শাহরুখের জিরো থেকে হিরো হওয়ার গল্প|112503|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৯:৪২
শাহরুখের জিরো থেকে হিরো হওয়ার গল্প
নিজস্ব প্রতিবেদক

শাহরুখের জিরো থেকে হিরো হওয়ার গল্প

‘বাজিগর’ শাহরুখের ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। ছবি: ফেসবুক

বাবা ক্যান্সারে মারা যাওয়ার পর এক প্রকার দিশেহারা হয়ে পড়েন। কাজের জন্য ছুটতে থাকেন মানুষের কাছে। সবাই যখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তখন আবার শুরু করেছেন নতুন উদ্যমে। জিরো থেকে বলিউডের হিরো হওয়ার পথে শাহরুখ হোঁচট খেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু থেমে যাননি।

তাজ মুহম্মদ খান আর লতিফ ফাতিমার পরিবারে ১৯৬৫ সালের ২ নভেম্বর জন্ম হয় শাহরুখের। পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি নানীর সঙ্গে প্রথমে ম্যাঙ্গালোর আর তারপরে বেঙ্গালুরুতে থাকতেন। নানী তার দেখাশোনা করতেন। শাহরুখের নানা ম্যাঙ্গালোর বন্দরের মুখ্য প্রকৌশলী ছিলেন।

একদিন স্কুলে শাহরুখ শিক্ষককে বলেন, “আমি বলিউডের নায়ক হবো।” ক্লাসের সবাই সেদিন অট্টহাসিতে মুখরিত হয়। শাহরুখ তবু ভেঙে পড়েননি। নিজের ইচ্ছাকে বুকে লালন করে এগিয়ে যান লক্ষ্যের দিকে।

শাহরুখের আসল নাম কিন্তু এটি নয়। জন্মের পর তার নাম রাখা হয় আবদুল রেহমান। যা তার নানা রেখেছিলেন। পরে শাহরুখের বাবা তার বোন লালারুখের সঙ্গে মিলিয়ে নাম রাখেন শাহরুখ, যার অর্থ ‘রাজার মতো দেখতে মুখ’।

দিল্লির হংসরাজ কলেজ থেকে অর্থনীতিতে বি এ পাশ করেন শাহরুখ। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়াতে এম এ পড়তে ভর্তি হন। তবে সেটা আর শেষ করা হয়নি তার। থিয়েটারের প্রেমে পড়ে লেখা পড়ার পাঠ ওখানেই চুকিয়ে ফেলেন।

শাহরুখ জীবনের কঠিন সময় দেখেন বাবার মৃত্যুর পর। বোনকে রেখে মাও কয়েক বছর বাদে চলে যান। সংসার চালাতে তরুণ শাহরুখ একটি রেস্টুরেন্টে কাজ শুরু করেন।

চোখে স্বপ্ন নিয়ে বন্ধুদের পরামর্শে শাহরুখ মুম্বাই শহরে পাড়ি দেন। কিন্তু শুরুর দিকে সেখানে থাকার কোনো জায়গা ছিল না তার। ওই সময় বলিউডের অভিনেতা বিবেক ভাসানীর সঙ্গে থাকতেন তিনি। তখন ছবির নির্মাতা এবং প্রযোজকদের সঙ্গে শাহরুখের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দিতেন বিবেক।

সেই দিনগুলোতে উপার্জনের জন্য সব ধরনের কাজ করতে থাকেন শাহরুখ। কঠোর পরিশ্রম করতে তার জুড়ি মেলা ভার। শাহরুখ প্রায়ই বলেন, “ঘুমানো মানে জীবন নষ্ট করা!”

শাহরুখ কাজ করছিলেন ঠিকই, কিন্তু ভালো আয় করতে পারছিলেন না। এর ভেতর আবার থিয়েটারে যাতায়াত শুরু করেন। টুকটাক মঞ্চ নাটকে কাজ শুরু করেন। সেখান থেকে ‘দিল দরিয়া’ নামের একটি টিভি শোতে কাজ পান। তারপর ‘দিওয়ানা’ ছবিতে কাজ পেয়ে ধীরে ধীরে বলিউডে নিয়মিত হতে থাকেন।

মায়ের মৃত্যুর এক বছর পর ১৯৯১ সালে দীর্ঘদিনের প্রেমিকা গৌরীকে বিয়ে করেন শাহরুখ। স্ত্রীকে নিয়েও অনেক সংগ্রাম করেছেন।

নিজের সফলতার গল্প শোনাতে গিয়ে যুক্তরাজ্যের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শাহরুখ একবার বলেন, “আমি এক সময় টাকার পেছনে ছুটেছি। যা পেয়েছি তাই করেছি। আমার ক্যারিয়ারের প্রথম দিককার একটি চলচ্চিত্রের নাম দিওয়ানা। (হিন্দিতে দিওয়ানা শব্দটা প্রেম-সংক্রান্ত কিংবা ভালো কিছুর নেশায় ‘পাগলামি’ অর্থে ব্যবহার করা হয়।) এই চলচ্চিত্র থেকে আমি যা শিখেছি, জীবনে সুখী ও সফল হওয়ার পূর্বশর্ত হলো ‘পাগল’ হওয়া। ভেব না জীবনের ছোট ছোট খ্যাপাটে ভাবনাগুলো তোমার জন্য এতটাই ক্ষতিকর যে সারা জীবন এসব চিন্তাকে চেপে রাখতে হবে। পাগলামিগুলোকে স্বীকার করে নাও, আর সেটাকেই নিজের জীবন গড়তে কাজে লাগাও।”

শাহরুখের ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট ‘বাজিগর’ ছবি। এই ছবি তাকে সুপারস্টারের তকমা এনে দেয়। মূলত ‘বাজিগর’ ছবিতে অভিনয়ের পরই বলিউডের প্রথম সারির তারকায় পরিণত হন শাহরুখ।

এই ছবিতে তার ‘রোল’ পাওয়ার পেছনে আছে আরেক কাহিনী। শুরুতে ছবিটির নাম ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য সালমানকে প্রস্তাব দেন ছবির পরিচালক জুটি আব্বাস-মাস্তান। কিন্তু নেতিবাচক চরিত্র হওয়ায় প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দেন সালমান। ফিরিয়ে দেওয়া চরিত্র শাহরুখ সেই যে ধরলেন, আর পেছনে ফিরে তাকাননি।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি।