কারাবন্দিদের অধিকার রক্ষা করবে কে|112383|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
কারাবন্দিদের অধিকার রক্ষা করবে কে
নিজস্ব প্রতিবেদক

কারাবন্দিদের অধিকার রক্ষা করবে কে

ধারণক্ষমতার আড়াই গুণ বন্দি নিয়ে মানবেতর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দেশের কারাগারগুলোতে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে-পরে আকস্মিকভাবে অতিরিক্ত বন্দির সংখ্যা মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় নানা সংকট দেখা দিয়েছে কারাগারে। এমনিতেই সারা বছর অতিরিক্ত বন্দির চাপে থাকে সংশোধনাগার বলে পরিচিত বন্দিশালাগুলো। এখন আড়াই গুণ বন্দির কারণে শোবার জায়গা থেকে শুরু করে বিছানা-বালিশ ও শীতের কম্বলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে সেখানে। ডিসেম্বর মাসের শেষদিকের কনকনে শীতে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেক বন্দি।

কারা কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সারা দেশে কারাবন্দির সংখ্যা ছিল ৯১ হাজার ৪৭৬ জন। অথচ দেশের ১৩টি কেন্দ্রীয় ও ৫৫টি জেলা কারাগারে মোট বন্দি ধারণক্ষমতা ৩৬ হাজার ৭১৪ জন। এই দিনে ঢাকায় চার হাজার ৫৯০ জন ধারণক্ষমতার বিপরীতে বন্দি ছিল ১১ হাজার ৩২৫ জন। আর আগের সপ্তাহে চট্টগ্রাম কারাগারে এক হাজার ৮৫৩ জন ধারণক্ষমতার বিপরীতে বন্দি ছিলেন নয় হাজার ৭৩৩ জন।

নির্বাচনের আগে আকস্মিকভাবে বন্দির সংখ্যা এত বেড়ে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে যে এই অতিরিক্ত বন্দিদের বড় অংশই রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার কি না। তফসিল ঘোষণার আগে ও পরে ক্ষমতার বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে যে, সারা দেশে তাদের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের অভিযোগ, এমন মামলাগুলোতে জামিন না দিয়ে অভিযুক্তদের কারাগারে পাঠিয়েছে দিচ্ছেন আদালত। বিএনপির এক শীর্ষ নেতা দাবি করেছেন, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে তাদের ২১ শর বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং ক্ষেত্রবিশেষে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারাও কাছাকাছি অভিযোগ তুলেছেন।

কিন্তু অতিরিক্ত বন্দি প্রসঙ্গে কারা কর্র্তৃপক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। তারা বলছে, মাদকদ্রব্য উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরুর পর কারাগারে বন্দির সংখ্যা বেড়েছে। কারা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান থাকায় চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, হবিগঞ্জ, সিলেট, সাতক্ষীরা, বগুড়া, জয়পুরহাট, লালমনিরহাট, রাজশাহী, গাজীপুর, গাইবান্ধা, যশোর, চাঁদপুরসহ অনেক জেলার কারাগারে বন্দিসংখ্যা বেড়েছে। সেই তুলনায় ফরিদপুর ও বরিশাল অঞ্চলের কারাগারে সংখ্যা তেমন বাড়েনি।

নির্বাচনী পরিবেশ ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা অভিযান, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে সম্ভাব্য যৌথ অভিযান পরিচালনা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে। কিন্তু তফসিল ঘোষণার পর থেকে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের জন্য নির্বাচনী প্রচারের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কথা নির্বাচন কমিশনের। এমনকি এ সময় থেকে পুলিশ প্রশাসনের ওপরও কমিশনের নিয়ন্ত্রণ থাকার কথা।

যে কোনো পরিস্থিতেই গ্রেপ্তার করা হোক না কেন, সকল কারাবন্দির ন্যূনতম অধিকারগুলো নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এই কনকনে শীতে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র এবং বিছানা-কম্বল ছাড়া মেঝেতে ঘুমানো কিংবা অন্যান্য সংকটে বন্দিদের অসুস্থ হয়ে পড়াটা তার মানবাধিকার বঞ্চিত হওয়ার শামিল বলে গণ্য হতে পারে। অতএব অবিলম্বে দেশের সকল কারাবন্দির এসব অধিকার নিশ্চিত করতে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।