ভোটে যে ভূমিকায় থাকবে সেনাবাহিনী|112378|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
ভোটে যে ভূমিকায় থাকবে সেনাবাহিনী
বিশেষ প্রতিনিধি

ভোটে যে ভূমিকায় থাকবে সেনাবাহিনী

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিচারিক ক্ষমতাসহ বিরোধী দলের দাবির মধ্যে সরকার সেনা মোতায়েন ও তার কর্মপরিধি সুনির্দিষ্ট করে একটি ঘোষণা জারি করেছে।

গত বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জারি করা ওই পরিপত্রে বলা হয়েছে, ২৪ ডিসেম্বর থেকে সেনা মোতায়েন করা হবে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার চাহিদা ও নির্দেশনা অনুযায়ী বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা দেবে। সশস্ত্র বাহিনী ২ জানুয়ারি পর্যন্ত মোতায়েন থাকবে। এই বাহিনীর সদস্যরা মূলত জেলা, উপজেলা ও মহানগর এলাকার সংযোগস্থলে (নডাল পয়েন্ট) অবস্থান করবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে টহল ও অন্যান্য আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

একই দিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একই পরিপত্রে ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগেই সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার বন্ধের নির্দেশনা দেয়। পরিপত্র অনুযায়ী, ২৮ ডিসেম্বর  সকাল ৮টার পর থেকে প্রার্থীরা আর কোনো সভা-সমাবেশ, নির্বাচনী গণসংযোগ, শোভাযাত্রা ও মিছিল করতে পারবেন না।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ৭৮ ধারা অনুযায়ী ভোটের পর আরো দুদিনও একই নিয়ম বলবৎ থাকবে বলেও পরিপত্রে বলা হয়। অর্থাৎ ২৮ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে ১ জানুয়ারি বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে সব ধরনের সভা-সমাবেশ, নির্বাচনী গণসংযোগ, শোভাযাত্রা ও মিছিল বন্ধ থাকবে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীকে  অবহিত করার জন্যও পরিপত্রে বলা হয়েছে। এর আগে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনের সময় ৩২ ঘণ্টা আগে থেকে প্রচার চালানো নিষিদ্ধ ছিল। তবে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনের আগে আরপিও সংশোধন করে এই সময় ৪৮ ঘণ্টা করা হয়।

নির্বাচনে যেভাবে কাজ করবে সশস্ত্র বাহিনী : পরিপত্রে বলা হয়েছে, ২৪ ডিসেম্বর থেকে আগামী ২ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। রিটার্নিং কর্মকর্তা সহায়তা চাইলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তারা সহায়তা করবেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজন অনুসারে উপজেলা-থানায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ করা হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তা বা প্রিসাইডিং কর্মকর্তার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তার ভোটকেন্দ্রের ভেতরে বা ভোট গণনা কক্ষের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী বা নির্দেশক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনে ইসির কাজে যাবতীয় সহায়তা দেবে সশস্ত্র বাহিনী।

পরিপত্রে আরো বলা হয়েছে, অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে সশস্ত্র বাহিনীকে ডাকা হলে, তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৭ থেকে ১৩২ ধারা অনুযায়ী কাজ করবে। এক্ষেত্রে অন্য কোনো উপায়ে বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করা না গেলে ঘটনাস্থলে থাকা সর্বোচ্চ পদের ম্যাজিস্ট্রেট সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগ ও গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিতে পারবেন। জরুরি পরিস্থিতিতে যদি কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে কমিশন্ড অফিসার সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগ এবং গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিতে পারবেন। সামরিক শক্তি প্রয়োগের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটকে লিখিত নির্দেশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও, মৌখিক নির্দেশ দেওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব তা লিখিত আকারে দেবেন।

এই পরিপত্রে আরো বলা হয়েছে, উপকূলবর্তী এলাকায় নৌবাহিনী প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে। বিমানবাহিনী প্রয়োজনীয়সংখ্যক হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমান জননিরাপত্তা বিভাগ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও বাহিনীগুলোর অনুরোধে উড্ডয়নে সহায়তা করবে। যে ছয়টি আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে, সেখানে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়ার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা থাকবেন বলেও পরিপত্রে বলা হয়েছে।
বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ যেভাবে দায়িত্ব পালন করবে : পরিপত্রে বলা হয়, বিজিবি ও র‌্যাব নির্বাচনী এলাকায় সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। প্রয়োজনে তারা হেলিকপ্টারও ব্যবহার করতে পারবে। রিটার্নিং কর্মকর্তার চাহিদা অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রের ভেতর অথবা গণনা কক্ষের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া পুলিশ নির্বাচনী এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে।