যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ভেঙে পড়ার শঙ্কা|112392|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ভেঙে পড়ার শঙ্কা
রূপান্তর ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ভেঙে পড়ার শঙ্কা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্ব সংকটে পড়েছে বলে মনে করছে সিএনএন। ২০১৬ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান শিবির থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর একের পর এক প্রশাসনিক কর্মকর্তারা পদত্যাগ করছেন। সর্বশেষ পদত্যাগ করলেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস।

একের পর এক কর্মকর্তা পদত্যাগের ঘটনায় এরই মধ্যে শেয়ারবাজারে নিম্নগতি, পররাষ্ট্রনীতিতে দুর্বলতা এবং বাণিজ্যযুদ্ধের মতো ঘটনা প্রত্যক্ষ করছে যুক্তরাষ্ট্র। সিএনএন-এর বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, হোয়াইট হাউস এবং সরকার বিপদের মুখে পড়তে যাচ্ছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতে, শুক্রবার মধ্যরাতের আগে আইনপ্রণেতারা বাজেট পাস করতে না পারলে চলতি বছরে তৃতীয়বারের মতো সরকার শাটডাউনের মুখোমুখি হবে।

গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প স্বল্পকালীন একটি বাজেট প্রস্তাবনা রাখেন সিনেট বরাবর। এই প্রস্তাবে তিনি অভ্যন্তরীণ ব্যয়ের দিকে না তাকিয়ে মেক্সিকোর দক্ষিণ সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের উল্লেখ করেন। এছাড়া গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে এক দশমিক ৬ শতাংশ অবনমন ঘটেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ম্যাটিসের পদত্যাগের ফলে দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে বিরোধ বাড়বে। মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে সুযোগ নেবে রাশিয়া। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুর্বল নেতৃত্বের কারণে বিশ্বে ক্ষমতাকেন্দ্রিক বিশৃঙ্খলতা বাড়বে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে রেক্স টিলারসন এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে এইচ. আর. ম্যাকমাস্টারের পদত্যাগের পরও হোয়াইট হাউসের কা-ারি হিসেবে ছিলেন ম্যাটিস।

ইলিনয়ের রিপাবলিকান নেতা অ্যাডাম কিসিঞ্জার বলেন, ‘আমার গোটা জীবনে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি।’ অন্যদিকে কনজারভেটিভ হাউস জিওপি’র সদস্য ও ট্রাম্পের এক ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘খুব সম্ভবত চাকা বন্ধ হতে যাচ্ছে’।

অবশ্য ডেমোক্রেটিক শিবিরের সিনেটর মার্ক ওয়ারনার ম্যাটিসের পদত্যাগকে ‘ভীতিকর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। রিপাবলিকান সিনেটর মার্কো রুবিও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘ম্যাটিসের পদত্যাগ পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে আমাদের নীতিগত ত্রুটি রয়েছে, যা আমাদের জাতি, মিত্র ও উপদেষ্টাদের বিপদের মধ্যে ফেলবে।’

সিরিয়া থেকে হঠাৎ করেই সেনা প্রত্যাহারে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সঙ্গে ম্যাটিসের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য ছিল। এই পার্থক্যের কারণেই ম্যাটিস পদত্যাগ করেছেন বলে মনে করেছেন বিশ্লেষকরা। সম্প্রতি সিরিয়া ও আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে হোয়াইট হাউসের মুখ্য কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। কিন্তু ম্যাটিস এমন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন বলে মত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী উইলিয়াম কোহেন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট দেশের স্থায়িত্ব এবং নিরাপত্তার সবগুলো স্তম্ভ নাড়িয়ে দিয়েছেন, যা গত ৬০-৭০ বছর ধরে তৈরি করা হয়েছে।’