নির্বাচন বলতেই নৌকা, ভয়ে নামছে না বিএনপি|112527|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
নির্বাচন বলতেই নৌকা, ভয়ে নামছে না বিএনপি
মামুন আব্দুল্লাহ

নির্বাচন বলতেই নৌকা, ভয়ে নামছে না বিএনপি

ঢাকা-১৬ আসনে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে চলছে নির্বাচনী প্রচার। তবে নৌকার প্রার্থী ছাড়া অন্য কোনো দলের প্রার্থীর গণসংযোগ চোখে পড়েনি। পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন সব কিছুতেই নৌকা প্রতীকের আধিপত্য। এলাকাবাসী বলছেন, এই আসনে টানা দুবার সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ্। নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন, প্রচারে-পোস্টারে তার আধিপত্য স্বাভাবিক।

গতকাল শনিবার সকালে সরেজমিনে মিরপুরের কালশী এলাকার সাংবাদিক আবাসিক এলাকায় দেখা যায়, রাস্তার দুই ধারে নৌকার প্রার্থী ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর পোস্টার-ব্যানার। অন্য কারো পোস্টার বা প্রচারের লেশ পর্যন্ত নেই। জানতে চাইলে এই এলাকার বাসিন্দা নান্নু পাটোয়ারী বলেন, ‘এখানে ভোটের প্রচার বলতে শুধুই নৌকা। অন্য কোনো প্রার্থীকে দাঁড়াতেই দেওয়া হয় না। পোস্টারিংটা করবে কে, জীবনের মায়া আছে না? কেউ ভোট চাইতে আসতে পারে না। আসলেই দৌড়ানি দেয়। সব জায়গায় তাদের লোক আছে।’

এবার এই আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিভিন্ন দলের ও জোটের ছয়জন প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীকে ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, বংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে আহসান উল্লাহ হাসান, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও কোদাল প্রতীকে নাঈমা খালেদ মনিকা নির্বাচন করছেন। এ ছাড়া আলী আহমেদ করছেন জাকের পার্টির গোলাপ ফুল প্রতীকে, ছিদ্দিকুর রহমান করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীক নিয়ে এবং ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির (এনপিপি) আম প্রতীক নিয়ে ফরিদ উদ্দিন শেখ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে জাতীয় নির্বাচনে সাধারণত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদেরই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়ে আসছে।

মিরপুরে বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে বস্তি তথা নি¤œ আয়ের মানুষ। এ জন্য ভোটে সব সময়ই তারা বড় ভূমিকা রাখে। এ অঞ্চলে বস্তিতে অগ্নিকা-, মাদকের বিস্তৃতিসহ নানা কারণে প্রভাবশালীদের ওপর অনেকটা রুষ্ট নি¤œ আয়ের মানুষ।

গতকাল কথা হয় রূপনগর আবাসিক এলাকার বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী আহসান খান রুবেলের সঙ্গে। তিনি জানান, মিরপুরে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মাদক। আর দলীয় পরিচয়ধারী কিছু লোক এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের প্রভাবের কারণেই নির্বাচনী প্রচারে অন্যরা নামতে পারে না। তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলে প্রথম প্রথম দু-একদিন বিএনপি প্রচার চালাতে চেয়েছিল। কিন্তু বাধার মুখে পড়ে আর পারেনি।’  তবে উল্টো কথা বললেন ডিস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হাসান নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, বিএনপির কোনো লোকবলই নাই। নইলে যতই বাধা আসুক একজন লোককেও কি দেখতে পাওয়া যাবে না। এটা কী করে হয়। আসলে রাজনীতি করতে হলে একটু কষ্ট করতে হয়। কিন্তু তাদের সে রকম ডেডিকেটেড কর্মীই নাই।’

অবশ্য বিএনপির সমর্থকরা এ কথা মানতে নারাজ। তারা বলছেন, ভেতরে ভেতরে বিএনপি অনেক শক্তিশালী। বিরাট জনসমর্থনও রয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর ভোট দিতে পারলে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত।

ঢাকা-১৬ আসনে ১৯৯১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনবার আওয়ামী লীগ, দুবার বিএনপি জিতেছিল। আসনটিতে দল দুটির পাল্টাপাল্টি জেতার ধারা উল্টে যায় বহুল আলোচিত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে, যাতে বিএনপি অংশ নেয়নি। এরপর টানা দুবার সংসদ সদস্য হয়ে নিজের প্রভাব আরো পাকাপোক্ত করেছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লাহ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির প্রার্থী আহসান উল্লাহ হাসানের স্ত্রী রায়হানা আক্তার রীনা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএনপির পক্ষে গণজোয়ার রয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের সন্ত্রাসী আচরণের কারণে আমরা নির্বাচনী প্রচারণায় নামতেই পারিনি। তারা আমাদের পোস্টারিং করতে দেয় না, কোনো প্রকার প্রচার-প্রচারণাতেও নামতে দেয় না।’

এক প্রশ্নের জবাবে রীনা বলেন, ‘দুদিন আগে আমাদের এক ছেলেকে পিটিয়ে পা ভেঙে দিয়েছে। অপরাধ ছিল পোস্টারিং করতে গিয়েছিল। একই সঙ্গে আমাদের কোনো নির্বাচনী ক্যাম্প করতে দেয় না। প্রচারে আমরা সশরীরে নামলেও হামলা করে, বাধা দেয়, হুমকি দেয়। এক রকম সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। আমরা লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানিয়েছি।’

তবে বিষয়টি মানতে নারাজ আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ। তিনি দেশ রূপারন্তকে বলেন, ‘সব কিছু আন্ডার কন্ট্রোলে রয়েছে। কোনো সন্ত্রাস নেই, পেট্রলবোমা নেই, জ¦ালাও-পোড়াও নেই। এভাবে চলতে থাকলে ৩০ তারিখে একটি রক্তপাতহীন নির্বাচন উপহার দিতে পারব।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ‘কেউ কোনো বাধা দিচ্ছে না। উল্টো আমার একটি নির্বাচনী কেন্দ্রে আগুন দিয়েছে। এ নিয়ে রিপোর্টও হয়েছে পত্রপত্রিকায়। আর বস্তিতে আগুন লাগা ও মাদকের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আগুন লাগলেই মানুষ আমার নাম কেন বলে জানি না। সব ষড়যন্ত্র।’

রাজধানী ঢাকার উত্তরের সীমান্তবর্তী মিরপুরের পল্লবী ও রূপনগর থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৬ আসন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২, ৩, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড এই আসনের অন্তর্ভুক্ত। ভোটার সংখ্যা প্রায় তিন লাখ ৬৩ হাজার। একসময় বৃহত্তর মিরপুরের এই আসনটি ছিল ঢাকা ১১-তে। তা ভেঙে তিনটি আসন করা হয়।