বান্দরবানে সম্প্রীতির প্রচার|112426|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
বান্দরবানে সম্প্রীতির প্রচার
ফরিদুল আলম, বান্দরবান

বান্দরবানে সম্প্রীতির প্রচার

বান্দরবান শহরের রাজবাড়ী এলাকায় নৌকার প্রার্থী বীর বাহাদুর ও বিএনপির সাচিংপ্রু জেরীর বাড়ি হদেশ রূপান্তর

সারা দেশে যেখানে বিরোধীদলীয় প্রার্থী-সমর্থকরা নির্বাচনী প্রচার চালাতে গিয়ে নানামুখী বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন, সেখানে বান্দরবানের চিত্র পুরোটাই ভিন্ন। জেলায় একটি মাত্র আসনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রচার চালাচ্ছেন নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা। পাশাপাশি বাড়ি ও অস্থায়ী অফিস থাকলেও নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। এর বাইরে ইসলামী আন্দোলনের একজন প্রার্থী থাকলেও তিনি প্রচারের মাঠে নেই।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উশৈসিং। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাচিংপ্রু জেরী। মারমা সম্প্রদায়ের এই দুই প্রার্থীর বাড়িও পাশাপাশি, দূরত্ব মাত্র ৫০ গজ। নির্বাচনী প্রচারে প্রতিবেশী এই দুই প্রার্থীর মধ্যে সম্প্রীতি লক্ষ করা যাচ্ছে। নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত নেতাকর্মীদের সমবেত হওয়ার জন্য আলাদা প্যান্ডেল (অস্থায়ী অফিস) নির্মাণ করা হয়েছে দুই নেতার বাড়ি ঘেঁষেই। জেলা সদরের রাজবাড়ী সংলগ্ন এলাকায় প্রতিদিন শত শত নেতাকর্মীর আসা-যাওয়া। তারপরও এখন পর্যন্ত দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

প্রতিবেশী এই দুই প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যক্রমে এমন সম্প্রীতিতে স্বস্তিতে রয়েছেন জেলাবাসী। নিশ্চিন্তে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও। নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর থেকেই দেখা গেছে, নেতাকর্মীরা দুই প্রার্থীর বাড়ির সামনে প্যান্ডেলে সমবেত হচ্ছেন। দিন ও রাতের বিভিন্ন সময়ে মিছিল বেরুচ্ছে দুই বাড়ি থেকে। মিছিলগুলো শেষও হচ্ছে এখানে এসেই। সংসদ সদস্য হিসেবে বীর বাহাদুরের বাড়ির সামনে স্বাভাবিক পুলিশি পাহারা রয়েছে। কখনো অতিরিক্ত পুলিশ দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য আবুল কালাম মুন্না বলেন, ‘বান্দরবানে এই দুই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক পুরোনো। এখানকার মানুষ ঐতিহ্যগতভাবে শান্তিপ্রিয়। নেতাদের পক্ষ থেকে কখনো কোনো সহিংসতাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয় না।’ একই ধরনের কথা বলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মুজিবুর রশিদও। তিনি বলেন, ‘কারো প্রতি আমাদের হিংসা বা প্রতিহিংসা নেই-এটাই বান্দরবানের ঐতিহ্য। দুই প্রার্থীর পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় আমরা নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি, কেউ যাতে কারো কাজে বিঘœ সৃষ্টি না করে। আশা করি, ভোটের দিন পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বজায় থাকবে।’

বান্দরবান সদর থানার ওসি শহীদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘অতীতে এই দুই প্রার্থীর মধ্যে কোনো বিরোধের ঘটনা ঘটেনি। এবারও সেরকম কোনো আশঙ্কা নেই।’

এই আসন থেকে চারবার প্রার্থী হয়েছেন সাচিংপ্রু জেরী। এর মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অন্যদিকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বীর বাহাদুর।