্বস্তি
পাভেল হায়দার চৌধুরী

ধানের শীষের প্রার্থিতা বাতিলে নৌকায় স্বস্তি

আদালতের আদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে বিএনপিসহ প্রতিপক্ষ জোটের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলের ঘটনায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে স্বস্তির প্রকাশ দেখা গেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য সহানুভূতি দেখালেও সামনে ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তাদের আনন্দ চাপা থাকেনি।

দলটির নেতারা বলছেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকলে বা প্রার্থী দুর্বল থাকলে অপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ভালো লাগাটাই স্বাভাবিক। প্রার্থিতা বাতিলের ঘটনায় ক্ষমতাসীনদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে আদালত প্রার্থিতা বাতিল করছে। এক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আদালত বিভিন্ন দলের প্রার্থিতা বাতিল করছে। এখানে আওয়ামী লীগের কী করার আছে? যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যাচ্ছে, তাদের জন্য সহানুভূতি প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন চেয়ে এসেছে। একাদশ সংসদ নির্বাচন হচ্ছেও সেভাবে। তবুও মাঠে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলে প্রার্থীদের মধ্যে আনন্দ কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক। 

গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) অনুযায়ী মনোনয়নপত্রে ত্রুটি থাকায় গত বুধবার পর্যন্ত ১০ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেছে আদালত। লাভজনক প্রতিষ্ঠানে থাকা, ঋণখেলাপি ও বিল খেলাপির দায়ে তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। তবে বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষমতাসীন দল বা জোটের কেউ নেই। ঢাকা-১ ও ২০, মানিকগঞ্জ-৩, সিলেট-২, বগুড়া-৩ ও ৭, জামালপুর-১ ও ৪, জয়পুরহাট-১ এবং ঝিনাইদহ-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, যেসব আসনে বিএনপির প্রার্থিতা বাতিল হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে আওয়ামী লীগের দুশ্চিন্তা কমেছে। এ প্রক্রিয়ায় অন্তত ৫০ আসনে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী দল বা জোটের প্রার্থী বাতিল হতে পারে বলে তাদের আশা।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আরপিওর বিধান লঙ্ঘিত হলে যে কারো প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে। এখানে সরকারের কোনো হাত নেই। তিনি বলেন, আজ বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল হচ্ছে, কাল আমাদের দলের প্রার্থীরও হতে পারে। এটা নিয়ে সমালোচনার বা আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপানোর সুযোগ নেই।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তার জানান, আরপিওর বিধান লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থিতা বাতিলের সংখ্যা শেষ পর্যন্ত অর্ধ শতাধিকে পৌঁছাতে পারে। এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সিলেট-২ আসনের প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা। তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তার ক্ষেত্রেও আরপিওর বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে। ফলে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি কেন? তা জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, তাহলে বুঝতে হবে আরপিওর বিধানাবলির শর্ত মেনেই আওয়ামী লীগের সবাই প্রার্থী হয়েছেন। এটা ধরে নেওয়ার কোনো কারণ নেই যে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রার্থিতা বাতিল হচ্ছে।