দুঃখ ঘুচছে হাওরবাসীর|112440|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
দুঃখ ঘুচছে হাওরবাসীর
শোয়েব চৌধুরী, হবিগঞ্জ

দুঃখ ঘুচছে হাওরবাসীর

হবিগঞ্জের অন্যান্য এলাকা থেকে যেখানে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছাতে সময় লাগে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা, সেখানে আজমিরীগঞ্জ থেকে হবিগঞ্জে পৌঁছাতেই একই সময় যায়! শস্য বা অন্যান্য মাল আনার ঝক্কি তো আরো। গুরুতর অসুস্থ কাউকে জেলা সদরে নিতে দুর্ভোগ পৌঁছায় চরমে। শুধু একটা সড়কের অভাবে বহু বছর ধরে এই ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার অধিবাসীদের। অবশেষে বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ সড়কের মাধ্যমে তাদের সেই দুঃখ ঘুচে যাচ্ছে।

বর্ষাকালে নৌপথ ও শুকনো মৌসুমে পায়ে হাঁটাই একসময় ছিল আজমিরীগঞ্জের বাসিন্দাদের যাতায়াতের মাধ্যম। এ কারণে হাওরবেষ্টিত এই অঞ্চলে প্রবাদ দাঁড়িয়ে যায় ‘হেমন্তে পাও, আর বর্ষায় নাও’। কয়েক বছর আগে হেমন্তে ধান কাটার পর ক্ষেতের জমির ওপর দিয়ে স্থানীয় ‘টমটম’ সার্ভিস চালু হয়। এতেও ছিল ভোগান্তি। উঁচু-নিচু ভূমি, কাঁচা রাস্তার কারণে সময় ও শরীরের ওপর ঝক্কি দুটোই লাগত বেশি। বর্তমানে আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক চালু হওয়ায় সময় ও ভোগান্তি দুটোই কমে গেছে। জলসুখা হয়ে ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ আরেকটি সড়কের কাজ শেষ পর্যায়ে।

বর্তমানে আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং সড়কে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হালকা ও ভারী যান চলাচল করছে। হাওর এলাকা ঘুরতে হবিগঞ্জ সদর থেকে অনেক যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে চলে আসছেন। শিবপাশা গ্রামের লুৎফুর মিয়া বলেন, ‘যোগাযোগের সমস্যার কারণে উপজেলার অসুস্থ বহু নর-নারীর পথেই মৃত্যু হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ছিলও চড়া।’ আজমিরীগঞ্জের ব্যবসায়ী মাখন দাশ বলেন, ‘আগে ভৈরব থেকে মালপত্র নৌপথে আনতে হতো। সড়কের কারণে আমরা এখন সরাসরি ঢাকা, চট্টগ্রাম থেকে ট্রাকযোগে মালপত্র আনতে পারছি।’ প্রতিদিন সকালে হবিগঞ্জে গিয়ে ক্লাস করে বিকেলেই ফিরতে পারছেন জানান অনার্সের ছাত্রী শেফালী। স্থানীয় কৃষক লাল মিয়া ও মৎস্যজীবী দিদার আলী বলেন, এতদিন রাস্তার অভাবে আমরা ধান ও মাছের ন্যায্যমূল্য পেতাম না। এখন সেই দুঃখ লাঘব হয়েছে।

হবিগঞ্জ এলজিইডি সূত্র জানায়, ২০০৭ সালে ১৬ কোটি ব্যয়ে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করে। একপর্যায়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এলজিইডির টানাপোড়েন দেখা দেয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আদালতের দ্বারস্থ হলে বন্ধ হয়ে যায় নির্মাণকাজ। মামলার রায় এলজিইডির পক্ষে গেলে ২০১০ সালে ১ম পর্যায়ে বানিয়াচং থেকে শিবপাশা বাজার পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৮ ফুট প্রস্থ সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এতে ব্যয় হয় ১৬ কোটি টাকা। ২০১৩ সালে দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে শিবপাশা বাজার থেকে আজমিরীগঞ্জ পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়কের কাজ শুরু হয়। যা গত বছর শেষ হয়েছে। এই সড়কের সুবিধা পাচ্ছে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের অধিবাসীরা।

হবিগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মো. আবু জাকির সেকান্দর জানান, ওই সড়কের পর আরেকটি সুখবর পেতে যাচ্ছে এলাকাবাসী। আগামী বছরই শেষ হতে যাচ্ছে বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ ভায়া জলসুখা ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক। তিনি বলেন, ‘এর ফলে শুধু আজমিরীগঞ্জ উপজেলাবাসীই নন, পার্শ্ববর্তী সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা, দিরাই উপজেলাবাসীও রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগে সুফল পাবেন।’ সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীন ২০১০ সালের ৭ ডিসেম্বর একনেকে সড়ক নির্মাণের অনুমোদন পায়। ৭৩ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয় ধরে সড়কটি নির্মাণ শেষ করার কথা ছিল ২০১৪ সালের জুন মাসে। কিন্তু সময়মতো অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় দুই দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে নির্মাণ ব্যয় বেড়ে ১১০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ছয়টি ব্রিজ, ১৯টি কালভার্টসহ এরই মধ্যে সড়কের প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।