সৌভাগ্যের মিরপুরে উৎসব হবে কি আজ|112376|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
সৌভাগ্যের মিরপুরে উৎসব হবে কি আজ
মোহাম্মদ খাইরুল আমিন

সৌভাগ্যের মিরপুরে উৎসব হবে কি আজ

ইতিহাস ফিরে ফিরে আসে। ভিন্ন ভিন্ন রূপে। তাই শিকার সময়ের সঙ্গে কখনো শিকারির রূপ নেয়। শিকারি হয়ে যায় শিকার। রূপকথার গল্পগুলোর পাত্র বদলে যায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আরো একটি টি-টুয়েন্টি সিরিজ জয়ের উৎসবের প্রস্তুতি নেয় ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ। সৌভাগ্যের মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম বারবার অভয় দিয়ে যায়। সম্ভব। অবশ্যই সম্ভব। মাঠের সেই ভাষা আর কেউ বুঝতে না পারলেও বুঝতে পারেন সাকিব আল হাসানরা।

কিন্তু সত্যি কি সম্ভব? প্রথম ম্যাচে লজ্জার পর দ্বিতীয় ম্যাচে বীরোচিত ঘুরে দাঁড়ানোর উপাখ্যান। সমতা। সফল যুদ্ধের পর শিরোস্ত্রাণ খুলে সেনানায়ক হাসেন। ইতিহাসের পাতা চোখের সামনে এনে বলে যান, সৌভাগ্যের মিরপুরে সবই সম্ভব। সম্ভব আজ সিরিজের তৃতীয় ম্যাচেও টি-টুয়েন্টির বর্তমান সম্রাটকে হারিয়ে দেওয়া। রাজত্ব তাতে মিলবে না বটে, মিলবে ভিন্ন ভিন্ন গৌরব। প্রথমবারের মতো কোনো দলকে এক মলাটে টানা তিন সিরিজেই হারিয়ে দেওয়া। প্রথম হবে টানা দুটি টি-টুয়েন্টি সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোও। আগেরটা সেদিনের। জুলাই-আগস্টে। ক্যারিবিয়া আর আমেরিকায়।

আরো হবে টানা পাঁচ সিরিজ জয় একই দলের বিপক্ষে! রূপকথা নয়? এই দলটিই তো ছিল টেস্টে অবিসংবাদিত সেরা। ওয়ানডেতে টানা তৃতীয় বিশ্ব শিরোপাটা একটুর জন্য জেতা হয়নি। দুবার চ্যাম্পিয়ন তো তারপরও। ক্যারিবিয়ানদের ট্র্যাজেডি বটে! ওই সময়টায় বিশ্ব ক্রিকেট মানচিত্রের কোথাও বাংলাদেশের খোঁজ মিলত না। কি অদ্ভুতই না এই পরিবর্তনের হাওয়া!

ফ্লোরিডার প্রেরণাতেই প্রথম আক্রমণে হেরে পিছিয়ে পড়ার পরও আবার চোখে চোখে রেখে প্রবল প্রতাপে জয়ে ফেরা। আগের সিরিজেও তো প্রথম ম্যাচ হেরে পরের দুটি জিতে হয়েছিল শ্রেষ্ঠত্বের উৎসব। সেই অভিজ্ঞতাও বলে, সম্ভব। হওয়াটাই তো সবচেয়ে বেশি সম্ভব।

দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স। এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়া যায়? অধিনায়ক সাকিবের কাছে বা কি চাইতে পারতেন এরও বেশি! কুড়ি ওভারে মিরপুরের মাঠের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ২১১-এর রেকর্ড গড়তে শেষে তিনিই তো ব্যাট হাতে পুরোধা। ২৬ বলে অপরাজিত ৪২। লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মাহমুদউল্লাহরা সামনের সারির সেনা। এরপর বল হাতে রেকর্ডগড়া ২০ রানে ৫ উইকেট। অসুস্থ শরীর নিয়েও মাঠে নেমে সবার সেরা সাকিব বলেন, মিরপুর বলেই আরো বেশি সম্ভব।

‘মিরপুর আমাদের জন্য অনেক পরিচিত। সাপোর্টটা খুব গুরুত্বপূর্ণ থাকে মিরপুরে।’ এখানেই অসংখ্য প্রথমের গল্প লেখা দলের সেরা তারকা সাকিব খেলার প্রাণকেও টানেন কাছে, ‘দর্শকের প্রভাবটা অন্যরকম অনুভূতি তৈরি করে। সামনের ম্যাচের আগে এটাও আমাদের জন্য অনেক ইতিবাচক ব্যাপার বলে আমার মনে হয়।’

অতএব প্রশ্নটা সরাসরি। আজ এখানে ফ্লোরিডার পুনরাবৃত্তি? ‘সম্ভাবনা তো আছে।’ এমন সম্ভাবনাকে সবসময় ‘সম্ভব’ পড়ার মানুষ ‘ক্যাপ্টেন সাকিব’। এই দলের বিপক্ষেই দ্বিতীয় টেস্টে চার স্পিনার খেলিয়েছেন। ক্যারিবিয়ানদের ধবলধোলাই করে ফিরে বলেছিলেন, ‘বিশেষ করে এই ম্যাচে আমি খুব ডিমান্ডিং ছিলাম।’ সাকিব মিরপুরের এই ম্যাচেও খুব ডিমান্ডিং।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আজকাল সমীহের দল বাংলাদেশ। কিন্তু রাতারাতি তো হয়নি। সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে টি-টুয়েন্টিতে। শেরেবাংলায় ৮৪ ম্যাচের ২৬টিতে জয়। এখানে ২১টির মধ্যে জয় আটটিতে। এখানেই নিজেদের সেরা সংস্করণ ওয়ানডের ৯১ ম্যাচে ৪৪ জয়। বড় বড় দলকে মাটিতে নামিয়ে এনে রূপকথার গল্প লেখার কীর্তি। টেস্টেও তাই। ১১২ ম্যাচের মোটে ১৩টিতে জয়। তার পাঁচটি এখানে, ১৯ ম্যাচ খেলে। ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেদিনও হয়েছে উৎসব।

উইন্ডিজের বিপক্ষে খেলা ১১ টি-টুয়েন্টিতে এখন ৫-৫-এ সমতা। এখানেও বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ। কিন্তু ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার কিমো পল গতকাল জানিয়ে যান, মরিয়া লড়াইয়ে পেস বোলিংয়ের সর্বোচ্চ ব্যবহারই দেখবে স্বাগতিকরা। সেটাও সম্ভব, যেমন প্রথমটিতে দেখিয়েছে তারা। সঙ্গে ব্যাটিংয়েও।

কিন্তু বাংলাদেশ দল ও খেলোয়াড়দের সৌভাগ্যের প্রতীক যে মিরপুরই! সেই মাঠেরই তো আজ বলার কথা, ব্যাটগুলো শানিত হোক তরবারির মতো। বল হোক বিষাক্ত তীর। ফিল্ডাররা হয়ে উঠুক একেকটা বাজপাখি। মাঠ ও মাঠের বাইরের প্রতিটি দর্শকের গলায় উঠুক বাঘের গর্জন। এমন সুযোগ কি আর রোজ আসে!