হাওরে বোরো চাষের ব্যস্ততা|112444|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
হাওরে বোরো চাষের ব্যস্ততা
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

হাওরে বোরো চাষের ব্যস্ততা

হাওরের ৯৫ শতাংশ পানি নেমে যাওয়ায় বোরো ধানি জমিগুলো ভেসে উঠেছে। সময় হয়েছে হাওরের বুকে নতুন ধানের চারা রোপণের। তাই কনকনে শীত উপেক্ষা করে বোরো চাষের মাঠ তৈরি করতে হাওরের কৃষকরা কাদা-পানিতে নেমে পড়েছেন।

হাওরে এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বোরো জমিতেও ভালো ধান উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

অনেকটা আনন্দ-উচ্ছ্বাস নিয়ে বোরো আবাদের জমি প্রস্তুত করছেন। বর্গাচাষি থেকে প্রান্তিক চাষি সবাই এখন বোরো ধানের চারা তৈরির জায়গা প্রস্তুত করার কাজে ব্যস্ত।

যেসব স্থানে একটু-আধটু চর জেগেছে, সেখানেই চাষাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। প্রকৃতির আগ্রাসন আর দারিদ্র্যের কশাঘাতের বিরুদ্ধে ক্ষেতের ফসল আর উন্মুক্ত জলাশয়ের মাছকে ঘিরে তারা জীবন-জীবিকার স্বপ্ন বুনেন। প্রতিবারই ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন লড়াইয়ে হাওরের বুকে নেমে পড়েন এখানকার কৃষক। তাই কাকা ডাকা ভোর থেকে থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাওরের মাঠে তাদের বিচরণ।

জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার গুণধর ইউনিয়নের উরদীঘি গ্রামের কৃষক রতন মিয়া, সুলতান আহম্মদসহ একাধিক কৃষক জানান, তারা গত বছর বাম্পার ফলন ঘরে তোলার আগেই কম দামে ধান বিক্রি করে মহাজনিসহ অন্য ঋণ পরিশোধ করেছেন। তারা ১০-১২ জন মিলে বীজতলা তৈরি করছেন, যাতে চারাগাছের অভাব না হয়। তাদের দেখাদেখি অন্য কৃষকরাও এভাবে চারাগাছ উৎপাদনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় পাওয়ার টিলারসহ অন্য যন্ত্রপাতি আগাম জোগাড় করে রেখেছেন। জেলার নিকলী উপজেলার কুর্শা গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এবার আমনে ভালো ফলন পেয়েছি। গত বছর দুই একর জমি করে ছিলাম। এ বছর ভাবছি চার/পাঁচ একর জমি করব।’ তবে ধানের দাম নিয়ে তারা এবারও চিন্তিত।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ‘এ কথা সত্য যে, গত বছর বাম্পার ফলন গোলায় তুলছেন কৃষক। কিন্তু ন্যায্যমূল্য পাননি। তবে আমনের ফলন ভালো হওয়ায় হাওরের কৃষকরা আগের ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন।’